টিআইবির প্রতিবেদন

সংরক্ষিত নারী আসনের দুই-তৃতীয়াংশ উচ্চশিক্ষিত ও কোটিপতি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ১৪
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। স্ট্রিম গ্রাফিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই উচ্চশিক্ষিত ও কোটিপতি বলে জানিয়েছে টিআইবি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মনোনীত ৪৯ প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি এবং ৬৩ শতাংশের বেশি প্রার্থী স্নাতকোত্তর বা তার ওপরের ডিগ্রিধারী।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীরা শিক্ষাগত যোগ্যতায় সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তুলনায় এগিয়ে আছেন। সংরক্ষিত আসনে স্নাতকোত্তর ও তদূর্ধ্ব ডিগ্রিধারী প্রার্থীর হার ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হার ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রার্থীদের মধ্যে স্নাতক ২৭ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ১ শতাংশ উচ্চমাধ্যমিক পাস। স্বশিক্ষিত ও মাধ্যমিক পাস প্রার্থীর হার যথাক্রমে ৪ দশমিক ১ ও ২ দশমিক ১ শতাংশ।

সম্পদের দিক থেকে দেখা গেছে, ৪৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনই (৬৫ দশমিক ৩১ শতাংশ) স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হিসাবে কোটিপতি। এদের মধ্যে আলাদাভাবে অস্থাবর সম্পত্তির ভিত্তিতে কোটিপতি ২৫ জন এবং স্থাবর সম্পত্তির ভিত্তিতে ১৪ জন।

দলীয় ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জন (৭২ দশমিক ২২ শতাংশ) এবং জামায়াতে ইসলামীর ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন (৫৬ শতাংশ) কোটিপতি। এছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একমাত্র প্রার্থীও কোটিপতি। প্রার্থীদের গড় বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকার ওপরে এমন হার ৩৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নারী প্রার্থীদের পেশার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি (২৬ দশমিক ৫ শতাংশ), যা সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পেশা হিসেবে রয়েছে ব্যবসা (২২ দশমিক ৫ শতাংশ)। এছাড়া গৃহিণী ১২ দশমিক ২ শতাংশ, শিক্ষক ১০ দশমিক ২ শতাংশ এবং সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

টিআইবি জানায়, কোটিপতি প্রার্থীদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ১৫২ কোটি টাকা। অন্তত তিনজন প্রার্থীর নিজ বা স্বামীর নামে ১০০ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার রয়েছে, যার মধ্যে একজনের নিজের নামেই ৫০২ ভরি স্বর্ণের তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রার্থীদের ঋণের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে ঋণগ্রস্ত। তবে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তুলনায় সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের ঋণগ্রস্ততার পরিমাণ অনেক কম।

বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রার্থীদের গড় বয়স ৫২ দশমিক ১৭ বছর, যেখানে ৪৫-৫৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ।

টিআইবি জানিয়েছে, অধিকাংশ নারী প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ তাদের স্বামীদের তুলনায় বেশি, যা বাংলাদেশের বর্তমান জনমিতি ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব বহন করে। সংস্থাটি মনে করে, উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ ইতিবাচক হলেও সাধারণ আসনের মতো এখানেও সম্পদের প্রভাব এবং নির্দিষ্ট কিছু পেশার আধিপত্য প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পর্কিত