গুলশানে বইপ্রেমীদের ঠিকানা ‘ফ্লোর’, ক্রাউন প্লাজা ঢাকার নতুন উদ্যোগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৫৭
‘ফ্লোর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। স্ট্রিম ছবি

বই, ভাবনা ও পাঠের আনন্দকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে আসতে রাজধানীর গুলশানের ক্রাউন প্লাজার দ্য ডেলি–লবি ক্যাফেতে চালু হয়েছে ‘ফ্লোর’ (এফএলওআর—ফর লাভ অব রিডিং)। বই পড়ার জন্য তৈরি এই নতুন পরিসরের উদ্বোধনের পাশাপাশি ক্যাফেতে নতুন খাবারের মেনুও উন্মোচন করা হয়েছে। ফলে একই ছাদের নিচে সাহিত্য, পাঠ, সংস্কৃতি, খাবার ও আড্ডার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে ‘ফ্লোর’-এর উদ্বোধন হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক কবি সাজ্জাদ শরিফ। আরও উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কবি ও গল্পকার সুমন সাজ্জাদ।

দেশের লেখক, প্রকাশক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাহিত্য ও আতিথেয়তা খাতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনেরেল ম্যানেজার কার্থি ভিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উন্মোচন করেন।

পাঠক ও জ্ঞানপিপাসু মানুষের জন্য তৈরি ফ্লোর-এর মূল উদ্দেশ্য ব্যস্ত জীবনের গতি থেকে কিছুটা সরে এসে মানুষকে আবার বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনা। ফ্লোর-এর ধারণাটিও সহজ। দ্য ডেলিতে বসে অতিথিরা এক কাপ কফি নিয়ে পছন্দের একটি বই হাতে তুলে নিয়ে পড়তে পারবেন। পড়া শেষ হলে বইটি যথাস্থানে রেখে দেওয়া যাবে। চাইলে ‘একটি নিন, একটি রেখে যান’ পদ্ধতিতে নিজেদের বইও বিনিময় করতে পারবেন। বই পড়াকে আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন অবসর, কফি কিংবা খাবারের সময়ের সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্থি ভিকে বলেন, ডিজিটাল পর্দার দখলে থাকা জীবনে ‘ফ্লোর’ মানুষকে বই হাতে নিয়ে পড়ার আনন্দ উপভোগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, এটি এমন একটি জায়গা হয়ে উঠুক, যেখানে মানুষ কিছুটা সময় কাটাবে, নতুন ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হবে এবং বই, মানুষের সঙ্গে কথোপকথন কিংবা নিজের সঙ্গে একটি সংযোগ তৈরি করবে।’

অনুষ্ঠানে বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা ও বাংলাদেশে পাঠাভ্যাসের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ।

সাজ্জাদ শরিফ বলেন, বিশ্বে বই পড়ার হারে বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় তলানিতে। বাংলাদেশে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমের আধিপত্যকে দায়ী করার প্রচলিত ধারণারও সমালোচনা করেন তিনি।

সাজ্জাদ শরিফ জানান, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বই পড়া দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভারত ও মিসরের মতো দেশ রয়েছে। এসব দেশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। অথচ সেখানে প্রযুক্তি বই পড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ৩৫ বছরের কম বয়সী তরুণদের মধ্যেও এসব দেশে বই পড়ার আগ্রহ বেশি। তারা কাগজের বইয়ের পাশাপাশি ই-বুকও পড়ছেন। কারণ, জীবনে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে যেতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই—সেসব দেশের তরুণেরা বিষয়টি উপলব্ধি করেই বইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকছেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত