বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

কালবৈশাখী ঝড়। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য অব্যাহত থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশজুড়ে কালবৈশাখী, ভারী বৃষ্টি এবং অতিবর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সতর্কবার্তায় সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এনডিআরসিসি) থেকে দেশের সার্বিক আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়ার সই করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

দেশজুড়ে কালবৈশাখী ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

এনডিআরসিসির তথ্যবিবরণী বলছে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিন দেশজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ এপ্রিল থেকে সকাল ১১টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের সব কটি বিভাগেই ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৪৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে।

টানা ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রবল বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসেরও তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে বিরাজমান লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবেই আবহাওয়ার এই বৈরী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সম্পর্কিত