ডুবেছে হাওরের ২ হাজার হেক্টর জমির ধান, বিপাকে কৃষক

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জ

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ২৫
ডুবে যাওয়া ধান কাটতে ব্যস্ত এক কৃষক

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানিতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। আর বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকায় আরও বিস্তীর্ণ এলাকা ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

গেল সপ্তাহেও কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আবদুল্লাপুর হাওরজুড়ে ছিল সোনালি ধানের ঝিলিক। পুরো হাওরের পাকা ধান ডুবে সেখানে এখন থৈ থৈ পানি। চলমান টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে খোয়াই নদীর পানি উপচে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ বোরো ধানের জমি। একই দৃশ্য এখন জেলার ইটনা, মিঠামইন, নিকলি, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, বাজিতপুর ও সদর উপজেলার হাওর অধ্যুষিত এলাকাজুড়ে।

আজও থামেনি বৃষ্টি, টানা বর্ষণে হাওরের অন্যান্য এলাকায়ও ধান কাটা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে বাড়তি মজুরি দিলেও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক। এতে করে ক্ষেতে থেকেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় পাকা ধান। যেসব ধান কেটে মাড়াই করে রোদে শুকানোর আশায় রেখেছিল কৃষকেরা, সেসব ধানও এখন ভিজে নষ্ট হওয়ার পথে।

পানিতে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে ধান
পানিতে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে ধান

কিশোরগঞ্জের নিকলী প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তাদের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আরও চারদিন আবহাওয়া বৈরী থাকতে পারে।

বৃষ্টি শুরুর আগে, উজানের ঢল নামলে জলাবদ্ধ কিছু জমি থেকে ধান কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন কৃষকেরা। তবে, এর জন্য গুণতে হয়েছে বাড়তি খরচ। এসব ধান ঘরে তুললেও উৎপাদন খরচ বেড়ে হয়েছে কয়েকগুণ। এখন কষ্টে ফলানো ফসল ডুবে যাওয়ায় দিশেহারা কৃষক।

অষ্টগ্রামের আবদুল্লাহপুর উপজেলার কৃষক আবদুল খালেক বলেন, ‘২ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলাম। ধান পাকা রং ধরেছিল। হয়তো আর আট থেকে ১০ দিন পর কেটে ফেলতাম। কিন্তু এখন পুরো ফসল পানির নীচে। আমার সব শেষ।‘

কলিমপুর হাওরের কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। এখনতো চোখের সামনে পানিতে ডুবছে। প্রতি ঘণ্টায় পানি বাড়ছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন সারা বছর না খেয়ে কাটাতে হবে। এছাড়া কি খাবো, বলেন? মহাজনের টাকা কোথা থেকে দিবো, বলেন?’

পানির নিচের ধান কেটে নৌকায় করে নিয়ে আসছেন কৃষক
পানির নিচের ধান কেটে নৌকায় করে নিয়ে আসছেন কৃষক

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমানর। তিনি বলেন, ‘জেলার হাওর অধ্যুষিত আটটি উপজেলায় পাকা ধানের প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। প্রতিটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা এবং ক্ষতিগ্রস্থ জমির পরিমাণ নির্ণয় করছেন। সব একসঙ্গে করে ঢাকায় পাঠানো হবে। কৃষক যাতে প্রণোদনা পান, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলার হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ ধান কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষকেরা।

সম্পর্কিত