হানিফ রাশেদীন

নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ‘ডাইনেস্টির’ উদাহরণ। এই পরিবারের উত্থান ও বিস্তার দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
ডাইনেস্টি অর্থ হলো একই পরিবার বা বংশের ধারাবাহিক শাসন, প্রভাব বা ক্ষমতা ধরে রাখা। ঐতিহাসিকভাবে, রাজা-বাদশাহদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ব্যবহৃত হতো। যেমন এক রাজা মারা গেলে তার ছেলে, তারপর নাতি—এভাবে একই পরিবার বহু বছর ক্ষমতায় থাকলে তাকে ডাইনেস্টি বলা হয়।
রাজনীতিতে যখন একটি পরিবারের একাধিক সদস্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ, ক্ষমতা বা নেতৃত্ব ধরে রাখে, তখন তাকে রাজনৈতিক ডাইনেস্টি বলা হয়।
ডাইনেস্টির সঙ্গে ওসমান পরিবারের সম্পর্ক কী? এ বিষয়ে ২০১৮ সালে সেজ জার্নালে ‘দ্য ওসমান ডাইনেস্টি: দ্য মেকিং অ্যান্ড আনমেকিং অব আ পলিটিক্যাল ফ্যামিলি’ শিরোনামে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন ইউনিভার্সিটি অব অসলোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক ও অধ্যাপক আরিল্ড এঙ্গেলসেন রুড।
রুড লিখেছেন, ওসমান ডাইনেস্টি বুঝতে হলে পরিবারটির উত্থানের দিকে নজর দিতে হবে। ওসমান পরিবারের সূচনা ঘটে খান সাহেব ওসমান আলীর হাত ধরে। ব্রিটিশ আমলে তিনি মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে জুট ব্যবসা গড়ে তুলে একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা এবং সমাজসেবক হিসেবেও পরিচিতি পান।
খান সাহেব ওসমান আলীর এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করে দেয়। তাঁর ছেলে এ কে এম শামসুজ্জোহা পাকিস্তান আমল ও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের (২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা-উত্তর সময়েও তিনি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখেন।
তবে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সামরিক শাসনের সময় ওসমান পরিবারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছিল। জোহা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁদের ব্যাবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এরপর আশির দশকে এ কে এম শামসুজ্জোহার তিন ছেলে নাসিম, সেলিম ও শামীম নতুনভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেন। তাঁরা রাজনীতি, ব্যবসা ও স্থানীয় শক্তির এক সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলেন।
নাসিম ওসমান এরশাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংসদ সদস্য হন, যা পরিবারটিকে আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি নিয়ে আসে। অন্যদিকে সেলিম ওসমান গার্মেন্টস শিল্পে বিনিয়োগ করে দ্রুত অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করেন। শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন, জনবল ও প্রভাব গড়ে তোলেন।
গবেষক রুডের মতে, তৃতীয় প্রজন্মের তিন ভাইয়ের গড়ে তোলা সাম্রাজ্য রাজনীতি, ব্যবসা এবং স্থানীয় শক্তিকে একসঙ্গে ব্যবহারের সুসংগঠিত কৌশলের ফল। একজন জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংযোগ তৈরি করেছেন, একজন অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তোলেন, আরেকজন মাঠপর্যায়ে সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করেন;—এই ত্রিমুখী কাঠামো তাঁদেরকে নারায়ণগঞ্জে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলে। এর ফলে তাঁরা শুধু নির্বাচনে জয়লাভই করেননি; প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, স্থানীয় অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলার ওপরও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। ধীরে ধীরে এমন অবস্থানে পৌঁছান; যেখানে তাঁদের প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সমান্তরালে কাজ করে।
তিন ভাইয়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ক্ষমতার কাঠামো ‘বহুমাত্রিক’ ছিল বলেও রুড তাঁর গবেষণায় উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, একদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা রক্ষা করা ছিল ওসমান পরিবারের তিন ভাইয়ের মূলমন্ত্র। এই মূলমন্ত্রের জেরে তাঁদের প্রভাব একসময় প্রশাসন, পুলিশ, শ্রমিক সংগঠন ও শিল্পখাত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাঁরা স্থানীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। শামীম ওসমান ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিতি পান; যা তাঁর প্রভাবের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখল ও সহিংসতার অভিযোগের সঙ্গেও যুক্ত।

তবে এই অবস্থান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা বিতর্ক ও ঘটনার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের আলোচিত ‘সাত খুন’ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই ঘটনায় সিটি করপোরেশনের এক প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং এক আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এতে করে ‘অপ্রতিরোধ্য’ ওসমান পরিবারের স্থানীয় ক্ষমতা কাঠামোর ভেতরের সহিংসতা ও দুর্নীতি সামনে চলে আসে। ঘটনার তদন্তে উঠে আসে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নূর হোসেনের সম্পৃক্ততা এবং র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম।
একইভাবে তানভীর মুহাম্মদ তকি হত্যার ঘটনাও ওসমান পরিবারের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই হত্যাকাণ্ডে ওসমান পরিবারের এক সদস্যের নাম জড়িয়ে পড়ায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে যে পরিবারটি স্থানীয়ভাবে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী, তাঁদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠতে শুরু করে। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জে বিকল্প রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিশেষ করে সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর উত্থান; এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করে। আইভী প্রকাশ্যে ওসমান পরিবারের সমালোচনা করেন এবং রাজনৈতিকভাবে তাদের চ্যালেঞ্জ জানান। এটি অবশ্যম্ভাবীভাবেই স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের উত্থান যেমন সুসংগঠিত কৌশল, ঐতিহাসিক ভিত্তি ও বহুমুখী ক্ষমতার ব্যবহারের প্রতিফলন; তেমনি তাঁদের প্রভাবকে ঘিরে বিতর্ক, সহিংসতার অভিযোগ এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এক সময় প্রায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারকারী এই ডাইনেস্টি এখন আর আগের মতো অপ্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং জনমত, প্রতিদ্বন্দ্বী নেতৃত্ব এবং জবাবদিহিতার দাবির মুখে তাঁদের অবস্থান নতুনভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে। ফলে ওসমান পরিবারের গল্পটি কেবল একটি পরিবারের ক্ষমতার উত্থানের ইতিহাস নয়। এটি দেশের স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতা, প্রভাব এবং প্রতিরোধের জটিল সম্পর্কেরও প্রতিচ্ছবি।

নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ‘ডাইনেস্টির’ উদাহরণ। এই পরিবারের উত্থান ও বিস্তার দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
ডাইনেস্টি অর্থ হলো একই পরিবার বা বংশের ধারাবাহিক শাসন, প্রভাব বা ক্ষমতা ধরে রাখা। ঐতিহাসিকভাবে, রাজা-বাদশাহদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ব্যবহৃত হতো। যেমন এক রাজা মারা গেলে তার ছেলে, তারপর নাতি—এভাবে একই পরিবার বহু বছর ক্ষমতায় থাকলে তাকে ডাইনেস্টি বলা হয়।
রাজনীতিতে যখন একটি পরিবারের একাধিক সদস্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ, ক্ষমতা বা নেতৃত্ব ধরে রাখে, তখন তাকে রাজনৈতিক ডাইনেস্টি বলা হয়।
ডাইনেস্টির সঙ্গে ওসমান পরিবারের সম্পর্ক কী? এ বিষয়ে ২০১৮ সালে সেজ জার্নালে ‘দ্য ওসমান ডাইনেস্টি: দ্য মেকিং অ্যান্ড আনমেকিং অব আ পলিটিক্যাল ফ্যামিলি’ শিরোনামে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন ইউনিভার্সিটি অব অসলোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক ও অধ্যাপক আরিল্ড এঙ্গেলসেন রুড।
রুড লিখেছেন, ওসমান ডাইনেস্টি বুঝতে হলে পরিবারটির উত্থানের দিকে নজর দিতে হবে। ওসমান পরিবারের সূচনা ঘটে খান সাহেব ওসমান আলীর হাত ধরে। ব্রিটিশ আমলে তিনি মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে জুট ব্যবসা গড়ে তুলে একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা এবং সমাজসেবক হিসেবেও পরিচিতি পান।
খান সাহেব ওসমান আলীর এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করে দেয়। তাঁর ছেলে এ কে এম শামসুজ্জোহা পাকিস্তান আমল ও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের (২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা-উত্তর সময়েও তিনি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখেন।
তবে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সামরিক শাসনের সময় ওসমান পরিবারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছিল। জোহা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁদের ব্যাবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এরপর আশির দশকে এ কে এম শামসুজ্জোহার তিন ছেলে নাসিম, সেলিম ও শামীম নতুনভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেন। তাঁরা রাজনীতি, ব্যবসা ও স্থানীয় শক্তির এক সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলেন।
নাসিম ওসমান এরশাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংসদ সদস্য হন, যা পরিবারটিকে আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি নিয়ে আসে। অন্যদিকে সেলিম ওসমান গার্মেন্টস শিল্পে বিনিয়োগ করে দ্রুত অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করেন। শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন, জনবল ও প্রভাব গড়ে তোলেন।
গবেষক রুডের মতে, তৃতীয় প্রজন্মের তিন ভাইয়ের গড়ে তোলা সাম্রাজ্য রাজনীতি, ব্যবসা এবং স্থানীয় শক্তিকে একসঙ্গে ব্যবহারের সুসংগঠিত কৌশলের ফল। একজন জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংযোগ তৈরি করেছেন, একজন অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তোলেন, আরেকজন মাঠপর্যায়ে সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করেন;—এই ত্রিমুখী কাঠামো তাঁদেরকে নারায়ণগঞ্জে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলে। এর ফলে তাঁরা শুধু নির্বাচনে জয়লাভই করেননি; প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, স্থানীয় অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলার ওপরও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। ধীরে ধীরে এমন অবস্থানে পৌঁছান; যেখানে তাঁদের প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সমান্তরালে কাজ করে।
তিন ভাইয়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ক্ষমতার কাঠামো ‘বহুমাত্রিক’ ছিল বলেও রুড তাঁর গবেষণায় উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, একদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা রক্ষা করা ছিল ওসমান পরিবারের তিন ভাইয়ের মূলমন্ত্র। এই মূলমন্ত্রের জেরে তাঁদের প্রভাব একসময় প্রশাসন, পুলিশ, শ্রমিক সংগঠন ও শিল্পখাত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাঁরা স্থানীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। শামীম ওসমান ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিতি পান; যা তাঁর প্রভাবের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখল ও সহিংসতার অভিযোগের সঙ্গেও যুক্ত।

তবে এই অবস্থান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা বিতর্ক ও ঘটনার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের আলোচিত ‘সাত খুন’ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই ঘটনায় সিটি করপোরেশনের এক প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং এক আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এতে করে ‘অপ্রতিরোধ্য’ ওসমান পরিবারের স্থানীয় ক্ষমতা কাঠামোর ভেতরের সহিংসতা ও দুর্নীতি সামনে চলে আসে। ঘটনার তদন্তে উঠে আসে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নূর হোসেনের সম্পৃক্ততা এবং র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম।
একইভাবে তানভীর মুহাম্মদ তকি হত্যার ঘটনাও ওসমান পরিবারের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই হত্যাকাণ্ডে ওসমান পরিবারের এক সদস্যের নাম জড়িয়ে পড়ায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে যে পরিবারটি স্থানীয়ভাবে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী, তাঁদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠতে শুরু করে। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জে বিকল্প রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিশেষ করে সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর উত্থান; এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করে। আইভী প্রকাশ্যে ওসমান পরিবারের সমালোচনা করেন এবং রাজনৈতিকভাবে তাদের চ্যালেঞ্জ জানান। এটি অবশ্যম্ভাবীভাবেই স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের উত্থান যেমন সুসংগঠিত কৌশল, ঐতিহাসিক ভিত্তি ও বহুমুখী ক্ষমতার ব্যবহারের প্রতিফলন; তেমনি তাঁদের প্রভাবকে ঘিরে বিতর্ক, সহিংসতার অভিযোগ এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এক সময় প্রায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারকারী এই ডাইনেস্টি এখন আর আগের মতো অপ্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং জনমত, প্রতিদ্বন্দ্বী নেতৃত্ব এবং জবাবদিহিতার দাবির মুখে তাঁদের অবস্থান নতুনভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে। ফলে ওসমান পরিবারের গল্পটি কেবল একটি পরিবারের ক্ষমতার উত্থানের ইতিহাস নয়। এটি দেশের স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতা, প্রভাব এবং প্রতিরোধের জটিল সম্পর্কেরও প্রতিচ্ছবি।

এটি শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের বক্তব্য। সম্প্রতি তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে নকল প্রতিরোধ নিয়ে কথা বলার সময় মন্তব্যটি করেছিলেন। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক ‘ট্রল’। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা তো বটেই, নানা বয়সী মানুষ দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের আদল
১৮ ঘণ্টা আগে
‘রবলক্স’ এই প্রজন্মের শিশুদের কাছে কেবল একটি গেম নয়, বরং এক বিশাল ডিজিটাল বিচরণক্ষেত্র যা সৃজনশীলতার আবরণে ঢাকা। তবে এর জনপ্রিয়তার আড়ালে দানা বেঁধেছে নানাবিধ সাইবার ঝুঁকি। এই গেম আমাদের অতীতের ‘ব্লু হোয়েল’ বা ‘মোমো চ্যালেঞ্জ’-এর মতো আত্মঘাতী ও ভয়ংকর গেমগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। বিশেষ করে জেনার
১ দিন আগে
সম্প্রতি প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এবং আন্তঃজেলা রুটে বাসযাত্রীদের জন্য নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
১ দিন আগে
যেখানে কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়া অনিশ্চিত, সেখানে ট্রাম্প কি অতীতের প্রেসিডেন্টদের মতো কোনো আইনি ফাঁকফোকর খুঁজবেন? নাকি সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করেই এই যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন তিনি?
৩ দিন আগে