নাগরিক সেবা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তারাই মূল চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেছেন, সরকারি সেবায় নাগরিকদের প্রবেশাধিকার সহজ করা ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোই সরকারের লক্ষ্য।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) কুমিল্লা ও চাঁদপুরে পৃথক দুটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক এই কর্মশালাগুলোর আয়োজন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সেবাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং এক ছাদের নিচে সমন্বিতভাবে দেওয়া হবে। এটি সেবার মান ও দক্ষতা দুটিই বাড়াবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো সরকারের সেবাদানের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিফলন হবে। উদ্যোক্তারা সেখানে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কৌশলগত ভূমিকা পালন করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, সেবাগ্রহীতার আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জনই সফলতার মূল মানদণ্ড।
ব্যক্তিগত উপাত্ত বা ডেটা সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নাগরিকরা যখন সহজ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, তখন রাষ্ট্রের প্রতি তাঁদের আস্থা বাড়ে। নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও সরকার—সব পক্ষকেই তথ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকতে হবে।
সকালে কুমিল্লার সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান। এতে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশ নেন।
পরে চাঁদপুরের উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার। কর্মশালায় চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশ নেন।
উভয় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দীন এবং এটুআই-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম। জেলা প্রশাসন ও এটুআই-এর সহযোগিতায় এসব কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।