এম. হুমায়ুন কবীর

ইরানকে তার পারমাণবিক প্রকল্প বন্ধে চুক্তিতে বাধ্য করার চাপ প্রয়োগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে দেশটির বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা করেছে। চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ফাঁদে পড়বে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে এবং তেলের দাম বেড়ে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অর্থনীতি যে বড় ধরনের সংকটে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
চলমান এই পরিস্থিতিকে একাধিক দৃষ্টিকোণে ব্যাখ্যা করা যায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং এর রীতিনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এই হামলা সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে একটি ‘প্রি-এমপ্টিভ অ্যাটাক’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর অর্থ হলো, ইরান মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কোনো ক্ষতি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে আগেই হামলা চালানো। কিন্তু আন্তর্জাতিক ও মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের দিক থেকে মার্কিন স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কোনো উদ্যোগ বা চেষ্টা এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি। আর তাই, এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট বরখেলাপ এবং এটি যুদ্ধ ও শান্তির কোনো মানদণ্ডেই পড়ে না।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায়, সম্প্রতি জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল এবং সেখানে একটি আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী, ইরান তার পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাব্য উপাদানগুলো থেকে সরে আসতে মোটামুটি রাজি হয়েছিল এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে—এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। মধ্যস্থতাকারী ওমানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন যে তারা সফলতার খুব কাছাকাছি আছেন।
কিন্তু আকস্মিক এই হামলার পর দুটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে। প্রথমত, হয়তো এতদিন ধরে চলা এই কূটনৈতিক আলোচনা আন্তরিক ছিল না; বরং এটি ছিল লোক দেখানো বা ‘গোয়িং থ্রু দ্য মোশন’। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো কখনোই চায়নি এই সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হোক। দ্বিতীয়ত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ইঙ্গিত থেকে স্পষ্ট যে, তারা এখন কূটনীতি থেকে সরে গিয়ে ইরানের বর্তমান ইসলামী শাসনব্যবস্থা ও নেতৃত্বকে উৎখাত করতে চাইছেন। তারা সরাসরি ইরানি জনগণকে রাস্তায় নেমে এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বাইরে থেকে আক্রমণ করে জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা আনার এই ধারণা সম্পূর্ণ অবাস্তব। ২০০৩ সালে ইরাকে ঠিক একই ধরনের ‘ব্যর্থ পরীক্ষা’ চালানো হয়েছিল, যার ফলে আজও ইরাক স্থিতিশীলতায় ফিরতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন ইরানেও একই ভুল ও অকার্যকর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এই কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই হামলাকে যৌক্তিক মনে করছে না।
ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধ যে ইরান, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১২টি শহরের ওপর আক্রমণ করেছে, অন্যদিকে ইরান পাল্টা আঘাত হিসেবে ইসরায়েল ছাড়াও কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছুঁড়েছে। ইরান আগেই সতর্ক করেছিল যে আক্রান্ত হলে তারা এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থের ওপর আঘাত হানবে এবং তারা সেটাই করেছে।
এর অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর। বিশেষ করে যেসব দেশ তেল, গ্যাস এবং রেমিট্যান্সের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল, তারা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি কোন অনিশ্চয়তার দিকে যাবে, তা এখন বলা মুশকিল।
এই ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বা জাতিসংঘের ব্যর্থতা বরাবরের মতোই প্রশ্নবিদ্ধ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা বলেছেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্যের একটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজেই হামলায় অংশ নেয়, তখন জাতিসংঘ কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে না। ইরাক, ইউক্রেন ও গাজার ক্ষেত্রেও আমরা জাতিসংঘের এই অসহায়ত্ব দেখেছি। তাই এই ইস্যুতে জাতিসংঘ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীনের মতো পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা কী হবে—তাও একটি বড় প্রশ্ন। তারা হয়তো সাইডলাইন থেকে ইরানকে নৈতিক সমর্থন বা পরোক্ষ সাহায্য করতে পারে, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে বলে মনে হয় না। এই পরিস্থিতিতে ইরানকে একাই লড়তে হবে এবং ইরানি জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকলে হয়তো তারা সফলভাবে আত্মরক্ষা করতে পারবে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো এমন পরিস্থিতিতে চরম অর্থনৈতিক চাপে পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আমাদের লাখ লাখ প্রবাসী ভাই-বোন কাজ করেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির অন্যতম খুঁটি। বর্তমানে যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মিসাইল পড়া শুরু হয়েছে, তাই আমাদের প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশের কিছু আগাম কৌশল গ্রহণ করা উচিত। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমাদের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করতে হবে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তবে প্রয়োজনে তাদের নিরাপদে সরিয়ে আনার প্রস্তুতি রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃতীয়ত, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিতে যে চাপ পড়বে, তা সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
সবশেষে, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা প্রত্যাশা করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। জোর করে সরকার পরিবর্তন বা ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে যে কোনো সুফল আসে না, অতীতের সেই অভিজ্ঞতা থেকে তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। চলমান এই যুদ্ধাবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির একটি সর্বজনগ্রাহ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি।
লেখক: যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত; বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) প্রেসিডেন্ট

ইরানকে তার পারমাণবিক প্রকল্প বন্ধে চুক্তিতে বাধ্য করার চাপ প্রয়োগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে দেশটির বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা করেছে। চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ফাঁদে পড়বে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে এবং তেলের দাম বেড়ে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অর্থনীতি যে বড় ধরনের সংকটে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
চলমান এই পরিস্থিতিকে একাধিক দৃষ্টিকোণে ব্যাখ্যা করা যায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং এর রীতিনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এই হামলা সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে একটি ‘প্রি-এমপ্টিভ অ্যাটাক’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর অর্থ হলো, ইরান মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কোনো ক্ষতি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে আগেই হামলা চালানো। কিন্তু আন্তর্জাতিক ও মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের দিক থেকে মার্কিন স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কোনো উদ্যোগ বা চেষ্টা এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি। আর তাই, এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট বরখেলাপ এবং এটি যুদ্ধ ও শান্তির কোনো মানদণ্ডেই পড়ে না।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায়, সম্প্রতি জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল এবং সেখানে একটি আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী, ইরান তার পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাব্য উপাদানগুলো থেকে সরে আসতে মোটামুটি রাজি হয়েছিল এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে—এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। মধ্যস্থতাকারী ওমানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন যে তারা সফলতার খুব কাছাকাছি আছেন।
কিন্তু আকস্মিক এই হামলার পর দুটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে। প্রথমত, হয়তো এতদিন ধরে চলা এই কূটনৈতিক আলোচনা আন্তরিক ছিল না; বরং এটি ছিল লোক দেখানো বা ‘গোয়িং থ্রু দ্য মোশন’। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো কখনোই চায়নি এই সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হোক। দ্বিতীয়ত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ইঙ্গিত থেকে স্পষ্ট যে, তারা এখন কূটনীতি থেকে সরে গিয়ে ইরানের বর্তমান ইসলামী শাসনব্যবস্থা ও নেতৃত্বকে উৎখাত করতে চাইছেন। তারা সরাসরি ইরানি জনগণকে রাস্তায় নেমে এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বাইরে থেকে আক্রমণ করে জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা আনার এই ধারণা সম্পূর্ণ অবাস্তব। ২০০৩ সালে ইরাকে ঠিক একই ধরনের ‘ব্যর্থ পরীক্ষা’ চালানো হয়েছিল, যার ফলে আজও ইরাক স্থিতিশীলতায় ফিরতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন ইরানেও একই ভুল ও অকার্যকর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এই কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই হামলাকে যৌক্তিক মনে করছে না।
ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধ যে ইরান, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১২টি শহরের ওপর আক্রমণ করেছে, অন্যদিকে ইরান পাল্টা আঘাত হিসেবে ইসরায়েল ছাড়াও কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছুঁড়েছে। ইরান আগেই সতর্ক করেছিল যে আক্রান্ত হলে তারা এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থের ওপর আঘাত হানবে এবং তারা সেটাই করেছে।
এর অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর। বিশেষ করে যেসব দেশ তেল, গ্যাস এবং রেমিট্যান্সের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল, তারা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি কোন অনিশ্চয়তার দিকে যাবে, তা এখন বলা মুশকিল।
এই ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বা জাতিসংঘের ব্যর্থতা বরাবরের মতোই প্রশ্নবিদ্ধ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা বলেছেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্যের একটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজেই হামলায় অংশ নেয়, তখন জাতিসংঘ কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে না। ইরাক, ইউক্রেন ও গাজার ক্ষেত্রেও আমরা জাতিসংঘের এই অসহায়ত্ব দেখেছি। তাই এই ইস্যুতে জাতিসংঘ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীনের মতো পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা কী হবে—তাও একটি বড় প্রশ্ন। তারা হয়তো সাইডলাইন থেকে ইরানকে নৈতিক সমর্থন বা পরোক্ষ সাহায্য করতে পারে, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে বলে মনে হয় না। এই পরিস্থিতিতে ইরানকে একাই লড়তে হবে এবং ইরানি জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকলে হয়তো তারা সফলভাবে আত্মরক্ষা করতে পারবে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো এমন পরিস্থিতিতে চরম অর্থনৈতিক চাপে পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আমাদের লাখ লাখ প্রবাসী ভাই-বোন কাজ করেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির অন্যতম খুঁটি। বর্তমানে যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মিসাইল পড়া শুরু হয়েছে, তাই আমাদের প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশের কিছু আগাম কৌশল গ্রহণ করা উচিত। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমাদের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করতে হবে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তবে প্রয়োজনে তাদের নিরাপদে সরিয়ে আনার প্রস্তুতি রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃতীয়ত, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিতে যে চাপ পড়বে, তা সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
সবশেষে, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা প্রত্যাশা করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। জোর করে সরকার পরিবর্তন বা ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে যে কোনো সুফল আসে না, অতীতের সেই অভিজ্ঞতা থেকে তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। চলমান এই যুদ্ধাবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির একটি সর্বজনগ্রাহ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি।
লেখক: যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত; বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) প্রেসিডেন্ট

গত সপ্তাহে জেনেভায় মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকরা ওমানের মধ্যস্থতায় আরও এক দফা আলোচনায় বসেছিলেন। কিন্তু এর ফলাফল ঠিক পরিষ্কার ছিল না। ইরান যখন আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’র দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র তখন বলছে অগ্রগতি হয়েছে ‘সামান্যই’।
১০ ঘণ্টা আগে
২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের পর ২০২৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় ইসরায়েল সফর বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। এই সফর প্রমাণ করে ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক এখন আর কেবল সামরিক বা বাণিজ্যিক লেনদেনে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি শক্তিশালী আদর্শিক ও কৌশলগত জোটে রূপ নিয়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
এই মুহূর্তে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের নতুন সংলাপের সম্ভাবনা কম। কিন্তু লড়াই কোনো সমাধান নয়। বরং কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যস্থতায় আলোচনার টেবিলে বসে অন্তত নিজেদের সীমারেখা একে অপরকে জানাতে পারে দুই দেশ। এমন আলোচনায় উভয় পক্ষের ধৈর্য প্রয়োজন হবে। তবে বিকল্প হিস
১ দিন আগে
পৃথিবীর নানা প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বিদ্যুৎকে কেন্দ্র করে গবেষণা চালিয়ে ইলেকট্রনিক্স বিজ্ঞানের ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেন।
২ দিন আগে