leadT1ad

রাজউক ও রূপায়ণ হাউজিংয়ের ৪৩ জনের নামে দুদকের মামলা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ২৫
দুদক অফিস। ছবি: সংগৃহীত

জমি দখল ও সহযোগিতার অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তাসহ আবাসন কোম্পানি রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটের ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা উপেক্ষা করে ভাওয়াল রাজ এস্টেটের সম্পত্তি ও সরকারি খাসজমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা ১-এ মামলাটি করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক আফিয়া খাতুন।

মামলায় রূপায়ণ গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজউকের নীতিনির্ধারণী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, পরিচালক রোকেয়া বেগম নাসিমা, মাহির আলী খান রাতুল, ফরিদা বেগম, আলী আকবর খান রতন ও এস্টেট অফিসার সাজ্জাদ হুসাইন।

এ ছাড়া রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) জিয়াউল হাসান, সদস্য (উন্নয়ন) আব্দুর রহমান, সদস্য (পরিকল্পনা) শেখ আব্দুল মান্নান, উপ–নগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলী, নকশাকার ও পরিদর্শককে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জমি দখল করেছে। আর রাজউকের কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই–বাছাই ও সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই রূপায়ণকে এই অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন।

ভাওয়াল রাজ এস্টেট ও খাসজমি দখল

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রূপায়ণ কর্তৃপক্ষ রাজউকের কাছে ৪১ দশমিক ৫৪৮ একর জমিতে পাঁচ ধাপে বিশেষ প্রকল্প অনুমোদনের আবেদন করলেও কাগজপত্র জমা দেয় মাত্র ১৬ দশমিক ৩২ একরের।

তদন্তে দেখা যায়, মহানগর জরিপের খতিয়ান ও আরএস দাগ অনুযায়ী ওই জমির মধ্যে ২ দশমিক ৩৫ একর জমি সরকারের ভাওয়াল রাজ এস্টেটভুক্ত এবং ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগ পাওয়া যায়, সরকারি সম্পত্তির অস্তিত্ব বিলীন করে ড্যাপ নির্ধারিত ৬০ ফুট রাস্তা নিজেদের প্রকল্প এলাকার ভেতর অন্তর্ভুক্ত করেছে রূপায়ণ।

২০০৮ সালের ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী, বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র পেতে আবেদনকারীকে জমির মালিকানায় নিরঙ্কুশ হতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও মালিকানা বিরোধের তথ্য গোপন করে ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল।

আরবিট্রেশনের রোয়েদাদ ও আদালতের স্থিতাবস্থা উপেক্ষা

দুদকের তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড ২ দশমিক ৫১ একর জমি কিনতে মোস্তফা জামান গংয়ের সঙ্গে বায়না ও সমঝোতা চুক্তি করে। তবে চুক্তি অনুযায়ী, মূল্য পরিশোধ না করে রূপায়ণ উল্টো মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করে।

জমি রেজিস্ট্রি ও মূল্য পরিশোধ না করায় মোস্তফা জামানও আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে ওই জমিতে আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেন এবং একজন আইনজীবীকে আরবিট্রেটর নিয়োগ করেন। ২০১৮ সালে আরবিট্রেটর প্রতি কাঠা ১ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা হিসেবে মোট ১৯২ কোটি টাকা পরিশোধে রূপায়ণ গ্রুপকে নির্দেশ দেন। রূপায়ণ কর্তৃপক্ষ সেই আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে যায়। তবে ২০২৩ সালের ৮ জুন আবেদনটি খারিজ করে দেন আদালত। পুনরায় স্থিতাবস্থাও জারি করেন।

আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে রাজউকের কর্মকর্তারা যাচাই–বাছাই ছাড়াই রূপায়ণের নামে ওই ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন দেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত