মাদকবিরোধী দিবস
স্ট্রিম প্রতিবেদক

রাজধানীর ঢাকা উদ্যান এলাকায় তিনতলা একটি ভবন। এক দুপুরে গিয়ে দেখা গেল, ভবনটির গেট তালাবদ্ধ। ভেতরে কয়েকজন বসে আছেন। দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র।
সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর গেট খুলে দিলেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি তাঁরা। ফলে সদর দরজায় দাঁড়িয়েই কথা বলতে হলো তাঁদের সঙ্গে। জানা গেল, ‘নিউ তরী’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটির দায়িত্বশীল কর্মী তাঁরা। তবে কেন্দ্রটির পরিচালক হেলাল উদ্দিনকে পাওয়া গেল না।
উপস্থিত ব্যক্তিরা জানালেন, কেন্দ্রটিতে ৩০ জনের মতো রোগী ভর্তি আছেন। তাঁদের দেখভাল করার জন্য কর্মী আছেন। তবে কেন্দ্রে চিকিৎসক আছেন কিনা জানতে চাইলে আটকে গেলেন কেন্দ্রটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান সবুজ। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘সব সময় চিকিৎসক থাকেন না। অন্যান্য কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিরা সবাই এক্সপার্ট। তাই সব সময় ডাক্তারের প্রয়োজন হয় না।’
শুনতে অবাক লাগলেও দেশের বেশির ভাগ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলো এভাবেই চলছে। কোনোটিতে চিকিৎসক নেই, কোনোটিতে রুটিন খাবার আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে করা হচ্ছে নির্যাতন। এসব কেন্দ্রে মানা হয় না সরকারি নীতিমালাও।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রোগীকে মারধর, মানসিক নির্যাতন ও অপদস্থ করা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশের চিত্র একই। তবে এটি আইন ও নীতিবিরুদ্ধ।
২০২৫ সালে রাজধানীর নিউ তরঙ্গ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন মো. রুবেল (ছদ্মনাম)। চিকিৎসা চলাকালে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রটিতে থাকাকালীন নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। রোগীদের পিলারের সঙ্গে বেঁধে পেটানোর ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া ৩০ শয্যার কেন্দ্রটিতে রোগী রাখা হয় প্রায় দ্বিগুণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রটির খাবারের মানও খুব খারাপ। সারা সপ্তাহ শুধু সবজি খাওয়ানো হতো। শুক্রবারে দেওয়া হতো এক টুকরো মাংস।’
এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদ হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘গত ১৪-১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছি। প্রতি বছর দুই থেকে আড়াই শ রোগী এখানে সেবা নিতে আসেন। এর মধ্যে দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকতে পারে। তবে আমরা কখনো নির্যাতন করি না।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ গোলাম আজম স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা প্রতি মাসে নিরাময় কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করি। কেন্দ্রে নিয়োজিত চিকিৎসক, নির্যাতন ও রুটিন খাবারের মতো বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমরা খোঁজ নিই। যেসব নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসক নেই বা ভলান্টিয়ার দিয়ে কাজ চালানো হয়, সেসব কেন্দ্র আমরা বন্ধ করে দিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব কেন্দ্রে নির্যাতন বা শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রাখা হয়, সেসব কেন্দ্রের ব্যাপারে টু দ্য পয়েন্ট (সুনির্দিষ্ট) অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজনে মামলা করা হবে।’
প্রতি বছর জুনে বার্ষিক জরিপ প্রকাশ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ২০২৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ৮৩ লাখ মানুষ মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
বিশাল সংখ্যার এই মাদক গ্রহণকারীদের বিপরীতে সারা দেশে বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্র আছে মোটে ৩৮৬টি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৮৬টি কেন্দ্রে মোট শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ১০০টি। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকাতেই আছে ১৯২টি। এসবের শয্যা সংখ্যা ৩ হাজার ২৫২টি। কেন্দ্র নেই ১৫টি জেলায়।
আইন অনুযায়ী, মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে একজন রোগীর জন্য কমপক্ষে ৮০ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিরিবিলি সুন্দর পরিবেশও থাকা চাই।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি অনেক কেন্দ্রেই নেই এসবের কোনো সুবিধা। ৫ বছর আগে কুমিল্লার একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ছিলেন আহম্মদুল্লাহ (ছদ্মনাম)। বর্তমানে তিনি সৌদি আরব প্রবাসী। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমি যে কেন্দ্রে ছিলাম, সেখানে একটি ফ্লোরে ঢালাওভাবে সিঙ্গেল চৌকি ফেলে থাকতে দেওয়া হতো। বিনোদন এবং প্রাইভেসি বলে কোনো কিছু ছিল না। বাথরুমগুলোতেও ছিল না ছিটকিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্র পরিচালকদের পাশাপাশি বয়সে বড়, অনেক দিন ধরে কেন্দ্রে থাকা এবং টাকাওয়ালা মাদকাসক্তরাও নির্যাতন চালাত। তাছাড়া সব সময় হট্টগোল লেগেই থাকত। সেটাকে কোনোভাবেই নিরিবিলি পরিবেশ বলা যায় না।’
আইনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্রে একজন চিকিৎসক বা মেডিকেল অফিসার, একজন মনোচিকিৎসক, একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, দুজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স এবং একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকতে হবে। সেই সঙ্গে জীবন রক্ষাকারী উপকরণ এবং ওষুধপথ্য রাখার বিধান রয়েছে।
তবে ঢাকার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কোনো চিকিৎসক নেই। চিকিৎসক থাকলেও ফাঁকা অন্য পদগুলো। আদাবরের ক্রিয়া মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, একজন চিকিৎসক আছেন; বাকিরা দেখভাল করার লোক। প্রশিক্ষিত পদগুলো সব ফাঁকা।
চার বছর আগে ঢাকার একটি কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন মোহাম্মদ রফিক (ছদ্মনাম)। বর্তমানে বাবার সঙ্গে ব্যবসা করেন। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমি যে কেন্দ্রটিতে চিকিৎসা নিয়েছি, সেটা পরিচালনা করতেন মাদকাসক্ত থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা। তাঁরাই চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করতেন। মনোচিকিৎসা বা অন্যান্য কোনো সুবিধা সেখানে ছিল না।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোতে দুরবস্থার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন তাঁরা। তবে সরকারি কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। এ ব্যাপারে তাঁরা বলেন, সরকারের জনবল সংকট আছে। তবে কর্তৃপক্ষ ভালো কিছু করার চেষ্টা করছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে সরকারি নিরাময় কেন্দ্র আছে ৪টি। এসব কেন্দ্রে মোট শয্যা আছে ১৯৯টি। এর মধ্যে ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ১২৪টি, খুলনায় ২৫, চট্টগ্রামে ২৫ ও রাজশাহীতে ২৫টি শয্যা রয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৪২টি শয্যা থাকার কথা থাকলেও এখানে আছে মাত্র ৩০টি। কেন্দ্রটিতে চিফ কনসালট্যান্টসহ চিকিৎসক থাকার কথা ২৬ জন। তবে আছেন মাত্র ২ জন। সাইকিয়াট্রিস্ট আছেন ১ জন। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের পদটি ফাঁকা এবং ১৫ জন নার্সের জায়গায় আছেন ৫ জন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা হৃদরোগসহ অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত কিনা, তা জানতে এক্স-রে, ইসিজিসহ নানা পরীক্ষার দরকার হয়। কিন্তু এসব পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই সেখানে। কেন্দ্রটিতে নেই জরুরি বিভাগও।
যোগাযোগ করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা ও পুনর্বাসন অধিশাখা) মো. আবুল কালাম আজাদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের জনবল খুবই কম। চিকিৎসকদের আমরা ডেপুটেশনে (প্রেষণে) এনে কাজ করাচ্ছি। কিন্তু এখানে যে ধরনের চিকিৎসক প্রয়োজন, দেশে এরকম চিকিৎসকেরও ঘাটতি আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কেন্দ্রটিকে বড় পরিসরে চালু করার জন্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা একটি নতুন ভবনের কাজ শুরু করেছি এবং প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে ৩৫০টি শয্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় নিরাময় কেন্দ্রটি পরিচালনা করা হবে।’
মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনায় নির্দেশনা জারি করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বলা হয়েছে, নিরাময় কেন্দ্রে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে প্রশিক্ষিত লোক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তাঁকে বিশেষ কক্ষে রাখতে হবে। ওই কক্ষের মেঝে ও দেওয়ালে ফোমজাতীয় পদার্থ থাকতে হবে, যেন রোগী পড়ে গিয়ে বা অন্য কোনোভাবে মাথায় আঘাত না পায়।’
আরও বলা হয়, মাদক গ্রহণ করতে না পারায় রোগীর শরীরে কাঁপুনি, মলমূত্র ত্যাগ করাসহ বিভিন্ন উপসর্গ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ওষুধ দিতে হবে। মাদকাসক্তি ছাড়াতে রোগীকে কাউন্সেলিংয়ের মধ্যে রাখতে হয়।
কিন্তু এসবের বালাই নেই অনেক কেন্দ্রে। পরিচালকরা মনে করেন, নির্যাতন করেই সুস্থ করা যায় মাদকাসক্তকে।
এ ব্যাপারে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘প্রথমত, মাদকাসক্তি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি মানসিক রোগের অংশ। দ্বিতীয়ত, মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক কিছু গাইডলাইন (নির্দেশিকা) আছে। সেই গাইডলাইনে সমন্বিত দল বা মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ এই দলে সাইকোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট, রিকভারি এডিক্ট (সেরে ওঠা আসক্ত), সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার (সমাজকর্মী), কাউন্সিলর, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট (বৃত্তিমূলক থেরাপি বিশেষজ্ঞ), শিক্ষক ও মোরাল টিচারসহ (নৈতিক শিক্ষক) নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষ এখানে যুক্ত থাকবে। তাঁরা মিলে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮২ সালের সামরিক আইন আসার পরে আমাদের রুলস অব বিজনেস (কার্যবিধি) পরিবর্তন হয়ে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রগুলো চলে গেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ফলে এসব কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য বিভাগের হস্তক্ষেপ বা তদারকি প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ এটি সম্পূর্ণভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তাদের লাইসেন্স দেয় এবং তাদের দেখাশোনা করে। ফলে এই জায়গাটিতে মেডিকেল মডেলকে (চিকিৎসা পদ্ধতি) সমন্বিত করা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে খুব সহজ হয় না।’
স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে কেন্দ্রগুলোতে মেডিক্যাল মডেলটাকে সমন্বিত করতে হবে। সেই সঙ্গে মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমকেও সংযুক্ত করতে হবে। যেহেতু মাদকাসক্তি একটি মানসিক রোগ, তাই শুধুমাত্র অবরুদ্ধ রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে এদের চিকিৎসা করলে ফলপ্রসূ হবে না।’

রাজধানীর ঢাকা উদ্যান এলাকায় তিনতলা একটি ভবন। এক দুপুরে গিয়ে দেখা গেল, ভবনটির গেট তালাবদ্ধ। ভেতরে কয়েকজন বসে আছেন। দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র।
সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর গেট খুলে দিলেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি তাঁরা। ফলে সদর দরজায় দাঁড়িয়েই কথা বলতে হলো তাঁদের সঙ্গে। জানা গেল, ‘নিউ তরী’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটির দায়িত্বশীল কর্মী তাঁরা। তবে কেন্দ্রটির পরিচালক হেলাল উদ্দিনকে পাওয়া গেল না।
উপস্থিত ব্যক্তিরা জানালেন, কেন্দ্রটিতে ৩০ জনের মতো রোগী ভর্তি আছেন। তাঁদের দেখভাল করার জন্য কর্মী আছেন। তবে কেন্দ্রে চিকিৎসক আছেন কিনা জানতে চাইলে আটকে গেলেন কেন্দ্রটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান সবুজ। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘সব সময় চিকিৎসক থাকেন না। অন্যান্য কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিরা সবাই এক্সপার্ট। তাই সব সময় ডাক্তারের প্রয়োজন হয় না।’
শুনতে অবাক লাগলেও দেশের বেশির ভাগ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলো এভাবেই চলছে। কোনোটিতে চিকিৎসক নেই, কোনোটিতে রুটিন খাবার আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে করা হচ্ছে নির্যাতন। এসব কেন্দ্রে মানা হয় না সরকারি নীতিমালাও।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রোগীকে মারধর, মানসিক নির্যাতন ও অপদস্থ করা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশের চিত্র একই। তবে এটি আইন ও নীতিবিরুদ্ধ।
২০২৫ সালে রাজধানীর নিউ তরঙ্গ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন মো. রুবেল (ছদ্মনাম)। চিকিৎসা চলাকালে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রটিতে থাকাকালীন নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। রোগীদের পিলারের সঙ্গে বেঁধে পেটানোর ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া ৩০ শয্যার কেন্দ্রটিতে রোগী রাখা হয় প্রায় দ্বিগুণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রটির খাবারের মানও খুব খারাপ। সারা সপ্তাহ শুধু সবজি খাওয়ানো হতো। শুক্রবারে দেওয়া হতো এক টুকরো মাংস।’
এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদ হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘গত ১৪-১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছি। প্রতি বছর দুই থেকে আড়াই শ রোগী এখানে সেবা নিতে আসেন। এর মধ্যে দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকতে পারে। তবে আমরা কখনো নির্যাতন করি না।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ গোলাম আজম স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা প্রতি মাসে নিরাময় কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করি। কেন্দ্রে নিয়োজিত চিকিৎসক, নির্যাতন ও রুটিন খাবারের মতো বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমরা খোঁজ নিই। যেসব নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসক নেই বা ভলান্টিয়ার দিয়ে কাজ চালানো হয়, সেসব কেন্দ্র আমরা বন্ধ করে দিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব কেন্দ্রে নির্যাতন বা শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রাখা হয়, সেসব কেন্দ্রের ব্যাপারে টু দ্য পয়েন্ট (সুনির্দিষ্ট) অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজনে মামলা করা হবে।’
প্রতি বছর জুনে বার্ষিক জরিপ প্রকাশ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ২০২৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ৮৩ লাখ মানুষ মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
বিশাল সংখ্যার এই মাদক গ্রহণকারীদের বিপরীতে সারা দেশে বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্র আছে মোটে ৩৮৬টি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৮৬টি কেন্দ্রে মোট শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ১০০টি। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকাতেই আছে ১৯২টি। এসবের শয্যা সংখ্যা ৩ হাজার ২৫২টি। কেন্দ্র নেই ১৫টি জেলায়।
আইন অনুযায়ী, মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে একজন রোগীর জন্য কমপক্ষে ৮০ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিরিবিলি সুন্দর পরিবেশও থাকা চাই।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি অনেক কেন্দ্রেই নেই এসবের কোনো সুবিধা। ৫ বছর আগে কুমিল্লার একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ছিলেন আহম্মদুল্লাহ (ছদ্মনাম)। বর্তমানে তিনি সৌদি আরব প্রবাসী। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমি যে কেন্দ্রে ছিলাম, সেখানে একটি ফ্লোরে ঢালাওভাবে সিঙ্গেল চৌকি ফেলে থাকতে দেওয়া হতো। বিনোদন এবং প্রাইভেসি বলে কোনো কিছু ছিল না। বাথরুমগুলোতেও ছিল না ছিটকিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্র পরিচালকদের পাশাপাশি বয়সে বড়, অনেক দিন ধরে কেন্দ্রে থাকা এবং টাকাওয়ালা মাদকাসক্তরাও নির্যাতন চালাত। তাছাড়া সব সময় হট্টগোল লেগেই থাকত। সেটাকে কোনোভাবেই নিরিবিলি পরিবেশ বলা যায় না।’
আইনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্রে একজন চিকিৎসক বা মেডিকেল অফিসার, একজন মনোচিকিৎসক, একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, দুজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স এবং একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকতে হবে। সেই সঙ্গে জীবন রক্ষাকারী উপকরণ এবং ওষুধপথ্য রাখার বিধান রয়েছে।
তবে ঢাকার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কোনো চিকিৎসক নেই। চিকিৎসক থাকলেও ফাঁকা অন্য পদগুলো। আদাবরের ক্রিয়া মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, একজন চিকিৎসক আছেন; বাকিরা দেখভাল করার লোক। প্রশিক্ষিত পদগুলো সব ফাঁকা।
চার বছর আগে ঢাকার একটি কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন মোহাম্মদ রফিক (ছদ্মনাম)। বর্তমানে বাবার সঙ্গে ব্যবসা করেন। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমি যে কেন্দ্রটিতে চিকিৎসা নিয়েছি, সেটা পরিচালনা করতেন মাদকাসক্ত থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা। তাঁরাই চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করতেন। মনোচিকিৎসা বা অন্যান্য কোনো সুবিধা সেখানে ছিল না।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোতে দুরবস্থার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন তাঁরা। তবে সরকারি কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। এ ব্যাপারে তাঁরা বলেন, সরকারের জনবল সংকট আছে। তবে কর্তৃপক্ষ ভালো কিছু করার চেষ্টা করছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে সরকারি নিরাময় কেন্দ্র আছে ৪টি। এসব কেন্দ্রে মোট শয্যা আছে ১৯৯টি। এর মধ্যে ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ১২৪টি, খুলনায় ২৫, চট্টগ্রামে ২৫ ও রাজশাহীতে ২৫টি শয্যা রয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৪২টি শয্যা থাকার কথা থাকলেও এখানে আছে মাত্র ৩০টি। কেন্দ্রটিতে চিফ কনসালট্যান্টসহ চিকিৎসক থাকার কথা ২৬ জন। তবে আছেন মাত্র ২ জন। সাইকিয়াট্রিস্ট আছেন ১ জন। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের পদটি ফাঁকা এবং ১৫ জন নার্সের জায়গায় আছেন ৫ জন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা হৃদরোগসহ অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত কিনা, তা জানতে এক্স-রে, ইসিজিসহ নানা পরীক্ষার দরকার হয়। কিন্তু এসব পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই সেখানে। কেন্দ্রটিতে নেই জরুরি বিভাগও।
যোগাযোগ করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা ও পুনর্বাসন অধিশাখা) মো. আবুল কালাম আজাদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের জনবল খুবই কম। চিকিৎসকদের আমরা ডেপুটেশনে (প্রেষণে) এনে কাজ করাচ্ছি। কিন্তু এখানে যে ধরনের চিকিৎসক প্রয়োজন, দেশে এরকম চিকিৎসকেরও ঘাটতি আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কেন্দ্রটিকে বড় পরিসরে চালু করার জন্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা একটি নতুন ভবনের কাজ শুরু করেছি এবং প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে ৩৫০টি শয্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় নিরাময় কেন্দ্রটি পরিচালনা করা হবে।’
মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনায় নির্দেশনা জারি করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বলা হয়েছে, নিরাময় কেন্দ্রে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে প্রশিক্ষিত লোক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তাঁকে বিশেষ কক্ষে রাখতে হবে। ওই কক্ষের মেঝে ও দেওয়ালে ফোমজাতীয় পদার্থ থাকতে হবে, যেন রোগী পড়ে গিয়ে বা অন্য কোনোভাবে মাথায় আঘাত না পায়।’
আরও বলা হয়, মাদক গ্রহণ করতে না পারায় রোগীর শরীরে কাঁপুনি, মলমূত্র ত্যাগ করাসহ বিভিন্ন উপসর্গ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ওষুধ দিতে হবে। মাদকাসক্তি ছাড়াতে রোগীকে কাউন্সেলিংয়ের মধ্যে রাখতে হয়।
কিন্তু এসবের বালাই নেই অনেক কেন্দ্রে। পরিচালকরা মনে করেন, নির্যাতন করেই সুস্থ করা যায় মাদকাসক্তকে।
এ ব্যাপারে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘প্রথমত, মাদকাসক্তি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি মানসিক রোগের অংশ। দ্বিতীয়ত, মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক কিছু গাইডলাইন (নির্দেশিকা) আছে। সেই গাইডলাইনে সমন্বিত দল বা মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ এই দলে সাইকোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট, রিকভারি এডিক্ট (সেরে ওঠা আসক্ত), সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার (সমাজকর্মী), কাউন্সিলর, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট (বৃত্তিমূলক থেরাপি বিশেষজ্ঞ), শিক্ষক ও মোরাল টিচারসহ (নৈতিক শিক্ষক) নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষ এখানে যুক্ত থাকবে। তাঁরা মিলে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮২ সালের সামরিক আইন আসার পরে আমাদের রুলস অব বিজনেস (কার্যবিধি) পরিবর্তন হয়ে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রগুলো চলে গেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ফলে এসব কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য বিভাগের হস্তক্ষেপ বা তদারকি প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ এটি সম্পূর্ণভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তাদের লাইসেন্স দেয় এবং তাদের দেখাশোনা করে। ফলে এই জায়গাটিতে মেডিকেল মডেলকে (চিকিৎসা পদ্ধতি) সমন্বিত করা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে খুব সহজ হয় না।’
স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে কেন্দ্রগুলোতে মেডিক্যাল মডেলটাকে সমন্বিত করতে হবে। সেই সঙ্গে মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমকেও সংযুক্ত করতে হবে। যেহেতু মাদকাসক্তি একটি মানসিক রোগ, তাই শুধুমাত্র অবরুদ্ধ রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে এদের চিকিৎসা করলে ফলপ্রসূ হবে না।’
.png)

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিল শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঘণ্টা বাজানোর মধ্য দিয়ে রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে এ মিছিল শুরু হয়। মিছিলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ হাজারো মানুষ যোগ দিয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর পুরান ঢাকায় হোসেনি দালান এলাকায় পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলে মানুষের ঢল নেমেছে। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকেই হোসেনি দালানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হতে থাকেন।
৩ ঘণ্টা আগে
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার সকালে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই দেশের প্রধানের এই বৈঠক শুরু হয়। এর আগে একই ভেন্যুতে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে
৪ ঘণ্টা আগে
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের সদর উপজেলার শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও ভূইগড় পর্যন্ত সাদা কাপড়ে কালো রঙে কালিমাখচিত বেশ কিছু পতাকা উড়তে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, রাতের আঁধারে অটোরিকশায় এসে কিছু মাদ্রাসাছাত্র এসব পতাকা লাগিয়ে গেছে।
১৪ ঘণ্টা আগে