leadT1ad

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে জনবল নিয়োগের পরীক্ষা স্থগিত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। ছবি: সংগৃহীত

লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ৯৬টি পদে নিয়োগের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার পর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ৯৬টি পদে নিয়োগের জন্য ১০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ায় সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। মৌখিক পরীক্ষা আগামীকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) হচ্ছে না।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা ২০২৫’ অনুযায়ী, নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। এতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর পরীক্ষা নিয়ে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার শর্ত রয়েছে। তবে প্রবিধানমালার একটি ধারায় বলা হয়েছে, বিশেষায়িত জাদুঘর হওয়ায় বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ যেকোনো শর্ত শিথিল করতে পারবে।

চাকরিপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই ধারার সুযোগ নিয়ে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের তোড়জোড় চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

নিয়োগ পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব জানিয়েছেন, কোনো আবেদনকারীকে এখনো পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়নি। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়নি, এটি চলমান। আবেদনকারীদের ডাকা হয়েছে বলে অনেক সংবাদমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়েছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে, ১০ হাজারের বেশি আবেদন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা শেষে নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌখিক ও দক্ষতা পরীক্ষণের জন্য ডাকা হবে। প্রাথমিক বাছাই এখনো শেষ না হওয়ায় কোনো প্রার্থীকে এসএমএস কিংবা ফোনকলের মাধ্যমে ডাকার তথ্যটি ভিত্তিহীন।

জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদনের সময় দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে তানজিম ইবনে ওয়াহাব জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু করার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি মৌখিক ও দক্ষতা পরীক্ষণের প্রক্রিয়াটি ‘প্রমার্জন’ (শিথিল) করেছেন।

এদিকে, লিখিত পরীক্ষা না রাখা এবং মাত্র সাত দিন আবেদনের সময় দেওয়া নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। নিজেকে চাকরিপ্রার্থী দাবি করে নাঈমুল ইসলাম ও জাহিদ হাসান ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, কোনো প্রিলিমিনারি, লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করে আনা হয়েছে। এমনকি আবেদনকারীদের পরীক্ষার কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তারা এই প্রক্রিয়াকে ‘প্রতারণা’ অভিহিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে গবেষক ও লেখক আলতাফ পারভেজ বলেন, নিয়োগের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। অথচ আবেদনের জন্য মাত্র চার দিন সময় রাখা হয়েছে। এত অল্প সময়ে অনেকেই আবেদন করার বা জানার সুযোগ পাননি। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত