leadT1ad

ফাল্গুন আসার আগেই তাহিরপুরের শিমুল বাগানে রক্তিম বসন্ত

ফাল্গুন আসতে এখনও ক’টা দিন বাকি। কিন্তু হাওর জেলা সুনামগঞ্জের প্রকৃতি যেন অপেক্ষা করতে রাজি নয়। বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে তাহিরপুরের শিমুল বাগানের গাছে গাছে ফুটে উঠেছে রক্তিম ফুল।

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জ

ফাল্গুন আসার আগেই তাহিরপুরের শিমুল বাগানে রক্তিম বসন্ত। স্ট্রিম ছবি

ফাল্গুন আসতে এখনও ক’টা দিন বাকি। কিন্তু হাওর জেলা সুনামগঞ্জের প্রকৃতি যেন অপেক্ষা করতে রাজি নয়। বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে গাছে গাছে ফুটে উঠেছে রক্তিম শিমুল। আগুনরঙা এই ফুলে ইতিমধ্যে সেজে উঠেছে তাহিরপুরের জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন হাজারো দর্শনার্থী।

কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ আবার শুধু প্রকৃতির টানে। তবে এই সৌন্দর্যের পথে রয়েছে কষ্টের গল্পও। অনুন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে সুনামগঞ্জ শহর থেকে বাগান পর্যন্ত পৌঁছানো সহজ নয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে আসা রোখশানা আক্তার স্ট্রিমকে বলছিলেন সেই অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, ‘সুনামগঞ্জ পর্যন্ত যাত্রা ভালোই ছিল। কিন্তু শহর থেকে শিমুল বাগান পর্যন্ত রাস্তা খুব খারাপ। কষ্ট হয়েছে ঠিকই, তবে বাগানে ঢুকে সব কষ্ট ভুলে গেছি।’

ইতিমধ্যে সেজে উঠেছে তাহিরপুরের জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান। স্ট্রিম ছবি
ইতিমধ্যে সেজে উঠেছে তাহিরপুরের জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান। স্ট্রিম ছবি

হাওরাঞ্চলে শীত বিদায় নিলে প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে। ঝরাপাতার দিন শেষ হয়ে শহর-গ্রামজুড়ে গাছে গাছে দেখা দেয় নতুন শাখা-প্রশাখা। মুকুল, শিমুল আর পলাশের রঙে বসন্ত ইতিমধ্যেই নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। সেই বসন্তকে স্বাগত জানাতেই যেন আগুনে লাল রঙে সেজেছে উত্তর জনপদের সীমান্তঘেঁষা এই শিমুল বাগান।

সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে, সীমান্ত উপজেলা তাহিরপুরে ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে ওঠা এই বাগান। রূপের নদী হিসেবে পরিচিত যাদুকাটা নদীর কাছেই এই শিমুল বাগান। অনেকের মতে, এটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ শিমুল বাগান। বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে গাছে গাছে হাজারো টকটকে লাল শিমুল ফুল।

এ বছর বাগানের প্রায় তিন হাজার শিমুল গাছের মধ্যে দুই হাজার সাতশটির মতো গাছে ফুল ফুটেছে। এই রক্তিম সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। সিলেটের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহুয়া (ছদ্মনাম) বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসেছি। আসার পথে যতটা কষ্ট হয়েছে, এখানে এসে তা কিছুই মনে হচ্ছে না। এই দৃশ্য দেখেই আমরা মুগ্ধ।’

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন হাজারো দর্শনার্থী। স্ট্রিম ছবি
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন হাজারো দর্শনার্থী। স্ট্রিম ছবি

পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীরাও একই অনুভূতির কথা জানান। সিলেট থেকে আসা দর্শনার্থী আকবর আলী বলেন, ‘সবকিছুই ভালো লাগছে। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা এত খারাপ কেন, এটাই প্রশ্ন।’

বাগানের তত্ত্বাবধায়ক নিজাম উদ্দিন স্ট্রিমকে জানান, সড়ক যোগাযোগ ভালো না হওয়ায় পর্যটকদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘এখানে দর্শনার্থীরা এলে যেন একটু বিশ্রাম করতে পারে, এজন্য আমরা একটি রেস্টহাউস করেছি। তবে এই রেস্টহাউসের অনেক জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। চোরকে আমরা ধরেছি। শীগ্রই রেস্টহাউসটা চালু করা হবে।’

এই শিমুল বাগানের গল্পের শুরু ২০০২ সালে। তাহিরপুরের বাদাঘাট এলাকার জয়নাল আবেদীন তিন হাজার শিমুল গাছ রোপণ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই গাছগুলো এখন দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয় পর্যটন স্পট হয়ে উঠেছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত