স্ট্রিম প্রতিবেদক

নির্বাচনী প্রচার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচার শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে। কেউ কারও বিরুদ্ধে কটূকথা বলছেন না। কোনো অভদ্র আচরণও হচ্ছে না। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। সভা শেষে যমুনার সামনে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার চলছে। এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সন্তুষ্ট, উই আর ভেরি হ্যাপি। আমাদের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে টু মেক ইট পারফেক্ট। ভোটটা যাতে পারফেক্ট হয় সেটা হচ্ছে এখন আমাদের জন্য মেইন চ্যালেঞ্জ।
সামনের এক সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন নিরাপদ ও উৎসবমুখব পরিবেশে হবে। নারীরা আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবেন এবং পরিবারসহ মানুষ ভোট উৎসবে অংশ নেবেন।
সভায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি আশা করি, এই নির্বাচন ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দেওয়া হবে ২৫ হাজার ৭০০ বডি-ওর্ন ক্যামেরা
বৈঠকের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা। তিনি জানান, সারাদেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরার আওতায় থাকবে।
বৈঠকের সময় এসব ক্যামেরা কীভাবে কাজ করে, তা সরাসরি দেখানো হয়। প্রেস সচিব বলেন, একটি র্যান্ডম পরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা পাঁচটি স্থানে দায়িত্বপ্রাপ্ত বডি-ওর্ন ক্যামেরা পরিহিত সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া এবং খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার মতো প্রত্যন্ত এলাকাও ছিল।
শফিকুল আলম বলেন, এসব স্থান আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না, সম্পূর্ণ র্যান্ডমভাবে নির্বাচন করা হয়। প্রদর্শনীতে দেখা গেছে, বডি-ওর্ন ক্যামেরাগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, বৈঠকে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ নিয়েও আলোচনা হয়, যা এখন পুরোপুরি চালু হয়েছে। এই অ্যাপটি কেবল নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন।
কোনো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা বাইরে যদি বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তাহলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো যাবে। এতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে জানান প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, এই অ্যাপটি একটি পরীক্ষিত ও কার্যকর ব্যবস্থা। দুর্গাপূজার সময় প্রায় ৩২ হাজার পূজামণ্ডপ এই অ্যাপের আওতায় আনা হয়েছিল এবং তখন এটি সফলভাবে কাজ করেছে।
প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচন প্রস্তুতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা নির্বাচনে সদস্য মোতায়েনের সর্বশেষ তথ্য জানান। এসব তথ্যানুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি।
প্রেস সচিব জানান, সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ সদস্য ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ২১০ প্লাটুনে ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্যও নির্দিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ সদস্য ১০ জেলার ১৭টি আসনের ২০টি উপজেলা ও ৬৯টি ইউনিয়নে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশের ১ লাখ ৫৭ হাজার সদস্যের মোতায়েন শুরু হবে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্যও নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবের বক্তব্যের বরাত দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, প্রার্থী মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত হওয়ায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে জাতীয় নির্বাচন হবে।
তিনি জানান, এসব আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী আছেন ৮০ জন। আর পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৯৪৬ জন, যাদের মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৪ জন।
শফিকুল আলম বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সারাদেশে ভোট গ্রহণ হবে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে।
ডাকযোগে ভোট (পোস্টাল ভোটিং) প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, প্রবাসে অবস্থানরত ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০ জন ভোটারের ব্যালট ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, প্রবাসী পোস্টাল ভোটারদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৬ শতাংশ নারী। এ ছাড়া ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভারত বাংলাদেশে চালু করা পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা, এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি, কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান প্রেস সচিব।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৪০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৫০ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি প্রায় ১২০ বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচন কভার করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সদ্য চালু হওয়া হটলাইন নম্বর ৩৩৩-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে, সতর্কবার্তা দিতে বা তথ্য জানতে পারবেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রেস সচিব জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশে ইতোমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
‘পাশা’র পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ‘পাশা’ (পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট) নামে একটি দেশি সংস্থাকে ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
সংস্থাটি ‘নামসর্বস্ব’ বলে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদন ছেপেছে দৈনিক প্রথম আলো। ‘এক ব্যক্তি নির্ভর’ এ সংস্থাটি একাই ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক দেবে– এমন তথ্য তুলে ধরে সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, সৈয়দ হুমায়ুন কবীর নামে এক ব্যক্তিই ‘পাশা’র সবকিছু। লোকবল বলতে কেবল তিনিই। নিজের বাড়ির এক কক্ষ বানিয়েছেন কার্যালয়।
যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি-সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, আজকের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সচিব এ বিষয়ে (পাশা) অবহিত করে বলেন, সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে পাশা নামে একটি এনজিও দাবি করেছে যে তারা ১০ হাজার নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেবে। বিষয়টি জানার পর নির্বাচন কমিশন তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়। যাচাইবাছাই করে তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপাতত তাদের পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত ওই এনজিওটির কোনো ‘রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ার’ তথ্য দিয়ে ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি বলেন, এ বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নির্বাচনী প্রচার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচার শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে। কেউ কারও বিরুদ্ধে কটূকথা বলছেন না। কোনো অভদ্র আচরণও হচ্ছে না। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। সভা শেষে যমুনার সামনে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার চলছে। এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সন্তুষ্ট, উই আর ভেরি হ্যাপি। আমাদের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে টু মেক ইট পারফেক্ট। ভোটটা যাতে পারফেক্ট হয় সেটা হচ্ছে এখন আমাদের জন্য মেইন চ্যালেঞ্জ।
সামনের এক সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন নিরাপদ ও উৎসবমুখব পরিবেশে হবে। নারীরা আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবেন এবং পরিবারসহ মানুষ ভোট উৎসবে অংশ নেবেন।
সভায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি আশা করি, এই নির্বাচন ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দেওয়া হবে ২৫ হাজার ৭০০ বডি-ওর্ন ক্যামেরা
বৈঠকের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা। তিনি জানান, সারাদেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরার আওতায় থাকবে।
বৈঠকের সময় এসব ক্যামেরা কীভাবে কাজ করে, তা সরাসরি দেখানো হয়। প্রেস সচিব বলেন, একটি র্যান্ডম পরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা পাঁচটি স্থানে দায়িত্বপ্রাপ্ত বডি-ওর্ন ক্যামেরা পরিহিত সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া এবং খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার মতো প্রত্যন্ত এলাকাও ছিল।
শফিকুল আলম বলেন, এসব স্থান আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না, সম্পূর্ণ র্যান্ডমভাবে নির্বাচন করা হয়। প্রদর্শনীতে দেখা গেছে, বডি-ওর্ন ক্যামেরাগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, বৈঠকে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ নিয়েও আলোচনা হয়, যা এখন পুরোপুরি চালু হয়েছে। এই অ্যাপটি কেবল নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন।
কোনো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা বাইরে যদি বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তাহলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো যাবে। এতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে জানান প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, এই অ্যাপটি একটি পরীক্ষিত ও কার্যকর ব্যবস্থা। দুর্গাপূজার সময় প্রায় ৩২ হাজার পূজামণ্ডপ এই অ্যাপের আওতায় আনা হয়েছিল এবং তখন এটি সফলভাবে কাজ করেছে।
প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচন প্রস্তুতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা নির্বাচনে সদস্য মোতায়েনের সর্বশেষ তথ্য জানান। এসব তথ্যানুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি।
প্রেস সচিব জানান, সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ সদস্য ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ২১০ প্লাটুনে ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্যও নির্দিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ সদস্য ১০ জেলার ১৭টি আসনের ২০টি উপজেলা ও ৬৯টি ইউনিয়নে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশের ১ লাখ ৫৭ হাজার সদস্যের মোতায়েন শুরু হবে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্যও নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবের বক্তব্যের বরাত দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, প্রার্থী মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত হওয়ায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে জাতীয় নির্বাচন হবে।
তিনি জানান, এসব আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী আছেন ৮০ জন। আর পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৯৪৬ জন, যাদের মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৪ জন।
শফিকুল আলম বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সারাদেশে ভোট গ্রহণ হবে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে।
ডাকযোগে ভোট (পোস্টাল ভোটিং) প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, প্রবাসে অবস্থানরত ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০ জন ভোটারের ব্যালট ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, প্রবাসী পোস্টাল ভোটারদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৬ শতাংশ নারী। এ ছাড়া ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভারত বাংলাদেশে চালু করা পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা, এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি, কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান প্রেস সচিব।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৪০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৫০ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি প্রায় ১২০ বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচন কভার করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সদ্য চালু হওয়া হটলাইন নম্বর ৩৩৩-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে, সতর্কবার্তা দিতে বা তথ্য জানতে পারবেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রেস সচিব জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশে ইতোমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
‘পাশা’র পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ‘পাশা’ (পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট) নামে একটি দেশি সংস্থাকে ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
সংস্থাটি ‘নামসর্বস্ব’ বলে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদন ছেপেছে দৈনিক প্রথম আলো। ‘এক ব্যক্তি নির্ভর’ এ সংস্থাটি একাই ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক দেবে– এমন তথ্য তুলে ধরে সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, সৈয়দ হুমায়ুন কবীর নামে এক ব্যক্তিই ‘পাশা’র সবকিছু। লোকবল বলতে কেবল তিনিই। নিজের বাড়ির এক কক্ষ বানিয়েছেন কার্যালয়।
যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি-সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, আজকের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সচিব এ বিষয়ে (পাশা) অবহিত করে বলেন, সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে পাশা নামে একটি এনজিও দাবি করেছে যে তারা ১০ হাজার নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেবে। বিষয়টি জানার পর নির্বাচন কমিশন তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়। যাচাইবাছাই করে তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপাতত তাদের পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত ওই এনজিওটির কোনো ‘রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ার’ তথ্য দিয়ে ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি বলেন, এ বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ৯৬টি পদে নিয়োগের জন্য ১০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ায় সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। মৌখিক পরীক্ষা আগামীকাল রোববার হচ্ছে না।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে তৈরি করা দুটি আধুনিক এসি বাস উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুরের সমন্বিত কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় বাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন।
৪ ঘণ্টা আগে
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিএনপি ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার চরাঞ্চল মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি গ্রামে এ সংঘর্ষে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি দুপক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে।
৫ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানে পাচারের ৫৩ বছর পর বাংলাদেশে ফিরেছেন পাঁচ নারী। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
৬ ঘণ্টা আগে