স্ট্রিম প্রতিবেদক

আসন্ন বাজেটে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, 'আবাসন খাতে স্থবিরতা দূর, শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত' করার অজুহাতে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে। একই সঙ্গে সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'স্বাধীনতার পর প্রায় প্রতিটি সরকার কোনো না কোনো পন্থা অবলম্বন করে "অপ্রদর্শিত অর্থ" বৈধ করার নামে সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদ পরিপন্থী এই বিধান অব্যাহত রেখেছে। এতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছিল বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে। কখনো "বিনাপ্রশ্নে" আবার কখনো বা নিয়মিত করহারের চেয়ে তুলনামূলক কম হারে দুর্নীতিবাজদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক এই অনৈতিক চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। তখনও একইভাবে এই বৈষম্যমূলক বিধান বহাল রাখার পেছনে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক লাভ-ক্ষতির খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হতো, কিন্তু প্রকৃতার্থে এর ফলে দেশে "করফাঁকি" এবং সৎ ও বৈধ আয়ের করদাতাকে নিরুৎসাহিত করার সংস্কৃতিটি ক্রমান্বয়ে দৃঢ় হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'কালো টাকা সাদা করার বিধান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন ধাপে বন্ধ করলেও, বর্তমান সরকারের সেটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এক ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে পড়ার মতো। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ার শামিল, যা বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার সুযোগ তৈরি করছে। তা ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার করে বিপুল জনরায়ে নির্বাচিত সরকার এই অনৈতিক ও আত্মঘাতী চর্চা পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে কী বার্তা দিতে চাচ্ছে? এ ক্ষেত্রে সরকারকে স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী শ্রেণির চেয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ বিবেচনাসহ জনআকাঙ্ক্ষা মূল্যায়নে আন্তরিক হওয়া জরুরি।'
জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫-এর ৬৭ ধারায় ব্যক্তির অনুপার্জিত আয় ভোগ করার সুযোগ বন্ধের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল ও জোট সর্বসম্মতভাবে অঙ্গীকার করেছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারসহ "দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না" মর্মে অঙ্গীকার করেছে। অথচ গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, আবাসন খাতের লবির প্রভাবে আসন্ন বাজেটে দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ অন্য যেকোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার কোনো ধরনের প্রশ্ন করার সুযোগ না রেখে "পরিপূর্ণ দায়মুক্তি" দেওয়ার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হবে। তা ছাড়া দুদক সংস্কার প্রতিবেদনে (সুপারিশ-৩) কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে, যার প্রতিও বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। মনে রাখতে হবে, অতীত অভিজ্ঞতা বলছে বারবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েও রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়নি। বরং মানুষকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে অনিয়ম-দুর্নীতিকে সরকার সুরক্ষা, প্রশ্রয় ও বিচারহীনতা দিচ্ছে।'
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, 'বিদেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্থ ফেরত আনার আন্তরিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরকার যদি এই পরিকল্পনা করে থাকে, সেটা হতে পারে। তবে যারা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত তারা যেন এ সুযোগ নিতে না পারেন। অধিকন্তু অর্থ পাচারের কারণে ইতিমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং তাদের জন্য কোনো বিবেচনায়ই "সাধারণ ক্ষমা" প্রযোজ্য নয়, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তীতে কখনোই আর এই সুযোগ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ এ ধরনের সুযোগ দেওয়া একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। ইতিমধ্যে সরকার তার সার্বিক কার্যক্রমে কিছু ইতিবাচক ও আশাজাগানিয়া দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় এবার কালো টাকা বৈধ করার অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিসহায়ক বিধান করা থেকে বিরত থেকে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থানের যথার্থতার উদাহরণ স্থাপন করবে—এই প্রত্যাশা করছি।'

আসন্ন বাজেটে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, 'আবাসন খাতে স্থবিরতা দূর, শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত' করার অজুহাতে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে। একই সঙ্গে সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'স্বাধীনতার পর প্রায় প্রতিটি সরকার কোনো না কোনো পন্থা অবলম্বন করে "অপ্রদর্শিত অর্থ" বৈধ করার নামে সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদ পরিপন্থী এই বিধান অব্যাহত রেখেছে। এতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছিল বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে। কখনো "বিনাপ্রশ্নে" আবার কখনো বা নিয়মিত করহারের চেয়ে তুলনামূলক কম হারে দুর্নীতিবাজদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক এই অনৈতিক চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। তখনও একইভাবে এই বৈষম্যমূলক বিধান বহাল রাখার পেছনে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক লাভ-ক্ষতির খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হতো, কিন্তু প্রকৃতার্থে এর ফলে দেশে "করফাঁকি" এবং সৎ ও বৈধ আয়ের করদাতাকে নিরুৎসাহিত করার সংস্কৃতিটি ক্রমান্বয়ে দৃঢ় হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'কালো টাকা সাদা করার বিধান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন ধাপে বন্ধ করলেও, বর্তমান সরকারের সেটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এক ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে পড়ার মতো। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ার শামিল, যা বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার সুযোগ তৈরি করছে। তা ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার করে বিপুল জনরায়ে নির্বাচিত সরকার এই অনৈতিক ও আত্মঘাতী চর্চা পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে কী বার্তা দিতে চাচ্ছে? এ ক্ষেত্রে সরকারকে স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী শ্রেণির চেয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ বিবেচনাসহ জনআকাঙ্ক্ষা মূল্যায়নে আন্তরিক হওয়া জরুরি।'
জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫-এর ৬৭ ধারায় ব্যক্তির অনুপার্জিত আয় ভোগ করার সুযোগ বন্ধের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল ও জোট সর্বসম্মতভাবে অঙ্গীকার করেছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারসহ "দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না" মর্মে অঙ্গীকার করেছে। অথচ গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, আবাসন খাতের লবির প্রভাবে আসন্ন বাজেটে দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ অন্য যেকোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার কোনো ধরনের প্রশ্ন করার সুযোগ না রেখে "পরিপূর্ণ দায়মুক্তি" দেওয়ার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হবে। তা ছাড়া দুদক সংস্কার প্রতিবেদনে (সুপারিশ-৩) কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে, যার প্রতিও বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। মনে রাখতে হবে, অতীত অভিজ্ঞতা বলছে বারবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েও রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়নি। বরং মানুষকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে অনিয়ম-দুর্নীতিকে সরকার সুরক্ষা, প্রশ্রয় ও বিচারহীনতা দিচ্ছে।'
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, 'বিদেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্থ ফেরত আনার আন্তরিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরকার যদি এই পরিকল্পনা করে থাকে, সেটা হতে পারে। তবে যারা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত তারা যেন এ সুযোগ নিতে না পারেন। অধিকন্তু অর্থ পাচারের কারণে ইতিমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং তাদের জন্য কোনো বিবেচনায়ই "সাধারণ ক্ষমা" প্রযোজ্য নয়, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তীতে কখনোই আর এই সুযোগ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ এ ধরনের সুযোগ দেওয়া একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। ইতিমধ্যে সরকার তার সার্বিক কার্যক্রমে কিছু ইতিবাচক ও আশাজাগানিয়া দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় এবার কালো টাকা বৈধ করার অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিসহায়ক বিধান করা থেকে বিরত থেকে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থানের যথার্থতার উদাহরণ স্থাপন করবে—এই প্রত্যাশা করছি।'

ঢাকার অদূরে সাভারের পৌর ছাত্রদল নেতা রনি ইসলামের (২২) বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) সাভারের ছায়াবীথি মহল্লার একটি বাড়ি থেকে রিয়া মনি (২১) নামে তাঁর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে থেকেই পলাতক ওই ছাত্রদল নেতা।
২৫ মিনিট আগে
মাদারীপুর সদর মডেল থানা থেকে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) রাতে ওই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ ঘটনা জড়িত সন্দেহে ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর মৌচাক এলাকায় ভাগ্নের ডাকে একটি বিরোধের সালিস করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৪৫) নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক এক নেতা।
১০ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর পল্লবীতে স্কুলশিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। রামিসার পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীদের চাওয়া—রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়।
১১ ঘণ্টা আগে