রাতের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড চুয়াডাঙ্গা, বৃদ্ধের মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ১৬
তীব্র গরমের মধ্যে মঙ্গলবার রাতের ঝড়বৃষ্টি স্বস্তি বয়ে আনে নাগরিকদের মনে। স্ট্রিম ছবি

চুয়াডাঙ্গায় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে এক ঘণ্টার ঘূর্ণিঝড়ে গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। তার ছিড়ে জেলার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এদিকে, ঝড়ের সময় পা পিছলে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মকলেছুর রহমান (৬৫) মারা গেছেন। সদরের আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় গ্রামের বাসিন্দা মকলেছুর রহমান ছাদ টিন নামানোর সময় প্রবল বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান। স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘূর্ণিঝড়ে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নূরনগর মোড়, ডিঙ্গেদহ ও বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশে থাকা বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে গেছে। চুয়াডাঙ্গা-দামুড়হুদা সড়কের ফকিরপাড়া, কোষাঘাটায় এলাকায় গাছ ভেঙে সড়কে পড়েছে। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাতের মধ্যেই সড়ক থেকে গাছ সরিয়ে ফেলেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, রাত ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৯টা ৫ মিনিট পর্যন্ত জেলায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়।

ঘূর্ণিঝড়ে রাতে গাছ উপড়ে সড়কে পড়লে ব্যাহত হয় যান চলাচল। স্ট্রিম ছবি
ঘূর্ণিঝড়ে রাতে গাছ উপড়ে সড়কে পড়লে ব্যাহত হয় যান চলাচল। স্ট্রিম ছবি

চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে এপ্রিলের শুরু থেকে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে চলছিল। চৈত্রের খরতাপ ও ভ্যাপসা গরমে মানুষ অস্বস্তিতে ছিলেন। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত (২-৪ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। তাপমাত্রা উঠেছিল প্রায় ৪০ ডিগ্রি। মঙ্গলবার বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে রাতে ঝড়ের সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

পথচারী হিমেল মাহমুদ বলেন, এপ্রিলের শুরু থেকে চুয়াডাঙ্গায় টানা তাপপ্রবাহ চলছে। সঙ্গে ভ্যাপসা গরম। এর মধ্যে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় ভালো লাগছে। ঝড়ে ক্ষতি হলেও রাত থেকে ঠান্ডা পরিবেশ সবাই উপভোগ করছে।

ঝড়ে আম ও লিচুর ক্ষতি হলেও বোরো চাষিদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে। তারা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির পানি জমিতে পড়ায় বোরো ধানে ভালো ফলন আসবে।

সদর উপজেলা পৌর এলাকার কৃষক শেখ স্বপন বলেন, ডিজেলের সংকট মুহূর্তে বৃষ্টির পানি খুব দরকার ছিল। রাতে যে বৃদ্ধি হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ সেচ না দিলেও চলবে। বৃষ্টির এই পানিতে কৃষকরা বোরোর ভালো ফলন পাবে।

সম্পর্কিত