জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পাঠ্যবইয়ে অগ্নিঝরা মার্চ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবই দিয়ে বানানো গ্রাফিক

শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ। ১৯৭১ সালের এই মাসে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। নয় মাস টানা যুদ্ধের পরে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা মাস হিসেবে মার্চ মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এবার পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসেছে মাসটি।

দেড় দশক টানা শাসনের পর গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে এখন ভারতে আশ্রিত হয়ে আছেন। অন্যদিকে একাত্তরে নেতৃত্ব দেওয়া দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্ক্রম নিষিদ্ধ। আর নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এখন জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি।

শেখ মুজিবুর রহমানের সন্তান শেখ হাসিনার হাত থেকে ক্ষমতা সরাসরি জিয়াউর রহমানের সন্তান তারেক রহমানের হাতে যায়নি। মাঝখানে ২০২৪ সালে ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই বছর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাগ্রহণ করে। দেড় বছর ক্ষমতায় থাকে তারা। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এখন বিএনপি।

অর্থাৎ স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নিপীড়ন ও স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত এবং দলটির শীর্ষ নেতাসহ বেশিরভাগ বড় নেতাই যখন পলাতক, তখন এসেছে অগ্নিঝরা মার্চ। আবার একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবার প্রধান বিরোধীদল হিসেবে জাতীয় সংসদে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। পরিবর্তিত এইসব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাঠ্যপুস্তকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ পড়েছে, স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক আবার ফিরে এসেছে।

পাঠ্যবই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ

২০২৬ সালে বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে যে বই তুলে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার, তাতে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। বইগুলোতে চব্বিশের ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থান যুক্ত করা হয়েছে। আবার ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ দেওয়া শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

যেমন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ নামের পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান যুক্ত হয়েছে, অন্যদিকে অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

অষ্টম শ্রেণি ছাড়াও একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি প্রথমপত্র বই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ তুলে দেওয়া হয়েছে। আবার বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েক জায়গায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে বঙ্গবন্ধু শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের পাঠ্যবইয়ে ছিল।

স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম কে দিয়েছেন বা স্বাধীনতার ঘোষক কে এই বিতর্ক পুরনো। আওয়ামী লীগ দাবি করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক। অন্যদিকে বিএনপির দাবি, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফলে তিনিই স্বাধীনতার ঘোষক।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিষয়টির ছাপও পাঠ্যপুস্তকে পড়েছে। যেমন ২০২৫ সালের ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী আক্রমণ চালিয়ে গণহত্যা শুরু করে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ। ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবার স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

২০২৬ সালে একই বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগের বঙ্গবন্ধু বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ একই রকম থাকলেও ২০২৪ সালের বইয়ে ভিন্ন রকম তথ্য ছিল। যেমন ওই বছরের ষষ্ঠ শ্রেণির ‘ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান’ বইয়ের প্রচ্ছদের ভেতরের অংশে ‘বিজয় উল্লাস: ১৯৭১’ শিরোনামের লেখায় বলা হয়েছে, ‘১৯৪৭ সাল থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) জনগণ সর্বপ্রকার অত্যাচার, শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন এবং ২৬শে মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত