ক্ষমতায় এসে ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছি: বিমানমন্ত্রী
স্ট্রিম প্রতিবেদক

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘অতীতে এভিয়েশন খাতে যাত্রী হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল, এসব সমাধানই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বণিক বার্তার ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের সেবার মানোন্নয়ন ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মতো প্রযুক্তিগত সংস্কার আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ পেতে একসময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। আমি পরিদর্শনে গিয়ে নির্দেশনা দিয়েছি—যাত্রীরা নামার সঙ্গে সঙ্গেই কার্গোর দরজাও খুলতে হবে, যাতে ২০ মিনিটের মধ্যে সব লাগেজ বেল্টে চলে আসে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এখন ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগছে না।’
রশিদুজ্জামান আরও জানান, আগের সরকার জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে প্রকল্প বাতিল করে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বর্তমান সরকার জাপানের সঙ্গে পাঁচবার বৈঠক করে সেই প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। ভবিষ্যতে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু এবং পিপিপি মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘বাজেট এয়ারক্রাফট’ বা সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলেও তিনি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে দেশে গণতন্ত্র না থাকায় এভিয়েশন খাতে কোনো উপযুক্ত নীতি-পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও জাতীয় এয়ারলাইনকে শক্তিশালী করতে হবে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর ‘সফট ওপেনিং’ এবং আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের তুলনায় এবার আমরা এমন একটি “উইন-উইন” চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি, যেখানে বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’
কনক্লেভে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। এ ছাড়া উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেবিচকের সদস্য এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এমডি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, টাস গ্রুপের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক এবং ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।
দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে দেশি-বিদেশি চার শতাধিক প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
.png)






