নাটোরে আম সংগ্রহ শুরু, ৪০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নাটোর

নাটোরে আম সংগ্রহ শুরু, ৪০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা। ছবি: সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের চতুর্থ বৃহৎ আম উৎপাদনকারী জেলা নাটোরে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের আম সংগ্রহ। শুক্রবার (১৫ মে) থেকে জেলার বিভিন্ন বাগানে গুটি ও বৈশাখী জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও বাম্পার ফলনে এবার জেলায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি আম-বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ ও বাগানমালিকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা যায়, এ বছর নাটোরে ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফলন হলে ৬০ টাকা গড় দরে এ বছর জেলায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি আমবাণিজ্য হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান জানান, গত মৌসুমে নাটোরে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আমবাণিজ্য হয়েছিল। তবে এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় সেই পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকা অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আম উৎপাদনে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে উত্তরাঞ্চলের চতুর্থ বৃহৎ আম উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে নাটোরের পরিচিতি তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নাটোরে আম সংগ্রহ শুরু। ছবি: সংগৃহীত
নাটোরে আম সংগ্রহ শুরু। ছবি: সংগৃহীত

সদর উপজেলার বাগানমালিক ইউসুফ আহমেদ বলেন, এ বছর আমার বাগানে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৮০টি আম গাছ রয়েছে। আজ থেকে গুটি ও বৈশাখী জাতের আম সংগ্রহ শুরু করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। এখন বাজারে দাম ভালো পেলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

আমচাষিরা জানান, সময়মতো বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার আমের গুটি কম ঝরেছে। গাছে আমের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে।

নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত আম নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আম সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনা মেনেই আম সংগ্রহ করছেন চাষিরা। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৫ মে গোপালভোগ, ৩০ মে ক্ষীরশাপাত, ৫ জুন লক্ষ্মণভোগ, ১৫ জুন ল্যাংড়া ও আম্রপালি, ২৫ জুন মোহনভোগ ও হাড়িভাঙ্গা, ৩০ জুন ফজলি, ৫ জুলাই মল্লিকা, ১৫ জুলাই বারি-৪, ২০ জুলাই আশ্বিনা এবং ১০ আগস্ট গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে।

নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানান, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে আম সংগ্রহ করলে ভোক্তারা নিরাপদ ও পরিপক্ব আম পাবেন। একই সঙ্গে ফলের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং বিপণন ও পরিবহনে যাতে কোনো বাধা না থাকে, সে বিষয়েও প্রশাসন কাজ করছে।

সম্পর্কিত