জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী করা নিয়ে প্রসিকিউটরদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী তামীমের বিরুদ্ধে লেনদেনের মাধ্যমে আসামিদের রাজসাক্ষী করার অভিযোগ তুলেছেন। স্ট্রিম গ্রাফিক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিদায়ের দিনেই প্রসিকিউশন টিমের অভ্যন্তরে ‘রাজসাক্ষী’ (অ্যাপ্রুভার) করা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আসামিদের রাজসাক্ষী করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে অভিযুক্ত প্রসিকিউটররা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁরা একে বৈশ্বিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি স্বীকৃত আইনি কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ভারী ব্যাগের অভিযোগ ও তামীমের ভূমিকা

অভিযোগের মূলে রয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। সোমবার ফেসবুকে এক মন্তব্যে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করেন, গত নভেম্বরের শেষ দিকে আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলার আসামি এসআই আবজালুল হকের স্ত্রী সন্ধ্যার দিকে একটি ‘ভারী ব্যাগ’ নিয়ে প্রসিকিউটর তামীমের কক্ষে ঢোকেন। সুলতান মাহমুদের দাবি, বিষয়টি তিনি তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটরকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁকে বকাঝকা করা হয়। পরবর্তীতে ওই মামলায় এসআই আবজালুল হককে রাজসাক্ষী করে খালাস দেওয়া হয়।

‘তাজুল সিন্ডিকেট’ ও রাজসাক্ষী বিতর্ক

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ এই প্রক্রিয়াকে ‘তাজুল সিন্ডিকেটের’ অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুনকে রাজসাক্ষী করে মাত্র পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ ছাড়া রংপুর ও চানখারপুল এলাকার নির্দিষ্ট মামলার আসামিদের রেহাই দিয়ে সাক্ষী করার সমালোচনাও করেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সাবেক আইজিপি মামুনকে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল।

তামীম ও মিজানুলের পাল্টা বক্তব্য

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অপ্রত্যাশিত বলে দাবি করেছেন। তিনি ‘স্ট্রিম’-কে বলেন, “ক্রিমিনাল জুরিসপ্রুডেন্সে অ্যাপ্রুভার করা প্রসিকিউশনের বড় আইনি সাফল্য। পদ্ধতিগতভাবে সবকিছু হওয়ার পর এমন অভিযোগ অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্ত, কেউ কিছু প্রমাণ করতে পারবে না।” তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে আসামিকে সাক্ষী হওয়ার প্রস্তাব (অফার) দেওয়া হয় যাতে ভেতরের তথ্য পাওয়া যায়; এখানে উল্টো অভিযোগ আনা হচ্ছে।

অপর প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সুলতান মাহমুদের অভিযোগকে ‘ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করেন। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি নাকচ করে তিনি বলেন, “অ্যাপ্রুভার হতে টাকা লাগে না, টাকা দিতেও হয় না। অপরাধ প্রমাণে ‘চেইন অব কমান্ড’ নিশ্চিত করতে ভেতরের কাউকে সাক্ষী করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর গুলির আদেশ কার মাধ্যমে কার কাছে গেছে, তা জানতে মাধ্যম বা ইনসাইডার প্রয়োজন হয়।”

Ad 300x250

সম্পর্কিত