ত্রয়োদশ সংসদে সরকারের তীব্র বিরোধিতা করলেও, অধিবেশনের ফাঁকে বিরতিতে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত খোশগল্পে জামায়াত নেতাদের দেখা যায়।
সালেহ ফুয়াদ

বিএনপি সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করায় ক্ষুব্ধ জামায়াতে ইসলামী। সংসদ নির্বাচন, পরে উপনির্বাচন নিয়েও সরাসরি অভিযোগ ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’। তবে সরকারের প্রথম তিন মাসে প্রধান এই বিরোধী দল শক্ত আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও, মাঠে ছিল নামকাওয়াস্তে।
বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াত ও তাদের ১১-দলীয় শরিকরা বিক্ষোভ, সভা-সেমিনার, লিফলেট বিতরণ করে দায় সেরেছে। দল সূত্রের দাবি, সরকারকে ‘চটাতে’ চায় না বলে আপাতত কঠোর কর্মসূচি এড়িয়ে চলছে জামায়াত। নেতাদের ভাষ্য, সরকার সবে শুরু করেছে। তাদের সময় দেওয়া দরকার। কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সময় মতো ঠিকই ‘চেপে’ ধরা হবে।
এ ব্যাপারে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্ট্রিমকে বলেছেন, ‘কেবল সরকারের শুরু, আমরা এখনই তাদের বিদায় করে দিতে চাচ্ছি না। সরকার পরিচালনা করুক। আমরা চাই– তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুক।’ তবে তিনি এও বলেন, ‘গণভোটের রায়ের সঙ্গে বিএনপি যে দ্বিচারিতা করল, তা জনগণের কাছে তুলে ধরতে সমাবেশ, জনমত গঠন, এমনকি সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন করার মতো নিয়মতান্ত্রিক সব পন্থা হাতে রয়েছে।’
জুলাই সনদ নিয়ে সরকারে ‘আস্থা’
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করাকে প্রতারণার শামিল মনে করেন বিরোধী জোটের নেতারা। তবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতিতে জোটের অনেক নেতার আস্থা রয়েছে। গত ২০ এপ্রিল বগুড়ায় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।’
এই বক্তব্য টেনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের দুজন সদস্য স্ট্রিমকে বলেছেন, নির্বাচনের আগেও বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্বাচনের পরেও সরকারের শীর্ষস্থানীয়রা সংসদে দাঁড়িয়ে সনদ বাস্তবায়নের ওয়াদা করেছেন। পূর্ণাঙ্গ না হলেও বিএনপি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে– এটাই আমরা বিশ্বাস করি। তারা একেবারে ছুড়ে ফেলবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাহী সদস্য বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংসদের ভেতরে ও বাইরে জামায়াত সরব থাকবেন। কোনো অবস্থাতেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপির সঙ্গে ‘চরম শত্রুতা’ সৃষ্টি করতে চান না দলের বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
আরেক নির্বাহী সদস্য উদাহরণ দিয়ে বলেন, গত তিন মাসে জামায়াত কী করেছে, তাতে বার্তা স্পষ্ট। সংসদে সরকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। রাজপথেও সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোকে নিয়ে কর্মসূচি দিয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরও কড়া কর্মসূচি দেওয়া হবে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে জামায়াত নেতারা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য বজায় রাখছেন। আপাতত এটাই দলীয় নীতি।
সখ্য মাঠের তথ্যে
জামায়াতের কর্মসূচিতেও মেলে দলটির গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার বক্তব্যের সত্যতা। মুখে রাজনৈতিক বিরোধিতা করলেও, জামায়াতের নেতারা সখ্য বজায় রাখছেন। গত ১৩ মে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারের লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামসহ শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের বাইরে একমাত্র অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের প্রয়াত নেতাদের সঙ্গে নিজের স্মৃতি রোমন্থন এবং কারাগারে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কাটানো সময় নিয়ে আপ্লুত বক্তৃতা করেন এ্যানি। তিনি বলেন, ‘আপনারা দোয়া করবেন, সংসদে যেভাবে কথা বলি, আমরা যেন মিলেমিশে বাইরেও সেটা রাখতে পারি। সংসদ আর বাইরের কিছুটা হলেও পার্থক্য রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি থাকা উচিত না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম আমাদের (বিএনপি-জামায়াতকে) চ্যালেঞ্জ নিয়ে করতে হয়েছে। সবাই দেশটা নতুনভাবে গড়ব– এটাই তো আমাদের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশার জায়গা থেকে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিরোধী দলের অনুষ্ঠানে সরকারি দলের শীর্ষ ও প্রভাবশালী নেতাদের উপস্থিতি নজিরবিহীন না হলেও কিছুটা বিরল! কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদে সরকারের তীব্র বিরোধিতা করলেও, অধিবেশনের ফাঁকে বিরতিতে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে খোশগল্পে জামায়াত নেতাদের দেখা যায়।
এ ব্যাপারে জামায়াতের একাধিক নেতা স্ট্রিমকে জানান, সরকারের সঙ্গে শুরুতেই ‘সাপে-নেউলে’ সম্পর্ক তৈরি হোক, তা চান না তারা। দলও মনে করে, গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় যেতে হলে ক্যাডারভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে গণভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে। বিএনপি সরকারকে শত্রু বানালে আওয়ামী আমলের মতো দমন-পীড়ন নেমে আসতে পারে। তাতে লক্ষ্যচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
নেতারা বলছেন, এর বাইরে আওয়ামী লীগকে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে না দেওয়ার জন্য জুলাই আন্দোলনের শক্তির মধ্যে ইতিবাচক বোঝাপড়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে জামায়াত। এই কারণেও বিএনপির সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করতে চায় দলটি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা তো জ্বালাও-পোড়াওয়ের সেই সংস্কৃতিতে দেশবাসীকে যেতে দিতে চাই না। সরকারকেও আমাদের ব্যাপারে মনোযোগ দিতে বলব। কারণ, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে শ্রদ্ধা না রাখলে একটা সময় কিন্তু এই ব্যাকরণ (গ্রামার) ঠিক থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কারও শেখানো আন্দোলন নয়, আমরা গঠনমূলক এবং দায়িত্বশীল বিরোধী দল হতে চাই। সংসদে আমাদের নেতা (আমির ডা. শফিকুর রহমান) অনেকবার এই কথা বলেছেন।’
ছক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের
আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গত ১৯ মে বগুড়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এক বছরের মধ্যে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন– এ পাঁচ ধরনের নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এরপর ২১ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জানান, দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও প্রায় ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে তাদের।
জামায়াত নেতারা বলছেন, নির্বাচনমুখী দল হিসেবে তাঁরা স্থানীয় নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে বাছাইয়ের মাধ্যমে সিটি নির্বাচনে দলীয় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণাও হয়েছে।
ঢাকা সিটির বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ঢাকার দুই সিটির মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত। তফসিল ঘোষণার আগে-পরে তাদের নাম জানানো হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের এক জামায়াত নেতা জানান, স্থানীয় সমস্যার পাশাপাশি ভোটের প্রচারে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা, জুলাই অভ্যুত্থানকে ধারণ না করাসহ চলমান ইস্যুগুলো বিএনপির বিরুদ্ধে ফোকাস করবেন তাঁরা। নির্বাচনের আগে সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো আন্দোলনে গেলে দলেরই ক্ষতি হবে। মামলা, বিবাদে ভোটের প্রচারে ব্যাঘাত ঘটবে।
মাঠে না থাকলেও সংসদে সোচ্চার থাকার কথা জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা। জুলাই অভ্যুত্থানকে জাগিয়ে তুলতে সামনে রাজপথেও কর্মসূচি করা হবে। বিশেষ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল, তখন সেসব ইস্যু ধরে আন্দোলনের চেষ্টা করেছি। এক একটি ইস্যুর কারণে আন্দোলনের ধরনও একেক রকম হয়। আমাদের এখনকার ইস্যু রাজনৈতিক। আমরা কারও উসকানিতে পা দেব না।’

বিএনপি সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করায় ক্ষুব্ধ জামায়াতে ইসলামী। সংসদ নির্বাচন, পরে উপনির্বাচন নিয়েও সরাসরি অভিযোগ ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’। তবে সরকারের প্রথম তিন মাসে প্রধান এই বিরোধী দল শক্ত আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও, মাঠে ছিল নামকাওয়াস্তে।
বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াত ও তাদের ১১-দলীয় শরিকরা বিক্ষোভ, সভা-সেমিনার, লিফলেট বিতরণ করে দায় সেরেছে। দল সূত্রের দাবি, সরকারকে ‘চটাতে’ চায় না বলে আপাতত কঠোর কর্মসূচি এড়িয়ে চলছে জামায়াত। নেতাদের ভাষ্য, সরকার সবে শুরু করেছে। তাদের সময় দেওয়া দরকার। কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সময় মতো ঠিকই ‘চেপে’ ধরা হবে।
এ ব্যাপারে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্ট্রিমকে বলেছেন, ‘কেবল সরকারের শুরু, আমরা এখনই তাদের বিদায় করে দিতে চাচ্ছি না। সরকার পরিচালনা করুক। আমরা চাই– তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুক।’ তবে তিনি এও বলেন, ‘গণভোটের রায়ের সঙ্গে বিএনপি যে দ্বিচারিতা করল, তা জনগণের কাছে তুলে ধরতে সমাবেশ, জনমত গঠন, এমনকি সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন করার মতো নিয়মতান্ত্রিক সব পন্থা হাতে রয়েছে।’
জুলাই সনদ নিয়ে সরকারে ‘আস্থা’
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করাকে প্রতারণার শামিল মনে করেন বিরোধী জোটের নেতারা। তবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতিতে জোটের অনেক নেতার আস্থা রয়েছে। গত ২০ এপ্রিল বগুড়ায় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।’
এই বক্তব্য টেনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের দুজন সদস্য স্ট্রিমকে বলেছেন, নির্বাচনের আগেও বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্বাচনের পরেও সরকারের শীর্ষস্থানীয়রা সংসদে দাঁড়িয়ে সনদ বাস্তবায়নের ওয়াদা করেছেন। পূর্ণাঙ্গ না হলেও বিএনপি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে– এটাই আমরা বিশ্বাস করি। তারা একেবারে ছুড়ে ফেলবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাহী সদস্য বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংসদের ভেতরে ও বাইরে জামায়াত সরব থাকবেন। কোনো অবস্থাতেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপির সঙ্গে ‘চরম শত্রুতা’ সৃষ্টি করতে চান না দলের বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
আরেক নির্বাহী সদস্য উদাহরণ দিয়ে বলেন, গত তিন মাসে জামায়াত কী করেছে, তাতে বার্তা স্পষ্ট। সংসদে সরকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। রাজপথেও সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোকে নিয়ে কর্মসূচি দিয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরও কড়া কর্মসূচি দেওয়া হবে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে জামায়াত নেতারা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য বজায় রাখছেন। আপাতত এটাই দলীয় নীতি।
সখ্য মাঠের তথ্যে
জামায়াতের কর্মসূচিতেও মেলে দলটির গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার বক্তব্যের সত্যতা। মুখে রাজনৈতিক বিরোধিতা করলেও, জামায়াতের নেতারা সখ্য বজায় রাখছেন। গত ১৩ মে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারের লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামসহ শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের বাইরে একমাত্র অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের প্রয়াত নেতাদের সঙ্গে নিজের স্মৃতি রোমন্থন এবং কারাগারে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কাটানো সময় নিয়ে আপ্লুত বক্তৃতা করেন এ্যানি। তিনি বলেন, ‘আপনারা দোয়া করবেন, সংসদে যেভাবে কথা বলি, আমরা যেন মিলেমিশে বাইরেও সেটা রাখতে পারি। সংসদ আর বাইরের কিছুটা হলেও পার্থক্য রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি থাকা উচিত না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম আমাদের (বিএনপি-জামায়াতকে) চ্যালেঞ্জ নিয়ে করতে হয়েছে। সবাই দেশটা নতুনভাবে গড়ব– এটাই তো আমাদের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশার জায়গা থেকে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিরোধী দলের অনুষ্ঠানে সরকারি দলের শীর্ষ ও প্রভাবশালী নেতাদের উপস্থিতি নজিরবিহীন না হলেও কিছুটা বিরল! কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদে সরকারের তীব্র বিরোধিতা করলেও, অধিবেশনের ফাঁকে বিরতিতে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে খোশগল্পে জামায়াত নেতাদের দেখা যায়।
এ ব্যাপারে জামায়াতের একাধিক নেতা স্ট্রিমকে জানান, সরকারের সঙ্গে শুরুতেই ‘সাপে-নেউলে’ সম্পর্ক তৈরি হোক, তা চান না তারা। দলও মনে করে, গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় যেতে হলে ক্যাডারভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে গণভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে। বিএনপি সরকারকে শত্রু বানালে আওয়ামী আমলের মতো দমন-পীড়ন নেমে আসতে পারে। তাতে লক্ষ্যচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
নেতারা বলছেন, এর বাইরে আওয়ামী লীগকে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে না দেওয়ার জন্য জুলাই আন্দোলনের শক্তির মধ্যে ইতিবাচক বোঝাপড়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে জামায়াত। এই কারণেও বিএনপির সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করতে চায় দলটি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা তো জ্বালাও-পোড়াওয়ের সেই সংস্কৃতিতে দেশবাসীকে যেতে দিতে চাই না। সরকারকেও আমাদের ব্যাপারে মনোযোগ দিতে বলব। কারণ, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে শ্রদ্ধা না রাখলে একটা সময় কিন্তু এই ব্যাকরণ (গ্রামার) ঠিক থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কারও শেখানো আন্দোলন নয়, আমরা গঠনমূলক এবং দায়িত্বশীল বিরোধী দল হতে চাই। সংসদে আমাদের নেতা (আমির ডা. শফিকুর রহমান) অনেকবার এই কথা বলেছেন।’
ছক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের
আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গত ১৯ মে বগুড়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এক বছরের মধ্যে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন– এ পাঁচ ধরনের নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এরপর ২১ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জানান, দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও প্রায় ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে তাদের।
জামায়াত নেতারা বলছেন, নির্বাচনমুখী দল হিসেবে তাঁরা স্থানীয় নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে বাছাইয়ের মাধ্যমে সিটি নির্বাচনে দলীয় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণাও হয়েছে।
ঢাকা সিটির বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ঢাকার দুই সিটির মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত। তফসিল ঘোষণার আগে-পরে তাদের নাম জানানো হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের এক জামায়াত নেতা জানান, স্থানীয় সমস্যার পাশাপাশি ভোটের প্রচারে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা, জুলাই অভ্যুত্থানকে ধারণ না করাসহ চলমান ইস্যুগুলো বিএনপির বিরুদ্ধে ফোকাস করবেন তাঁরা। নির্বাচনের আগে সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো আন্দোলনে গেলে দলেরই ক্ষতি হবে। মামলা, বিবাদে ভোটের প্রচারে ব্যাঘাত ঘটবে।
মাঠে না থাকলেও সংসদে সোচ্চার থাকার কথা জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা। জুলাই অভ্যুত্থানকে জাগিয়ে তুলতে সামনে রাজপথেও কর্মসূচি করা হবে। বিশেষ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল, তখন সেসব ইস্যু ধরে আন্দোলনের চেষ্টা করেছি। এক একটি ইস্যুর কারণে আন্দোলনের ধরনও একেক রকম হয়। আমাদের এখনকার ইস্যু রাজনৈতিক। আমরা কারও উসকানিতে পা দেব না।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের ৪৮টি ওয়ার্ডে সাংগঠনিক বিস্তৃতি ও আহ্বায়ক কমিটি প্রস্তুতির জন্য সমন্বয় কমিটি হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।
১ দিন আগে
কার্যকর পরিকল্পনা ছাড়া বাজেটের আকার বৃদ্ধি দেশের জন্য কোনো সুফল আনবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। রোববার (২৪ মে) পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য একগুচ্ছ প্রস্তাব উপস্থাপন করে দলটি।
১ দিন আগে
ঝিনাইদহ ছাত্রদলের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে একই মামলায় জাতীয় যুবশক্তির সংগঠক অয়ন রহমান খান জামিন পাননি।
১ দিন আগে