নাজিয়া আফরিন

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া রামিসার ছবিগুলোর মধ্যে একটিতে বারবার আমার চোখ আটকে যাচ্ছিল। ছবিতে শাড়ি পরা রামিসাকে বয়সের তুলনায় বেশ বড় দেখাচ্ছে। অভিব্যক্তিতেও বেশ পরিপক্বতার ছাপ। ছবিটি প্রথম কে পোস্ট করল? কেন পোস্ট করল? সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এখন অবান্তর। কিন্তু এই ছবি এখন ব্যক্তিগত স্ট্যাটাস থেকে প্রতিষ্ঠিত সংবাদ মাধ্যমের থাম্বনেইল—সবখানে।
একটি শিশুকে আনুষ্ঠানিক পোশাক, বড়দের সাজ আর পরিপক্ব অভিব্যক্তিতে উপস্থাপনের বিষয়টি নিছক দুর্ঘটনা নয়। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুরে ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয় ৬ বছরের শিশু জয়নব। দৈনিক পত্রিকা ডন জয়নব হত্যাকাণ্ডের মিডিয়া কভারেজ বিশ্লেষণ করে দেখেছে শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ৭৬ শতাংশ কন্টেন্ট সংবেদনশীলতার মাত্রা লঙ্ঘন করে। বাংলাদেশের চিত্রও ভিন্ন নয়। আর ডিজিটাল মিডিয়ার উত্থানে এই পরিস্থিতি গুরুতর হয়েছে। এই অঞ্চলে সংবাদমাধ্যম যেন একটি অলিখিত ফর্মুলা অনুসরণ করে—শিশুকে বড় দেখিয়ে ঘটনার যৌনায়নের মাধ্যমে পাঠককে আটকে রাখে।
ইউনিসেফের বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স স্পষ্টভাষায় বলেছেন, উদ্দীপনা সৃষ্টি না করে সংবাদমাধ্যমকে অবশ্যই শিশু ভুক্তভোগীর পরিচয়, গোপনীয়তা এবং মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। কিন্তু এই আহ্বান বাংলাদেশের ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম অব্দি পৌঁছায় না। কারণ সেখানে পৌঁছানোর জন্য নৈতিকতার কোনো দরজা খোলা নেই।
ঘটনার প্রথম দিন থেকেই দেশের প্রায় সব অনলাইন পোর্টাল এবং টেলিভিশন চ্যানেল শিরোনাম করেছে ‘রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা’; অথচ সেই মুহূর্তে না ছিল ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, না ছিল ডিএনএ পরীক্ষার ফল; এমনকি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের মতামতও ছিল না। ছিল কেবল পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তের মৌখিক স্বীকারোক্তি, যা আইনের চোখে কোনো প্রমাণ নয়। তার মানে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যম রায় ঘোষণা করে দিয়েছিল।
সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি আমাদের শেখায়, অভিযোগ আর প্রমাণ এক নয়। কিন্তু বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের কাছে এই পার্থক্য এখন বিজ্ঞাপন আর মনিটাইজেশনের পথে বাধা। বেশি ক্লিকের তাড়নায় একটি শিশুর ধর্ষণ আর মৃত্যু হয়ে ওঠে রেডিমেড বয়ান। তদন্ত নয় বিনোদনই তখন মুখ্য।
আরেকটি গুরুতর প্রবণতা লক্ষ করা গেছে এই কভারেজে। একাধিক সংবাদমাধ্যমে অভিযুক্ত সোহেল রানার ‘যৌন রুচি’, ‘বিকৃত যৌনাচার’, ‘পূর্ববর্তী আচরণ’ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেন পাঠক একটি রোমহর্ষক ক্রাইম-থ্রিলার পড়ছেন। এই বিবরণগুলো কি তদন্তে সাহায্য করে? বিচার ত্বরান্বিত করে? না। এগুলো কেবল পাঠকের কল্পনাকে উস্কে দিয়ে উত্তেজনা বাড়ায়।
রয়টার্স ইন্সটিউট ফর দ্যা স্টাডি অব জার্নালিজমের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শীর্ষ চারটি পত্রিকায় যৌন সহিংসতার ৩৬ শতাংশ প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীকে ‘অসহায় শিকার’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, সংকটের গভীর কাঠামো তুলে ধরেনি। হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স কমিউনিকেশন্সে প্রকাশিত একটি একাডেমিক গবেষণায় দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের শিশু যৌন নিপীড়নের সংবাদ পরিবেশনায় ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ, অনৈতিক বিস্তারিত বিবরণ এবং শিশু অধিকারের প্রতি সুস্পষ্ট অবজ্ঞা নিয়মিত চর্চা।
এই চর্চার নাম কী? একে বলা যায় ‘ট্রমা পর্ন’—মানুষের ব্যক্তিগত গভীর যন্ত্রণাকে বিনোদনে রূপান্তরিত করার শিল্প।
এই নৈতিকতার অনুপস্থিতি কেবল সাংস্কৃতিক সমস্যা নয়, এটি একটি সুস্পষ্ট আইনি লঙ্ঘন। বাংলাদেশে এই বিষয়ে দুটি আইন সরাসরি প্রযোজ্য, যার অস্তিত্ব সংবাদমাধ্যম যেন ভুলেই গেছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১৪(১) একেবারে পরিষ্কার ভাষায় বলছে: ধর্ষণের শিকার বা ধর্ষণে নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ পায়—এমন কোনো তথ্য সংবাদ প্রকাশে ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৩৫ আরও বিস্তৃত সুরক্ষা দেয়। এই আইনে বলা হয়েছে, শিশু আদালতে বিচারাধীন যেকোনো মামলায় অভিযুক্ত, ভুক্তভোগী বা সাক্ষী—যে-ই হোক কোনো মুদ্রণ বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় এমন কোনো ছবি, বিবরণ বা সংবাদ প্রকাশ করা নিষিদ্ধ যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিশুটিকে শনাক্ত করার সুযোগ দেয়। শুধু আদালতের বিশেষ অনুমতিতেই এর ব্যতিক্রম সম্ভব। একই আইনের ধারা ৫৪(৩)(ক) বিচারিক কার্যক্রমে শিশুর গোপনীয়তা রক্ষার আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেয় আদালতকে।
তাহলে রামিসার শাড়ি পরা ছবি কি এই আইন ভেঙে ছড়ানো হয়েছে? হ্যাঁ। তার পুরো নাম বারবার শিরোনামে ব্যবহার কি আইন লঙ্ঘন? হ্যাঁ। এই লঙ্ঘনের জন্য এখন পর্যন্ত একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সত্যিকারের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রশ্ন করত, রামিসার ভবনে কি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল? সোহেল রানার বিরুদ্ধে আগে কোনো অভিযোগ এসেছিল কি? মা কতক্ষণ ধরে দরজা ধাক্কালেন? পুলিশ কতক্ষণ পরে পৌঁছেছিল? ঘটনাস্থলে তৃতীয় ব্যক্তি কে ছিলেন? ময়নাতদন্ত রিপোর্ট কতদিনে আসবে? কিন্তু এই প্রশ্নগুলো পরিশ্রমসাধ্য। ক্লিক দেয় না। তার চেয়ে সহজ—রক্তমাখা অপরাধস্থল খুটিনাটি দেখিয়ে দেয়া, মায়ের কান্নার ক্লোজআপ, বাবার ভাঙা কণ্ঠস্বর, বড়দের সাজে একটি শিশুর ছবি।
শেষ প্রশ্নটি সবচেয়ে অস্বস্তিকর। এই পর্নোগ্রাফিক কভারেজ কারা পড়ছে? কারা শেয়ার করছে? আমরা যারা আবেগে ভেসে রিপোস্ট করছি, হ্যাশট্যাগ দিচ্ছি, স্ট্যাটাস দিচ্ছি—আমরাও কি এই কভারেজের বাজার তৈরি করছি না?
সংবাদমাধ্যম সংস্কারের আগে প্রয়োজন পাঠকের সচেতন হওয়া। রামিসার শাড়ি পরা ছবি শেয়ার না করা, তার মৃত্যুর বিস্তারিত বিবরণ উপভোগ না করা, অসংবেদনশীল শিরোনামে ক্লিক না করা। প্রশ্ন তুলতে হবে—ফরেনসিক রিপোর্ট কোথায়? শিশু আইনের ৩৫ ধারা লঙ্ঘনকারী সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা কোথায়? বিচার কবে শেষ হবে?
রামিসাকে সম্মান দিতে হলে তার মৃত্যুকে কন্টেন্ট বানানো বন্ধ করতে হবে।
লেখক: শিক্ষক, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস; সাংবাদিক

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া রামিসার ছবিগুলোর মধ্যে একটিতে বারবার আমার চোখ আটকে যাচ্ছিল। ছবিতে শাড়ি পরা রামিসাকে বয়সের তুলনায় বেশ বড় দেখাচ্ছে। অভিব্যক্তিতেও বেশ পরিপক্বতার ছাপ। ছবিটি প্রথম কে পোস্ট করল? কেন পোস্ট করল? সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এখন অবান্তর। কিন্তু এই ছবি এখন ব্যক্তিগত স্ট্যাটাস থেকে প্রতিষ্ঠিত সংবাদ মাধ্যমের থাম্বনেইল—সবখানে।
একটি শিশুকে আনুষ্ঠানিক পোশাক, বড়দের সাজ আর পরিপক্ব অভিব্যক্তিতে উপস্থাপনের বিষয়টি নিছক দুর্ঘটনা নয়। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুরে ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয় ৬ বছরের শিশু জয়নব। দৈনিক পত্রিকা ডন জয়নব হত্যাকাণ্ডের মিডিয়া কভারেজ বিশ্লেষণ করে দেখেছে শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ৭৬ শতাংশ কন্টেন্ট সংবেদনশীলতার মাত্রা লঙ্ঘন করে। বাংলাদেশের চিত্রও ভিন্ন নয়। আর ডিজিটাল মিডিয়ার উত্থানে এই পরিস্থিতি গুরুতর হয়েছে। এই অঞ্চলে সংবাদমাধ্যম যেন একটি অলিখিত ফর্মুলা অনুসরণ করে—শিশুকে বড় দেখিয়ে ঘটনার যৌনায়নের মাধ্যমে পাঠককে আটকে রাখে।
ইউনিসেফের বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স স্পষ্টভাষায় বলেছেন, উদ্দীপনা সৃষ্টি না করে সংবাদমাধ্যমকে অবশ্যই শিশু ভুক্তভোগীর পরিচয়, গোপনীয়তা এবং মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। কিন্তু এই আহ্বান বাংলাদেশের ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম অব্দি পৌঁছায় না। কারণ সেখানে পৌঁছানোর জন্য নৈতিকতার কোনো দরজা খোলা নেই।
ঘটনার প্রথম দিন থেকেই দেশের প্রায় সব অনলাইন পোর্টাল এবং টেলিভিশন চ্যানেল শিরোনাম করেছে ‘রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা’; অথচ সেই মুহূর্তে না ছিল ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, না ছিল ডিএনএ পরীক্ষার ফল; এমনকি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের মতামতও ছিল না। ছিল কেবল পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তের মৌখিক স্বীকারোক্তি, যা আইনের চোখে কোনো প্রমাণ নয়। তার মানে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যম রায় ঘোষণা করে দিয়েছিল।
সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি আমাদের শেখায়, অভিযোগ আর প্রমাণ এক নয়। কিন্তু বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের কাছে এই পার্থক্য এখন বিজ্ঞাপন আর মনিটাইজেশনের পথে বাধা। বেশি ক্লিকের তাড়নায় একটি শিশুর ধর্ষণ আর মৃত্যু হয়ে ওঠে রেডিমেড বয়ান। তদন্ত নয় বিনোদনই তখন মুখ্য।
আরেকটি গুরুতর প্রবণতা লক্ষ করা গেছে এই কভারেজে। একাধিক সংবাদমাধ্যমে অভিযুক্ত সোহেল রানার ‘যৌন রুচি’, ‘বিকৃত যৌনাচার’, ‘পূর্ববর্তী আচরণ’ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেন পাঠক একটি রোমহর্ষক ক্রাইম-থ্রিলার পড়ছেন। এই বিবরণগুলো কি তদন্তে সাহায্য করে? বিচার ত্বরান্বিত করে? না। এগুলো কেবল পাঠকের কল্পনাকে উস্কে দিয়ে উত্তেজনা বাড়ায়।
রয়টার্স ইন্সটিউট ফর দ্যা স্টাডি অব জার্নালিজমের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শীর্ষ চারটি পত্রিকায় যৌন সহিংসতার ৩৬ শতাংশ প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীকে ‘অসহায় শিকার’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, সংকটের গভীর কাঠামো তুলে ধরেনি। হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স কমিউনিকেশন্সে প্রকাশিত একটি একাডেমিক গবেষণায় দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের শিশু যৌন নিপীড়নের সংবাদ পরিবেশনায় ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ, অনৈতিক বিস্তারিত বিবরণ এবং শিশু অধিকারের প্রতি সুস্পষ্ট অবজ্ঞা নিয়মিত চর্চা।
এই চর্চার নাম কী? একে বলা যায় ‘ট্রমা পর্ন’—মানুষের ব্যক্তিগত গভীর যন্ত্রণাকে বিনোদনে রূপান্তরিত করার শিল্প।
এই নৈতিকতার অনুপস্থিতি কেবল সাংস্কৃতিক সমস্যা নয়, এটি একটি সুস্পষ্ট আইনি লঙ্ঘন। বাংলাদেশে এই বিষয়ে দুটি আইন সরাসরি প্রযোজ্য, যার অস্তিত্ব সংবাদমাধ্যম যেন ভুলেই গেছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১৪(১) একেবারে পরিষ্কার ভাষায় বলছে: ধর্ষণের শিকার বা ধর্ষণে নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ পায়—এমন কোনো তথ্য সংবাদ প্রকাশে ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৩৫ আরও বিস্তৃত সুরক্ষা দেয়। এই আইনে বলা হয়েছে, শিশু আদালতে বিচারাধীন যেকোনো মামলায় অভিযুক্ত, ভুক্তভোগী বা সাক্ষী—যে-ই হোক কোনো মুদ্রণ বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় এমন কোনো ছবি, বিবরণ বা সংবাদ প্রকাশ করা নিষিদ্ধ যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিশুটিকে শনাক্ত করার সুযোগ দেয়। শুধু আদালতের বিশেষ অনুমতিতেই এর ব্যতিক্রম সম্ভব। একই আইনের ধারা ৫৪(৩)(ক) বিচারিক কার্যক্রমে শিশুর গোপনীয়তা রক্ষার আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেয় আদালতকে।
তাহলে রামিসার শাড়ি পরা ছবি কি এই আইন ভেঙে ছড়ানো হয়েছে? হ্যাঁ। তার পুরো নাম বারবার শিরোনামে ব্যবহার কি আইন লঙ্ঘন? হ্যাঁ। এই লঙ্ঘনের জন্য এখন পর্যন্ত একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সত্যিকারের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রশ্ন করত, রামিসার ভবনে কি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল? সোহেল রানার বিরুদ্ধে আগে কোনো অভিযোগ এসেছিল কি? মা কতক্ষণ ধরে দরজা ধাক্কালেন? পুলিশ কতক্ষণ পরে পৌঁছেছিল? ঘটনাস্থলে তৃতীয় ব্যক্তি কে ছিলেন? ময়নাতদন্ত রিপোর্ট কতদিনে আসবে? কিন্তু এই প্রশ্নগুলো পরিশ্রমসাধ্য। ক্লিক দেয় না। তার চেয়ে সহজ—রক্তমাখা অপরাধস্থল খুটিনাটি দেখিয়ে দেয়া, মায়ের কান্নার ক্লোজআপ, বাবার ভাঙা কণ্ঠস্বর, বড়দের সাজে একটি শিশুর ছবি।
শেষ প্রশ্নটি সবচেয়ে অস্বস্তিকর। এই পর্নোগ্রাফিক কভারেজ কারা পড়ছে? কারা শেয়ার করছে? আমরা যারা আবেগে ভেসে রিপোস্ট করছি, হ্যাশট্যাগ দিচ্ছি, স্ট্যাটাস দিচ্ছি—আমরাও কি এই কভারেজের বাজার তৈরি করছি না?
সংবাদমাধ্যম সংস্কারের আগে প্রয়োজন পাঠকের সচেতন হওয়া। রামিসার শাড়ি পরা ছবি শেয়ার না করা, তার মৃত্যুর বিস্তারিত বিবরণ উপভোগ না করা, অসংবেদনশীল শিরোনামে ক্লিক না করা। প্রশ্ন তুলতে হবে—ফরেনসিক রিপোর্ট কোথায়? শিশু আইনের ৩৫ ধারা লঙ্ঘনকারী সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা কোথায়? বিচার কবে শেষ হবে?
রামিসাকে সম্মান দিতে হলে তার মৃত্যুকে কন্টেন্ট বানানো বন্ধ করতে হবে।
লেখক: শিক্ষক, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস; সাংবাদিক

একটা পিকআপ ভ্যানের পেছনে গাদাগাদি করে মানুষ উঠছে। একজন আরেকজনকে টেনে তুলছে। কয়েকজন উঠে পড়েছে এরইমধ্যে। কেউ ঝুলছে পেছনের রড ধরে। পাশেই এক তরুণী (দেখে মনে হলো গার্মেন্টসকর্মী) তাঁর বৃদ্ধা মাকে বলছিলেন, ‘মা, আর গাড়ি পাইমু না। এইডাতেই উইঠা পড়ো।’
৫ মিনিট আগে
বছর দুয়েক আগে, চব্বিশ সালের মে-জুন মাসে ঢাকার কোরবানির ঈদের গরুর বাজারে লাখ টাকার এক ছাগল কাণ্ডে তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল ডিজিটাল দুনিয়া। মিম, স্যাটায়ার আর অনলাইন ক্ষোভের আগুনে সেই ছাগল এমন এক প্রতীকে পরিণত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত সরকারের জন্য সাক্ষাৎ ডিজিটাল যম হয়ে দাঁড়ায়। তখন হয়তো কেউ বুঝতে পারেনি, কিন্ত
৩৮ মিনিট আগে
কোরবানি ঈদের আগ দিয়ে বাজারে কিছু সুখবর আছে। যেমন, বেড়ে যাওয়া ডিমের দাম কমে এসেছে। ব্রয়লার আর সোনালি মুরগির দামও। দাম আগের জায়গায় আসার ‘প্রত্যাশা’ থাকলেও সেটা কমই ঘটে। কারণ বাজারে সক্রিয় থাকে দাম বৃদ্ধির উপাদানগুলো। এরই মধ্যে তো ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাতে রাতারাতি বেড়েছে পণ্য পরিবহন ব্যয়। হালে ডি
৪ ঘণ্টা আগে
দেশজুড়ে যেন শিশু মৃত্যুর এক নীরব মিছিল নেমেছে—যে মিছিল প্রতিদিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। অথচ এই ভয়াবহ পরিস্থিতিও আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা প্রশাসনের মধ্যে তেমন কোনো বড় আলোড়ন তুলতে পারেনি। সংক্রমণ শুরুর দুই মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো সর্বাত্মক উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না
৪ ঘণ্টা আগে