‘এক সদস্যের চাপে’ আটকে আছে ইউজিসির সহকারী পরিচালক নিয়োগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ৪২
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)

সব ধাপ পেরিয়ে মৌখিক পরীক্ষার তারিখও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিক আগমুহূর্তে আটকে দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ১৫ সহকারী পরিচালক পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া। অভিযোগ উঠেছে, সংসদ নির্বাচনের পর কমিশনেরই এক সদস্যের চাপে এই নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে।

একই বিজ্ঞপ্তির অন্য পদের নিয়োগ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। ফলে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৭৮ চাকরিপ্রত্যাশী অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

গত বছরের ১১ আগস্ট ৩৮ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইউজিসি। এর মধ্যে সহকারী পরিচালকের ১৫ পদের বিপরীতে বহুনির্বাচনী পরীক্ষার (এমসিকিউ) জন্য নির্বাচিত হন ৭ হাজার ৩৪৮ জন। গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪১০ জনকে নিয়ে ২৬ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলে ৭৮ জন উত্তীর্ণ হন।

এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি এসব প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহেরও কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার মাত্র পাঁচ দিন আগে, ১৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ তা স্থগিত করে ইউজিসি।

কেন শেষ মুহূর্তে এই স্থগিতাদেশ—এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউজিসির নিয়োগ কমিটির এক সদস্য বলেন, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মাছুমা হাবিব চাপ দিয়ে এই নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে রেখেছেন। তাঁর কারণেই মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া যায়নি।

ওই সদস্য আরও অভিযোগ করেন, মূলত গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর তিনি (মাছুমা হাবিব) এমন তৎপরতা শুরু করেন। ইউজিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশও তাঁর সঙ্গে রয়েছেন।

হতাশা প্রকাশ করে মৌখিক পরীক্ষার জন্য অপেক্ষমাণ এক প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভাইভার তারিখ ঘোষণার পর আমরা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছি, ঠিক তখনই হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। একই বিজ্ঞপ্তির অন্য পদের নিয়োগগুলো হয়ে গেলেও শুধু আমাদেরটা আটকে থাকল। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের কারণে আমাদের ভবিষ্যৎ এভাবে ঝুলিয়ে রাখা হলে তা চরম অবিচার।’

যদিও এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মাছুমা হাবিব। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে একা আমার আপত্তিতে নিয়োগ বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই।’

এ ব্যাপারে জানতে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদকে মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও রিসিভ করেননি। ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম অবশ্য বলেন, নির্বাচনের কারণে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।

মৌখিক পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি। আর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার শপথগ্রহণ করে। ওই দিনই মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতের নোটিশ জারি করে ইউজিসি।

এ ব্যাপারে ইউজিসি সচিব বলেন, ‘কারও চাপে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে কিছু আমার জানা নেই। আমাদের অনেক কর্মকর্তা নির্বাচনী কাজে ছিল, এ জন্যই পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়।’

সম্পর্কিত