যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় ফের অস্থির তেলের বাজার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৩: ৩১
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় ফের অস্থির জ্বালানি বাজার। স্ট্রিম গ্রাফিক

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে সেপ্টেম্বর ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ দশমিক ৯৩ ডলারে ওঠে, যা জুনের মাঝামাঝির পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ৮৫ থেকে ৮৬ ডলারের মধ্যে লেনদেন হয়।

গত ১৮ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে চারটি অজ্ঞাত জাহাজ গতিরোধ করে দেশটির নৌবাহিনী। ইরানের দাবি, জাহাজগুলো অনিরাপদ নৌপথ ব্যবহার করছিল। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা দুটি জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ে যাত্রা বন্ধ করতে বাধ্য হয়, অন্য দুটি ফিরে যায়।

এক সপ্তাহ ধরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বিস্তৃত হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু শুধু সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ না থেকে সেতু, বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইরানি হামলায় কুয়েতের কিছু তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে নতুন করে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়। সে সময় দীর্ঘ সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে বিশ্ববাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ থেকে ১২৬ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়।

পরে মে-জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর ধীরে ধীরে ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতে জুলাইয়ের শুরুতে ব্রেন্টের দাম আবার ৭০ ডলারের ঘরে নেমে আসে।

তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা, জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন বিরোধ এবং সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ফলে বাজারে আবারও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Ad 300x250

সম্পর্কিত