আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৫: ৩৮
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

নতুন করে পরিদর্শনের পর আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আইসিইউ-সহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ত্রুটি সংশোধন করেছে জানিয়ে পুনরায় পরিদর্শনের আবেদন করেছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে হাসপাতাল পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। সন্তোষজনক অগ্রগতি পাওয়া গেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ছাড় দেওয়া হয়নি।’

ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসছে কি না—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ব্যবস্থা না নিলে সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হতো।

মন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে এ ঘটনায় একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত ও আইন অনুযায়ী হবে।

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যাকবলিত দেশের ১১ জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১ জেলা বন্যাকবলিত চিহ্নিত করে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি জেলার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকিতে একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, বন্যাপরবর্তী সময়ে সাপের উপদ্রব ও পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম, স্যালাইন ও বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় এ পর্যন্ত সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার এবং কেন্দ্রে ১ হাজারের বেশি অ্যান্টিভেনমের ভায়াল মজুত রয়েছে, যা আগামী ১৫ দিনে আরও ২৫ হাজার বৃদ্ধি পাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টারের ১৬২৬৩ নম্বর এবং স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের পরিস্থিতিও কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক ল্যাব ও ডায়ালাইসিস সেন্টার

সোমবার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের 'স্প্ল্যাশ' কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব স্থাপন করা হবে।

'স্প্ল্যাশ' কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সংগৃহীত ছবি
'স্প্ল্যাশ' কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সংগৃহীত ছবি

এ লক্ষ্যে চলতি মাসেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করা হবে। পাশাপাশি কিডনি রোগীদের সুবিধার্থে দেশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০ শয্যার এবং জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, গ্রামীণ এলাকায় জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে মিডওয়াইফ ও কেয়ারগিভাররা বিশেষ স্ক্রিনিং যন্ত্র নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করে সেখানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, প্রেয়ার কর্নার ও আধুনিক ল্যাব চালু করা হবে।

অনুষ্ঠানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ এবং লেগো ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক আলামি উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত