এক্সপ্লেইনার
কাজী নিশাত তাবাসসুম

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই আবহাওয়া অফিস থেকে শোনা যায়—‘আগামী তিন দিনে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে’, ‘পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে’ কিংবা ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাডের সতর্কতা জারি করা হলো’ ইত্যাদি। এ বছরও এমন পূর্বাভাসের মধ্যেই চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তত সাতটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
বন্যার এই পূর্বাভাসগুলো কীভাবে তৈরি হয়? আবহাওয়াবিদরা কীভাবে আগে থেকেই বুঝতে পারেন কোথায় এবং কখন বন্যা হতে পারে?
বন্যা পূর্বাভাস কোনো অনুমাননির্ভর বিষয় নয়। এটি নদীর পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, স্যাটেলাইট তথ্য এবং গাণিতিক কম্পিউটার মডেলের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নদীর পানি কতটা বাড়তে পারে, কোন এলাকায় পানি ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং কত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে, তা আগে থেকেই অনুমান করা হয়।
এটি যে শতভাগ ঠিক হয় এমন নয়; বরং বিভিন্ন তথ্য, পরিমাপ ও কম্পিউটারভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। বন্যা পূর্বাভাস তৈরির প্রথম ধাপ হলো তথ্য সংগ্রহ। এ জন্য দেশের বিভিন্ন নদীতে পানি পরিমাপের কেন্দ্র বা গেজ স্টেশন স্থাপন করা হয়। এসব কেন্দ্র নিয়মিত নদীর পানির উচ্চতা ও প্রবাহের তথ্য সংগ্রহ করে। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, রাডার তথ্য এবং উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করা হয়।
তবে এ ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশের তথ্যই যথেষ্ট নয়। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার বড় অংশ ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনে অবস্থিত। তাই উজানের বৃষ্টি এবং নদীর পানির তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। উজানে ভারী বৃষ্টি হলে কয়েক দিন পর তার প্রভাব বাংলাদেশের নদীগুলোতে দেখা যায়।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বন্যাপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে। তাই বন্যা পূর্বাভাস এখন শুধু আবহাওয়ার তথ্য নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নির্ভুল পূর্বাভাসের পাশাপাশি দ্রুত তথ্য প্রচার, স্থানীয় পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি এবং মানুষের সচেতনতা বাড়ানো গেলে বন্যায় প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
বর্তমানে স্যাটেলাইট বন্যা পূর্বাভাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মহাকাশ থেকে তোলা ছবির মাধ্যমে মেঘের অবস্থান, বৃষ্টির পরিমাণ, নদীর বিস্তার এবং কোথায় পানি জমছে এসব তথ্য জানা যায়। যেসব এলাকায় সরাসরি পরিমাপের ব্যবস্থা নেই, সেসব স্থান সম্পর্কেও স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। ফলে পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করে তৈরি করা যায়।
কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করেও তথ্য বিশ্লেষণের কাজ করা হয়। এসব মডেলে নদীর আকার, প্রবাহ, বৃষ্টির পরিমাণ, মাটির পানি ধারণক্ষমতা এবং নদীতে আগে থেকেই থাকা পানির পরিমাণসহ নানা তথ্য যুক্ত করা হয়। সংগৃহীত তথ্য বিশেষ ধরনের হাইড্রোলজিক্যাল ও হাইড্রোডাইনামিক কম্পিউটার মডেলে যুক্ত করা হয়। এই মডেল নদীর প্রবাহ, বৃষ্টির পরিমাণ, মাটির পানি শোষণক্ষমতা, নদীর ধারণক্ষমতা এবং আগের পানির অবস্থার ভিত্তিতে হিসাব করে জানায়, আগামী ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টায় বা কয়েক দিনের মধ্যে কোথায় পানি বাড়তে পারে।
প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর জন্য পানির উচ্চতার একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে। সেটিকে বিপৎসীমা বলা হয়। যখন নদীর পানি সেই সীমা অতিক্রম করে, তখন আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে সব জায়গার বিপৎসীমা এক নয়। কোনো এলাকায় নদীর পাড় উঁচু, আবার কোথাও নিচু। তাই প্রতিটি স্টেশনের জন্য আলাদা মান নির্ধারণ করা হয়। যেমন কোনো স্টেশনের বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৩৫ মিটার, আবার অন্য স্টেশনের ১৯ দশমিক ৫০ মিটার। এগুলো স্থানভেদে ভিন্ন।
তাই বিপৎসীমা মানেই সব জায়গায় একই ধরনের বন্যা হবে এমন নয়। স্থানীয় ভূপ্রকৃতি, নদীর তীরের উচ্চতা এবং পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতার ওপরও পরিস্থিতি নির্ভর করে।
অন্যদিকে ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড’ আবার আলাদা ব্যাপার। এখানে পূর্বাভাসে রিয়েল-টাইম তথ্য, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ এবং কম্পিউটার বিশ্লেষণ দ্রুত করতে হয়। তা না হলে বন্যা ঠেকানো দুষ্কর হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকায় হঠাৎ বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড মোকাবিলা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অল্প সময়ের মধ্যে ভারতের মেঘালয় বা আসাম অঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির প্রভাব খুব দ্রুত সুনামগঞ্জ, সিলেট ও নেত্রকোনায় পৌঁছে যায়। ফলে পূর্বাভাস দিতে দেরি হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার প্রধান দায়িত্ব পালন করে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এই প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন নদীর পানি পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিত বন্যার পূর্বাভাস প্রকাশ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়, যা বন্যা পূর্বাভাস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে সব সময় এই পূর্বাভাস শতভাগ ঠিক হয় না। কারণ প্রকৃতির আচরণ সব সময় এক থাকে না। এ ছাড়া উজানের সব তথ্য সময়মতো পাওয়া না গেলে পূর্বাভাসে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তাই পূর্বাভাস নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় এবং নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির চিত্র মানুষকে আগাম পূর্বাভাসের গুরুত্ব উপলব্ধি করিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল। লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারায়।
সে সময় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র একাধিক নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার এবং পানি বাড়ার আশঙ্কার কথা বলেছিল কিন্তু সেই তথ্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পূর্বাভাস ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম, মোবাইল বার্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর সতর্কবার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
তথ্যসূত্র: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বন্যা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই আবহাওয়া অফিস থেকে শোনা যায়—‘আগামী তিন দিনে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে’, ‘পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে’ কিংবা ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাডের সতর্কতা জারি করা হলো’ ইত্যাদি। এ বছরও এমন পূর্বাভাসের মধ্যেই চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তত সাতটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
বন্যার এই পূর্বাভাসগুলো কীভাবে তৈরি হয়? আবহাওয়াবিদরা কীভাবে আগে থেকেই বুঝতে পারেন কোথায় এবং কখন বন্যা হতে পারে?
বন্যা পূর্বাভাস কোনো অনুমাননির্ভর বিষয় নয়। এটি নদীর পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, স্যাটেলাইট তথ্য এবং গাণিতিক কম্পিউটার মডেলের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নদীর পানি কতটা বাড়তে পারে, কোন এলাকায় পানি ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং কত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে, তা আগে থেকেই অনুমান করা হয়।
এটি যে শতভাগ ঠিক হয় এমন নয়; বরং বিভিন্ন তথ্য, পরিমাপ ও কম্পিউটারভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। বন্যা পূর্বাভাস তৈরির প্রথম ধাপ হলো তথ্য সংগ্রহ। এ জন্য দেশের বিভিন্ন নদীতে পানি পরিমাপের কেন্দ্র বা গেজ স্টেশন স্থাপন করা হয়। এসব কেন্দ্র নিয়মিত নদীর পানির উচ্চতা ও প্রবাহের তথ্য সংগ্রহ করে। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, রাডার তথ্য এবং উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করা হয়।
তবে এ ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশের তথ্যই যথেষ্ট নয়। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার বড় অংশ ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনে অবস্থিত। তাই উজানের বৃষ্টি এবং নদীর পানির তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। উজানে ভারী বৃষ্টি হলে কয়েক দিন পর তার প্রভাব বাংলাদেশের নদীগুলোতে দেখা যায়।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বন্যাপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে। তাই বন্যা পূর্বাভাস এখন শুধু আবহাওয়ার তথ্য নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নির্ভুল পূর্বাভাসের পাশাপাশি দ্রুত তথ্য প্রচার, স্থানীয় পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি এবং মানুষের সচেতনতা বাড়ানো গেলে বন্যায় প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
বর্তমানে স্যাটেলাইট বন্যা পূর্বাভাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মহাকাশ থেকে তোলা ছবির মাধ্যমে মেঘের অবস্থান, বৃষ্টির পরিমাণ, নদীর বিস্তার এবং কোথায় পানি জমছে এসব তথ্য জানা যায়। যেসব এলাকায় সরাসরি পরিমাপের ব্যবস্থা নেই, সেসব স্থান সম্পর্কেও স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। ফলে পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করে তৈরি করা যায়।
কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করেও তথ্য বিশ্লেষণের কাজ করা হয়। এসব মডেলে নদীর আকার, প্রবাহ, বৃষ্টির পরিমাণ, মাটির পানি ধারণক্ষমতা এবং নদীতে আগে থেকেই থাকা পানির পরিমাণসহ নানা তথ্য যুক্ত করা হয়। সংগৃহীত তথ্য বিশেষ ধরনের হাইড্রোলজিক্যাল ও হাইড্রোডাইনামিক কম্পিউটার মডেলে যুক্ত করা হয়। এই মডেল নদীর প্রবাহ, বৃষ্টির পরিমাণ, মাটির পানি শোষণক্ষমতা, নদীর ধারণক্ষমতা এবং আগের পানির অবস্থার ভিত্তিতে হিসাব করে জানায়, আগামী ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টায় বা কয়েক দিনের মধ্যে কোথায় পানি বাড়তে পারে।
প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর জন্য পানির উচ্চতার একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে। সেটিকে বিপৎসীমা বলা হয়। যখন নদীর পানি সেই সীমা অতিক্রম করে, তখন আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে সব জায়গার বিপৎসীমা এক নয়। কোনো এলাকায় নদীর পাড় উঁচু, আবার কোথাও নিচু। তাই প্রতিটি স্টেশনের জন্য আলাদা মান নির্ধারণ করা হয়। যেমন কোনো স্টেশনের বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৩৫ মিটার, আবার অন্য স্টেশনের ১৯ দশমিক ৫০ মিটার। এগুলো স্থানভেদে ভিন্ন।
তাই বিপৎসীমা মানেই সব জায়গায় একই ধরনের বন্যা হবে এমন নয়। স্থানীয় ভূপ্রকৃতি, নদীর তীরের উচ্চতা এবং পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতার ওপরও পরিস্থিতি নির্ভর করে।
অন্যদিকে ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড’ আবার আলাদা ব্যাপার। এখানে পূর্বাভাসে রিয়েল-টাইম তথ্য, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ এবং কম্পিউটার বিশ্লেষণ দ্রুত করতে হয়। তা না হলে বন্যা ঠেকানো দুষ্কর হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকায় হঠাৎ বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড মোকাবিলা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অল্প সময়ের মধ্যে ভারতের মেঘালয় বা আসাম অঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির প্রভাব খুব দ্রুত সুনামগঞ্জ, সিলেট ও নেত্রকোনায় পৌঁছে যায়। ফলে পূর্বাভাস দিতে দেরি হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার প্রধান দায়িত্ব পালন করে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এই প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন নদীর পানি পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিত বন্যার পূর্বাভাস প্রকাশ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়, যা বন্যা পূর্বাভাস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে সব সময় এই পূর্বাভাস শতভাগ ঠিক হয় না। কারণ প্রকৃতির আচরণ সব সময় এক থাকে না। এ ছাড়া উজানের সব তথ্য সময়মতো পাওয়া না গেলে পূর্বাভাসে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তাই পূর্বাভাস নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় এবং নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির চিত্র মানুষকে আগাম পূর্বাভাসের গুরুত্ব উপলব্ধি করিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল। লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারায়।
সে সময় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র একাধিক নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার এবং পানি বাড়ার আশঙ্কার কথা বলেছিল কিন্তু সেই তথ্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পূর্বাভাস ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম, মোবাইল বার্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর সতর্কবার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
তথ্যসূত্র: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বন্যা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা
.png)

ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ও ভারতের ঐতিহাসিক স্থাপনা তাজমহল নিয়ে নতুন এক আইনি ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কথিত আছে, সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও স্মৃতি সমাধি হিসেবে তাজমহল নির্মাণ করেছেন, তবে বিতর্ক শুরু হয়েছে তাজমহলের নিচে বা একই স্থানে আগে একটি প্রাচীন শিবমন্দির ছিল, য
১২ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি কাটছে না। বিবিএসের জনশুমারি অনুযায়ী সংখ্যা ১৭ কোটির কম, ইউএনএফপিএর প্রতিবেদনে তা প্রায় সাড়ে সতেরো কোটি। অথচ নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার হিসাবে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ কোটিতে।
১১ জুলাই ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের বোঝা হয়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
০৯ জুলাই ২০২৬
পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিল উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
০৯ জুলাই ২০২৬