কর্মশালায় বক্তারা

প্যাকেটজাত খাবারে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা কমাবে রোগের ঝুঁকি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

জিএইচএআই ও প্রজ্ঞার দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালা। ছবি: সংগৃহীত

অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে প্যাকেটজাত খাবারে সহজ ও বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা (লেবেলিং) ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) ও প্রজ্ঞা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের মিলনায়তনে এক সাংবাদিক কর্মশালায় সংগঠন দুটি এ দাবি করে।

কর্মশালায় জানানো হয়, প্যাকেটজাত খাবারের সামনের অংশে সহজ, স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) বাস্তবায়নে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমবে।

বক্তারা জানান, প্যাকেটজাত খাবারকে নিরাপদ মনে করা হলেও গবেষণা ভিন্ন কথা বলছে । ২০২৫ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্রক্রিয়াজাত খাবার খান। অথচ ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বেশিরভাগ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের খাবারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে। এছাড়া অনেক পণ্যের প্যাকেটে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট, চিনি ও লবণের তথ্য অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত।

কর্মশালায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ‘অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পর্কে ভোক্তা সচেতনতা তৈরি করতে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং ব্যবস্থার কাজ চলমান রয়েছে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার সামিনা ইসরাত বলেন, ‘এফওপিএল একটি ব্যয়-সাশ্রয়ী উদ্যোগ। এটি জনগণের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।’

বক্তারা আরও জানান, বিশ্বের ৪৪টি দেশে ইতোমধ্যে এফওপিএল ব্যবস্থা আছে এবং ১০টি দেশে আইনত বাধ্যতামূলক। এর ফলে সেসব দেশে ভোক্তাদের সচেতনতা বেড়েছে এবং উৎপাদকরা খাদ্যের গুণগত মান উন্নত করেছে।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম, জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস, আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত