সংগীত শিক্ষকের পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি হেফাজতের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ১৮
হেফাজতে ইসলামের লোগো। ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলছে, ধর্মপ্রাণ অভিভাবকদের অমতে শিক্ষার্থীদের গান-বাজনা শিখতে বাধ্য করা ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন। এর পরিবর্তে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা বলেন, ইসলামে বাদ্যযন্ত্র ও সংগীত অনুমোদিত নয়। ফলে মুসলিমপ্রধান এই দেশে ঢালাওভাবে সংগীত শিক্ষা চালু করা একটি স্পর্শকাতর ধর্মীয় ইস্যু। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তাঁরা বলেন, ‘ধর্মনির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীকে ক্লাসে গরু কোরবানির শিক্ষা দেওয়া যেমন অযৌক্তিক ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য অস্বস্তিকর, তেমনি মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য সংগীত শিক্ষা বাধ্যতামূলক করাও সমানভাবে অযৌক্তিক।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংগীত কোনো আবশ্যিক বিষয় নয়। কেউ যদি তাঁর সন্তানকে গান শেখাতে চান, তবে দেশে অনেক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু শিশুদের আদর্শ নাগরিক ও নীতিবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ধর্মীয় শিক্ষা অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের ওলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে দ্রুত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক। এতে কেবল মুসলিম নয়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদেরও নিজ নিজ ধর্মশিক্ষার অধিকার নিশ্চিত হবে।

বিবৃতিতে দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমল থেকে প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি এবং পাঠ্যবই বিতর্কের কারণে সাধারণ স্কুলগুলো অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আস্থা হারিয়েছে। এই সংকট উত্তরণে আলেম সমাজ এখন দ্বীনি শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমন্বয়ে নতুন ধারার মাদ্রাসা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে সরকারকে এ ধরনের ‘গণবিরোধী’ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত