জ্বালানি সংকট

অফিস ৯-৪টা, দোকানপাট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। সংগৃহীত ছবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে রোববার থেকে সরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা এবং দোকানপাট, বিপণিবিতান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টা থেকে ১১ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে হওয়া বৈঠকের পর সেখানে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমাদের সরবরাহ লাইন অনিরাপদ হয়ে গেছে। এতে দামে যে ওঠানামা করছে, সেটিকে মোকাবিলার জন্য ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো এক ঘণ্টা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফিস চলবে। ব্যাংকিং আওয়ার চলবে ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত, ৪টায় ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে। আর দোকানপাট, বিপণিবিতানসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।'

দোকানপাট ও বিপনিবিতান সন্ধ্যায় বন্ধের সিদ্ধান্ত শুক্রবার থেকেই কার্যকর হবে। তবে ফার্মেসি, রেস্তোরাঁ এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান ও কাঁচাবাজার খোলা রাখা যাবে।

দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কাজ করবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে রোববার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সব শ্রেণি ও সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এক ধরনের সিদ্ধান্ত না নিয়ে আলোচনা করে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

সরকারি স্কুলগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে ইলেকট্রিক বাস ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, যেসব স্কুল এ কার্যক্রমে অংশ নেবে, তারা শুল্কমুক্তভাবে বাস আনতে পারবে। বাণিজ্যিক খাতে এ সুবিধা থাকলেও সেখানে ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। তবে পুরোনো বাস নয়, শুধু নতুন বাস আনা যাবে।

এ ছাড়া সরকারি ব্যয় আগামী তিন মাস পর্যন্ত কমানো হচ্ছে। সরকারি কোনো নতুন যানবাহন, জলযান, আকাশযান, কম্পিউটার-সামগ্রী কেনা হবে না। অভ্যন্তরীণ পোশাক কারখানা ৫০ শতাংশ বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে সব প্রশিক্ষণ বন্ধ করা হয়েছে। সভা-সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

নাসিমুল গণি বলেন, 'বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ জ্বালানিখাতে যে ব্যয় হতো, সেটাও আরও ৩০ শতাংশ কমানো হবে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যয় কমানো হয়েছে। আমরা ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেব।'

বিয়ে বা উৎসবে কোনো ধরনের আলোকসজ্জাও করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের এই পদক্ষেপ কতদিন চলবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। পরিস্থিতি ও সরকারের সক্ষমতা বিবেচনায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানানো হয়েছে।

এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে তেল মজুদের খবর আসছে। সরকার মজুদদারি ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে। যুদ্ধের অস্থিরতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টাও করছে সরকার। সঙ্গে চলছে জ্বালানি সাশ্রয়ের চেষ্টা। সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নিচ্ছে সরকার।

সম্পর্কিত