লেখা:

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ও শিক্ষার্থীর হার বেড়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর নতুন জ্ঞানচর্চার সুযোগও তৈরি হয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে শিক্ষার মানহীনতা, গবেষণায় পিছিয়ে থাকা, রাজনৈতিক প্রভাব, বেকারত্ব এবং দক্ষতার অভাব—এই বিষয়গুলো উচ্চশিক্ষাকে গভীর সংকটে ফেলেছে। স্বাধীনতার পর দেশের উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই। তবে বাস্তবতা হলো—সংখ্যাগত বিস্তার সবসময় গুণগত উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেয় না।
এখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছেন। কিন্তু তাদের বড় একটি অংশই চাকরির বাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না। ফলে উচ্চশিক্ষা কেবল একটি 'সার্টিফিকেট-নির্ভর' ব্যবস্থায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় উচ্চশিক্ষার সংকটগুলো খুঁজে বের করা এবং সরকারের দায়িত্ব নির্ধারণ করা খুবই জরুরি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বারবারই শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন, রূপান্তর বা যুগোপযোগী সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন।
আমাদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম বড় সমস্যা হলো শিক্ষার মানের পার্থক্য। দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখনও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও পড়াশোনার পরিবেশ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, সেশনজট, ভবনের অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পড়াশোনা যখন শুধু পরীক্ষা ও সার্টিফিকেট নির্ভর হয়ে যায়, তখন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি ও নতুন কিছু করার ক্ষমতা কমে যায়। অথচ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে শুধু মুখস্থবিদ্যা দিয়ে কোনো জাতি টিকতে পারবে না। এ কারণেই দেশে বেকারত্ব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে না এগোলে আমরা সামনের দিকে যাওয়ার বদলে আরও পিছিয়ে পড়ব।
আবার বেসরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ল্যাব, অভিজ্ঞ শিক্ষক, লাইব্রেরি এবং গবেষণার সুযোগ নেই। এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষাকে 'ব্যবসা' হিসেবে দেখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। উচ্চশিক্ষাকে কেবল মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার না বানিয়ে একে প্রকৃত মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা জরুরি। সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে তাদের উচিত গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সাহায্য করা। টাকার অভাবে যেন কারও উচ্চশিক্ষা আটকে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়াতে গবেষণায় বেশি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাও খুব জরুরি। এসব নিশ্চিত করলেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল 'ডিগ্রি দেওয়ার কারখানা' না হয়ে দেশের উন্নয়নে সত্যিকারের ভূমিকা রাখতে পারবে।
সবচেয়ে বেশি বেকারত্বের শিকার হচ্ছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা লাখ লাখ শিক্ষার্থী। দেশের উচ্চশিক্ষায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলোতে পড়েন। তাদের একটি বড় অংশই কর্মসংস্থানের বাজারে গিয়ে চরম সংকটে পড়ছে। এর প্রধান কারণ হলো মান্ধাতার আমলের সিলেবাস। যুগের চাহিদার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। তাদের ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার অভাব রয়েছে, পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষারও ঘাটতি আছে। প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ পাস করে বের হচ্ছেন। কিন্তু শিল্পকারখানা বা অফিস-আদালতের চাহিদা অনুযায়ী তাদের দক্ষতা না থাকায় তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। ফলে আমাদের এই বিশাল তরুণ সমাজ দেশের জন্য আশীর্বাদ বা 'জনমিতিক সুবিধা' হওয়ার কথা থাকলেও, উল্টো তারা বেকারত্ব ও হতাশার বোঝায় পরিণত হচ্ছে।
গবেষণার দুর্বলতা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আরেকটি বড় সংকট। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল শক্তিই হলো গবেষণা, নতুন কিছু উদ্ভাবন এবং জ্ঞান তৈরি করা। কিন্তু আমাদের দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত টাকা বা বাজেট থাকে না। আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে লেখা প্রকাশের হারও অনেক কম। তাছাড়া যেসব গবেষণা হয়, দেশের নীতি নির্ধারণে সেগুলোর ব্যবহার খুব কমই দেখা যায়। অনেক শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব বা রাজনীতি নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত থাকেন যে, গবেষণায় সময় দিতে পারেন না।
এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন জ্ঞান তৈরির জায়গা না হয়ে শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি খুবই চিন্তার বিষয়। কারণ দেশের টেকসই উন্নয়ন ও প্রযুক্তির প্রসারের জন্য গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
উচ্চশিক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাব আমাদের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। ছাত্ররাজনীতি গণতন্ত্রের অংশ হলেও, অনেক সময় তা ক্যাম্পাসভিত্তিক সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়। ক্যাম্পাসে অশান্তি থাকলে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়। ঠিকমতো ক্লাস ও পরীক্ষা হয় না, ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে পড়েন। একইভাবে, শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিলে মেধা ও যোগ্যতার অবমূল্যায়ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি স্বাধীন জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে সেখানে দলীয় প্রভাব বন্ধ করতে হবে। এর বদলে পড়াশোনা ও গবেষণার মানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
বর্তমান সময়ের আরেকটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বাজারের মধ্যে কোনো মিল না থাকা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী পাস করে বের হচ্ছেন। কিন্তু চাকরির বাজারে যে ধরনের দক্ষতা দরকার, তাদের মধ্যে সেটির অভাব রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী বইয়ের পড়াশোনায় ভালো হলেও বাস্তব কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার বা সমস্যা সমাধানের ক্ষমতায় পিছিয়ে থাকেন। ফলে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে।
এখানে একটি অদ্ভুত বিষয় দেখা যায়—একদিকে শিল্পমালিকরা বলছেন তারা দক্ষ কর্মী পাচ্ছেন না, অন্যদিকে তরুণেরা চাকরি না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন। এর মানে হলো, আমাদের পড়াশোনার সিলেবাসের সঙ্গে বাস্তব অর্থনীতির কোনো মিল নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন শুধু ডিগ্রি দিলে চলবে না, বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে হবে।
ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধার পার্থক্য বা ডিজিটাল বৈষম্য উচ্চশিক্ষার একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। করোনা মহামারির সময় অনলাইন ক্লাসের সীমাবদ্ধতাগুলো আমাদের সামনে পরিষ্কার হয়ে ওঠে। শহরের শিক্ষার্থীরা সহজে প্রযুক্তির সুবিধা পেলেও, গ্রামের বহু শিক্ষার্থী ইন্টারনেট, ল্যাপটপ-স্মার্টফোন বা বিদ্যুতের অভাবে পিছিয়ে পড়ে। এতে শিক্ষায় বৈষম্য আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স, সাইবার নিরাপত্তা ও অটোমেশনের মতো আধুনিক বিষয়গুলোর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু আমাদের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস এখনো সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে উচ্চশিক্ষাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে।
এই বাস্তবতায় সরকারের দায়িত্ব অনেক বেশি।
প্রথমত, উচ্চশিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। উন্নত দেশগুলো তাদের জাতীয় আয়ের (জিডিপি) বড় একটি অংশ শিক্ষা ও গবেষণায় খরচ করে। আমাদের দেশেও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ না বাড়ালে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শুধু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় বানালেই হবে না, পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলোর মান বাড়াতেও বিনিয়োগ করতে হবে। ভালো ল্যাব, লাইব্রেরি, প্রযুক্তি এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ, প্রশাসনিক পদায়ন এবং শিক্ষানীতিতে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা বা স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করতে হবে ঠিকই, তবে কাজের জবাবদিহিও থাকতে হবে। দুর্নীতি, অনিয়ম ও শিক্ষাবাণিজ্য বন্ধে কড়া নজরদারি দরকার। এজন্য সমসাময়িক আইন দিয়ে স্বায়ত্তশাসনের সংরক্ষণসহ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কার্য পরিধি বাড়াতে হবে। একটি 'উচ্চশিক্ষা কমিশন' গঠন করে উচ্চশিক্ষাকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্ত করা জরুরি। ইউজিসি এবং উচ্চশিক্ষা কমিশন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কাজের রিপোর্ট দেবে। তবে তারা সরকারি শৃঙ্খলে আটকে না থেকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তৃতীয়ত, কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের তরুণরাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে না পারলে তা ভবিষ্যতে দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্পকারখানার চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে সিলেবাস বানাতে হবে। ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়াতে হবে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরি খোঁজার জন্য নয়, বরং চাকরি দেওয়ার যোগ্য করে গড়ে তোলার মতো শিক্ষাব্যবস্থা এখন জরুরি।
সবশেষে, উচ্চশিক্ষাকে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার ভাবলে চলবে না। এটি একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক ভিত্তি নির্মাণের ক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয় হলো এমন একটি জায়গা, যেখানে মানুষের স্বাধীন চিন্তা, মানবিকতা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তৈরি হয়। উচ্চশিক্ষা দুর্বল হয়ে পড়লে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাই উচ্চশিক্ষার এই সংকট দূর করা কারও একার পক্ষে সম্ভব নয়। এটি সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সমাজের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
আজ যদি আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারি, তবে আগামী প্রজন্মকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে। আর যদি আমরা দূরদর্শী পরিকল্পনা করি, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাই, তবে আমাদের উচ্চশিক্ষাই হয়ে উঠবে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
লেখক: জনস্বাস্থ্য ও সমাজনীতি বিষয়ক গবেষক; শিক্ষক ও চেয়ারম্যান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ও শিক্ষার্থীর হার বেড়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর নতুন জ্ঞানচর্চার সুযোগও তৈরি হয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে শিক্ষার মানহীনতা, গবেষণায় পিছিয়ে থাকা, রাজনৈতিক প্রভাব, বেকারত্ব এবং দক্ষতার অভাব—এই বিষয়গুলো উচ্চশিক্ষাকে গভীর সংকটে ফেলেছে। স্বাধীনতার পর দেশের উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই। তবে বাস্তবতা হলো—সংখ্যাগত বিস্তার সবসময় গুণগত উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেয় না।
এখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছেন। কিন্তু তাদের বড় একটি অংশই চাকরির বাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না। ফলে উচ্চশিক্ষা কেবল একটি 'সার্টিফিকেট-নির্ভর' ব্যবস্থায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় উচ্চশিক্ষার সংকটগুলো খুঁজে বের করা এবং সরকারের দায়িত্ব নির্ধারণ করা খুবই জরুরি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বারবারই শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন, রূপান্তর বা যুগোপযোগী সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন।
আমাদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম বড় সমস্যা হলো শিক্ষার মানের পার্থক্য। দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখনও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও পড়াশোনার পরিবেশ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, সেশনজট, ভবনের অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পড়াশোনা যখন শুধু পরীক্ষা ও সার্টিফিকেট নির্ভর হয়ে যায়, তখন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি ও নতুন কিছু করার ক্ষমতা কমে যায়। অথচ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে শুধু মুখস্থবিদ্যা দিয়ে কোনো জাতি টিকতে পারবে না। এ কারণেই দেশে বেকারত্ব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে না এগোলে আমরা সামনের দিকে যাওয়ার বদলে আরও পিছিয়ে পড়ব।
আবার বেসরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ল্যাব, অভিজ্ঞ শিক্ষক, লাইব্রেরি এবং গবেষণার সুযোগ নেই। এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষাকে 'ব্যবসা' হিসেবে দেখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। উচ্চশিক্ষাকে কেবল মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার না বানিয়ে একে প্রকৃত মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা জরুরি। সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে তাদের উচিত গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সাহায্য করা। টাকার অভাবে যেন কারও উচ্চশিক্ষা আটকে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়াতে গবেষণায় বেশি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাও খুব জরুরি। এসব নিশ্চিত করলেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল 'ডিগ্রি দেওয়ার কারখানা' না হয়ে দেশের উন্নয়নে সত্যিকারের ভূমিকা রাখতে পারবে।
সবচেয়ে বেশি বেকারত্বের শিকার হচ্ছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা লাখ লাখ শিক্ষার্থী। দেশের উচ্চশিক্ষায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলোতে পড়েন। তাদের একটি বড় অংশই কর্মসংস্থানের বাজারে গিয়ে চরম সংকটে পড়ছে। এর প্রধান কারণ হলো মান্ধাতার আমলের সিলেবাস। যুগের চাহিদার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। তাদের ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার অভাব রয়েছে, পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষারও ঘাটতি আছে। প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ পাস করে বের হচ্ছেন। কিন্তু শিল্পকারখানা বা অফিস-আদালতের চাহিদা অনুযায়ী তাদের দক্ষতা না থাকায় তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। ফলে আমাদের এই বিশাল তরুণ সমাজ দেশের জন্য আশীর্বাদ বা 'জনমিতিক সুবিধা' হওয়ার কথা থাকলেও, উল্টো তারা বেকারত্ব ও হতাশার বোঝায় পরিণত হচ্ছে।
গবেষণার দুর্বলতা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আরেকটি বড় সংকট। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল শক্তিই হলো গবেষণা, নতুন কিছু উদ্ভাবন এবং জ্ঞান তৈরি করা। কিন্তু আমাদের দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত টাকা বা বাজেট থাকে না। আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে লেখা প্রকাশের হারও অনেক কম। তাছাড়া যেসব গবেষণা হয়, দেশের নীতি নির্ধারণে সেগুলোর ব্যবহার খুব কমই দেখা যায়। অনেক শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব বা রাজনীতি নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত থাকেন যে, গবেষণায় সময় দিতে পারেন না।
এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন জ্ঞান তৈরির জায়গা না হয়ে শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি খুবই চিন্তার বিষয়। কারণ দেশের টেকসই উন্নয়ন ও প্রযুক্তির প্রসারের জন্য গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
উচ্চশিক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাব আমাদের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। ছাত্ররাজনীতি গণতন্ত্রের অংশ হলেও, অনেক সময় তা ক্যাম্পাসভিত্তিক সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়। ক্যাম্পাসে অশান্তি থাকলে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়। ঠিকমতো ক্লাস ও পরীক্ষা হয় না, ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে পড়েন। একইভাবে, শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিলে মেধা ও যোগ্যতার অবমূল্যায়ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি স্বাধীন জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে সেখানে দলীয় প্রভাব বন্ধ করতে হবে। এর বদলে পড়াশোনা ও গবেষণার মানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
বর্তমান সময়ের আরেকটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বাজারের মধ্যে কোনো মিল না থাকা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী পাস করে বের হচ্ছেন। কিন্তু চাকরির বাজারে যে ধরনের দক্ষতা দরকার, তাদের মধ্যে সেটির অভাব রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী বইয়ের পড়াশোনায় ভালো হলেও বাস্তব কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার বা সমস্যা সমাধানের ক্ষমতায় পিছিয়ে থাকেন। ফলে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে।
এখানে একটি অদ্ভুত বিষয় দেখা যায়—একদিকে শিল্পমালিকরা বলছেন তারা দক্ষ কর্মী পাচ্ছেন না, অন্যদিকে তরুণেরা চাকরি না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন। এর মানে হলো, আমাদের পড়াশোনার সিলেবাসের সঙ্গে বাস্তব অর্থনীতির কোনো মিল নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন শুধু ডিগ্রি দিলে চলবে না, বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে হবে।
ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধার পার্থক্য বা ডিজিটাল বৈষম্য উচ্চশিক্ষার একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। করোনা মহামারির সময় অনলাইন ক্লাসের সীমাবদ্ধতাগুলো আমাদের সামনে পরিষ্কার হয়ে ওঠে। শহরের শিক্ষার্থীরা সহজে প্রযুক্তির সুবিধা পেলেও, গ্রামের বহু শিক্ষার্থী ইন্টারনেট, ল্যাপটপ-স্মার্টফোন বা বিদ্যুতের অভাবে পিছিয়ে পড়ে। এতে শিক্ষায় বৈষম্য আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স, সাইবার নিরাপত্তা ও অটোমেশনের মতো আধুনিক বিষয়গুলোর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু আমাদের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস এখনো সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে উচ্চশিক্ষাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে।
এই বাস্তবতায় সরকারের দায়িত্ব অনেক বেশি।
প্রথমত, উচ্চশিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। উন্নত দেশগুলো তাদের জাতীয় আয়ের (জিডিপি) বড় একটি অংশ শিক্ষা ও গবেষণায় খরচ করে। আমাদের দেশেও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ না বাড়ালে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শুধু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় বানালেই হবে না, পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলোর মান বাড়াতেও বিনিয়োগ করতে হবে। ভালো ল্যাব, লাইব্রেরি, প্রযুক্তি এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ, প্রশাসনিক পদায়ন এবং শিক্ষানীতিতে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা বা স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করতে হবে ঠিকই, তবে কাজের জবাবদিহিও থাকতে হবে। দুর্নীতি, অনিয়ম ও শিক্ষাবাণিজ্য বন্ধে কড়া নজরদারি দরকার। এজন্য সমসাময়িক আইন দিয়ে স্বায়ত্তশাসনের সংরক্ষণসহ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কার্য পরিধি বাড়াতে হবে। একটি 'উচ্চশিক্ষা কমিশন' গঠন করে উচ্চশিক্ষাকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্ত করা জরুরি। ইউজিসি এবং উচ্চশিক্ষা কমিশন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কাজের রিপোর্ট দেবে। তবে তারা সরকারি শৃঙ্খলে আটকে না থেকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তৃতীয়ত, কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের তরুণরাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে না পারলে তা ভবিষ্যতে দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্পকারখানার চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে সিলেবাস বানাতে হবে। ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়াতে হবে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরি খোঁজার জন্য নয়, বরং চাকরি দেওয়ার যোগ্য করে গড়ে তোলার মতো শিক্ষাব্যবস্থা এখন জরুরি।
সবশেষে, উচ্চশিক্ষাকে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার ভাবলে চলবে না। এটি একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক ভিত্তি নির্মাণের ক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয় হলো এমন একটি জায়গা, যেখানে মানুষের স্বাধীন চিন্তা, মানবিকতা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তৈরি হয়। উচ্চশিক্ষা দুর্বল হয়ে পড়লে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাই উচ্চশিক্ষার এই সংকট দূর করা কারও একার পক্ষে সম্ভব নয়। এটি সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সমাজের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
আজ যদি আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারি, তবে আগামী প্রজন্মকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে। আর যদি আমরা দূরদর্শী পরিকল্পনা করি, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাই, তবে আমাদের উচ্চশিক্ষাই হয়ে উঠবে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
লেখক: জনস্বাস্থ্য ও সমাজনীতি বিষয়ক গবেষক; শিক্ষক ও চেয়ারম্যান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

কামরুদ্দীন আবসার ভাই কেবল একজন সাধারণ সংস্কৃতিকর্মী ছিলেন না; তিনি ছিলেন এদেশের গণসাংস্কৃতিক আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ মহীরুহ। একাধারে তিনি ছিলেন গণসংগীতের অসাধারণ এক কণ্ঠশিল্পী, তীক্ষ্ণ লেখনীর অধিকারী, গুণী সুরকার এবং সর্বোপরি গণসংগীতের একজন প্রকৃত ওস্তাদ।
৩ ঘণ্টা আগে
পদ্মা ব্যারেজ হয়তো আঞ্চলিক পানি সংকট মেটানোর সুযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং, এটি উপমহাদেশে একতরফা আধিপত্য বিস্তার বা অপরিকল্পিত বাঁধ বানানোর অশুভ প্রতিযোগিতাকে আরও উসকে দিতে পারে। সঠিক কোনো চুক্তির অভাব থাকায় দক্ষিণ এশিয়া এখন বাঁধ নির্মাণের এক বিপজ্জনক যুগে ঢুকছে।
৪ ঘণ্টা আগে
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে বিবেচনা করতে হবে। সন্ত্রাসীদের হাতে এমন অনেক আধুনিক অস্ত্র রয়েছে, যা আমাদের পুলিশের কাছে নেই। অপরদিকে সেনাবাহিনীর আছে লিথাল উইপেন। তাছাড়াও অত্যাধুনিক মেশিনগান আছে, যা দিয়ে অতি অল্প সময়ে অধিকসংখ্যক গুলি করা যায়।
৬ ঘণ্টা আগে
কত গরু-ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং কী পরিমাণ কোরবানি হতে পারে, সে বিষয়ে একটা ধারণা দেওয়া হয়েছিল– এবারও। কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েছে। কোরবানির চাহিদা অত বেশি কিনা, সেটাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। চাহিদা বলতে ‘কার্যকর চাহিদা’ই বুঝতে হবে।
৮ ঘণ্টা আগে