আর কোনো জঙ্গল সলিমপুর নয়

একেএম শামসুদ্দিন
একেএম শামসুদ্দিন

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ১৬: ৪০
স্ট্রিম গ্রাফিক

চট্টগ্রাম শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয়, অথচ অনেক বছর ধরে কার্যত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এক পাহাড়ি জনপদ—জঙ্গল সলিমপুর। দিনের আলো ফুরিয়ে এলে যেখানে প্রশাসনের উপস্থিতি মিলিয়ে যেত আর শুরু হতো অবৈধ অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর আধিপত্য। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এই এলাকা। জঙ্গল সলিমপুর শুধু একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা নয়; এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভূমি দখলের রাজনীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত জঙ্গল সলিমপুর মূলত কয়েক হাজার একর সরকারি খাসজমি নিয়ে গড়ে ওঠা বিস্তৃত অঞ্চল। চট্টগ্রাম শহরের কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশ, দুর্বল প্রশাসনিক উপস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে এলাকাটি ধীরে ধীরে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। সেখানে গড়ে ওঠে অবৈধ বসতি, পাহাড় কাটা, জমি দখল এবং প্লট ব্যবসার নেটওয়ার্ক। জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ তৈরি হয়েছিল, যেখানে স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো পাহারা ব্যবস্থা, এমনকি বিদ্যুৎ-পানির নিয়ন্ত্রণও পরিচালনা করত। প্রশাসন এটিকে ‘স্টেট উইদিন স্টেট’ বা রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করেছে। গত জানুয়ারিতে র‍্যাবের অভিযানের সময় সন্ত্রাসী হামলায় র‍্যাব-৭-এর এক কর্মকর্তা সেখানে নিহত হন। এরপর পরিস্থিতি জাতীয়ভাবে গুরুত্ব পায়।

প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরীর পাশেই এমন একটি এলাকা গড়ে উঠল, যেখানে বছরের পর বছর প্রশাসনের বদলে কার্যত শাসন করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী? জঙ্গল সলিমপুরের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আইনশৃঙ্খলার সংকট নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা, ভূমি দখল রাজনীতি এবং দীর্ঘদিনের অবহেলারও প্রতিচ্ছবি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মূল কারণ বা শক্তি শুধু সন্ত্রাসীদের অস্ত্র নয়; এর পেছনে রয়েছে হাজার কোটি টাকার ভূমি অর্থনীতি ও রাজনৈতিক শক্তির পৃষ্ঠপোষকতা।

গত মার্চের গোড়ার দিকে যৌথবাহিনীর অভিযানে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স ও র‍্যাবের সমন্বয়ে দুটি ক‍্যাম্প স্থাপন করা হয়। একটি জঙ্গল সলিমপুরের এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে, অপরটি আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। এ দুটি ক‍্যাম্পে তিন শতাধিক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তা সত্ত্বেও ২৪ মে গভীর রাতে আলীনগর এলাকার ক‍্যাম্প লক্ষ করে গুলিবর্ষণ ও বুলডোজার দিয়ে ক‍্যাম্পের অধিকাংশ অংশ গুঁড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। নিকটবর্তী থানা বা অন‍্য কোনো সোর্স থেকে ঘটনাস্থলে দ্রুত রিইনফোর্সমেন্ট যাতে না করতে পারে, সেজন্য পাহাড়ি রাস্তার চারটি স্থানে গভীর গর্ত করে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয় সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে জঙ্গল সলিমপুর।

গণমাধ্যমের বদৌলতে হামলার যে দৃশ‍্য দেখেছি, তা অবিশ্বাস্য। অবৈধ অস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমনভাবে নাস্তানাবুদ করতে পারে, তা ভাবাই যায় না। অথচ মার্চে যৌথবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলে সরকারের অনেক কর্তাব্যক্তিকেই গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে দেখেছিলাম।

জঙ্গল সলিমপুরে গুলির শব্দ সাময়িকভাবে থেমে গেলেও আতঙ্ক কাটেনি এখনো। যৌথবাহিনীর অভিযান শুরুর আগেই সন্ত্রাসীদের কাছে খবর চলে যাওয়ায় ওই এলাকায় সবচেয়ে সক্রিয় দুটি সন্ত্রাসী দলের কথিত নেতা ইয়াসিন ও রোকন এবং তাদের কয়েকশ’ সঙ্গী নিরাপদেই গা ঢাকা দিতে পেরেছে। কিছুসংখ্যক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হলেও তাদের দলপতিরা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় কোনো অবস্থাতেই এ অভিযানকে সফল বলা যাবে না।

অভিজ্ঞতা বলে, এমন পরিস্থিতিতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে। ২৪ মে আলীনগরে অবস্থিত ক‍্যাম্পের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলা তারই প্রমাণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রেই জানা গেছে, ইয়াসিন ও তার দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুরেই আত্মগোপনে আছে। আলীনগর জঙ্গলের গভীর অংশে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করা গেছে। আত্মগোপনের সম্ভাব্য এলাকাগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছিল। এগুলো হলো আলীনগরের গভীর জঙ্গল ছাড়াও সলিমপুরের পুরোনো পাথরখাদের দক্ষিণে পাহাড়ি জঙ্গল ও সলিমপুরের দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালের পরিত্যক্ত বস্তি এলাকা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উল্লিখিত এলাকায় সন্ত্রাসীদের অস্থায়ী আস্তানা আগেও ছিল। সাঁড়াশি অভিযানে ওই এলাকার সন্ত্রাসী আস্তানা উচ্ছেদ হলেও তাদের শীর্ষ নেতারা ধরা না পড়ায় উদ্বেগ বরাবরই ছিল। যেকোনো সময় সন্ত্রাসীরা যে ফিরে আসতে পারে; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সে আশঙ্কাও করা হয়েছিল। যদিও সে সময় পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, সন্ত্রাসীদের ফিরে আসার সুযোগ নেই। তারা বাইরে বেশিদিন পালিয়ে থাকতে পারবে না। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের অবস্থান নিশ্চিত করার জন‍্য গোয়েন্দা তৎপরতা কি সেভাবে বাড়ানো হয়েছিল? সন্ত্রাসীদের সম্ভাব‍্য আশ্রয়স্থল সম্পর্কে তথ‍্য পাওয়ার পর ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল কি? হয়ে থাকলে তাদের না পাওয়ার কারণ কি অনুসন্ধান করা হয়েছে? এ ধরনের সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তা ক‍্যাম্প স্থাপনের পর কিছু অবশ‍্য করণীয় কাজ থাকে। এমন দুর্গম এলাকায় ক‍্যাম্প স্থাপনের পর ক‍্যাম্পের প্রতিটি সদস‍্যের ওই এলাকা সম্পর্কে বিশদ ধারণা নিতে হয়। ওই অঞ্চলের প্রতিটি ক্ষুদ্র এলাকায় গমন ও নির্গমনের পথ সম্পর্কে অবগত হতে হয়। বসবাসকারী সম্পর্কে তথ‍্য সংগ্রহ করা প্রাথমিক দায়িত্ব। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করতে হয়। এ সমস্ত ব‍্যক্তির ওপর কড়া নজর রাখতে হয়। এলাকার প্রভাবশালী ব‍্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেটেড থাকতে হয়। দিনে ও রাতে ‘ডমিনেশন পেট্রোল’র মাধ‍্যমে সমস্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রভাব বিস্তার করতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এলাকায় কার্যকর গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক পরিচালনার মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। গোয়েন্দা তথ‍্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনে সমস্ত এলাকাকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে একাধিক নিরাপত্তা ক‍্যাম্প স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হয়। এতক্ষণ যেসব করণীয় উল্লেখ করেছি, তা শুধু কেতাবে থাকে না; বাস্তবেও এর প্রয়োগ ঘটাতে হয়। নইলে ওই ধরনের অবাঞ্ছিত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়।

২৪ মে নিরাপত্তা বাহিনীর ক‍্যাম্পে যে হামলা হয়েছে, তা হঠাৎ করে হয়নি! পুলিশ ও র‍্যাব সদস‍্যদের নিত‍্যদিনের কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা ছক, টহলের ধরন– অর্থাৎ ক‍্যাম্প থেকে কখন টহল দল বের হয় এবং ফিরে আসে, কোন কোন এলাকায় টহল দেওয়া হয়, ক‍্যাম্পের সেন্ট্রির পজিশন কোথায়, পর্যবেক্ষণ চৌকির অবস্থান ইত্যাদি বিস্তারিত তথ‍্য সংগ্রহ করেই সন্ত্রাসীরা হামলার পরিকল্পনা করে। এবং সন্ত্রাসীদের সোর্স নিশ্চয়ই ক‍্যাম্পের আশপাশে অবস্থান করে এ সমস্ত তথ‍্য সংগ্রহ করেছে। অথচ পুলিশ ও র‍্যাবের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তাদের চিহ্নিত করতে ব‍্যর্থ হয়েছে।

গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হিসেবে ক‍্যাম্পের আশপাশে তো অবশ্যই, এমনকি প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় তাদের স্থানীয় সোর্স থাকার কথা। প্রশ্ন হচ্ছে, পুলিশ সেই সোর্স নিয়োগ করেছিল কি? ভাবতে অবাক লাগে, ক‍্যাম্পে হামলার আগে এর আশপাশের রাস্তার চার-পাঁচটি স্থানে বেশ কিছুক্ষণ ধরে বড় বড় গর্ত খুঁড়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে; অথচ সেই তথ‍্য এই সময়ের মধ‍্যে ক‍্যাম্পে এসে পৌঁছালো না! সে সময় ক‍্যাম্পের রাত্রিকালীন টহল ছিল কোথায়? তারাই বা কী করেছে? নাকি রাতে ক‍্যাম্প থেকে কোনো টহল বের হতো না? এসব বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে কোন পর্যায়ে কাদের কী গাফিলতি ছিল, তা বের করা উচিত। কারণ দুর্বলতাগুলো যদি চিহ্নিত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে। সরকার কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে এসব গাফিলতি অনুসন্ধানে কোনো তদন্তের ব্যবস্থা হয়েছে কিনা, জানা নেই।

আশা করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা কোনো রাখঢাক না করেই সরকারের উচ্চ পর্যায়কে সেখানকার বর্তমান চিত্র তুলে ধরবেন– যাতে সরকারের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। জঙ্গল সলিমপুরের ভৌগোলিক যে অবস্থান; গভীর জঙ্গলে ভরা উঁচুনিচু এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজও নয়। পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যদের এ ধরনের প্রশিক্ষণ নেই। সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে মাঝেমধ‍্যে দু’একটি অভিযানে তারা অংশগ্রহণ করতে পারে; কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা তেমন সিদ্ধহস্ত নন।

গত তিন দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীরা যে রাজত্ব কায়েম করেছে, তা এত অল্প সময়ে নির্মূল করাও সহজ নয়। মনে রাখতে হবে, এলাকাটিতে তাদের ‘কোটি কোটি টাকার স্বার্থ’ জড়িত। সেটি তারা সহজে ছেড়ে দেবে না। গ্রাসরুট লেভেলে এখনও কিছু মানুষের ওপর তাদের প্রভাব আছে, যারা তাদের হয়ে কাজ করছে। কাজেই এদের সমূলে উৎপাটন করতে হলে চাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।

সরকার ওই অঞ্চলে জনগুরুত্বপূর্ণ যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়, তার জন‍্যও সময়ের প্রয়োজন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন‍্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এসব বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা উচিত, যেখানে সেনাবাহিনীকেও সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। সন্ত্রাস দমনে দেশ ও বিদেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে বিবেচনা করতে হবে। সন্ত্রাসীদের হাতে এমন অনেক আধুনিক অস্ত্র রয়েছে, যা আমাদের পুলিশের কাছে নেই। অপরদিকে সেনাবাহিনীর আছে লিথাল উইপেন। তাছাড়াও অত‍্যাধুনিক মেশিনগান আছে, যা দিয়ে অতি অল্প সময়ে অধিকসংখ্যক গুলি করা যায়। অতএব ‘ইন এইড অব সিভিল পাওয়ার’-এর অধীনে জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া যেতে পারে। সেনাবাহিনী নিজস্ব পরিকল্পনামাফিক নির্ধারণ করবে, পরিস্থিতি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে কতদিন সময় লাগবে। সন্ত্রাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করতে পারে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। তারপর পরিস্থিতি অনুকূলে এলে সেনাবাহিনী দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সেনানিবাসে ফিরে আসবে।

জঙ্গল সলিমপুরের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, যখন দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অঞ্চলে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়, তখন সেখানে বিকল্প ক্ষমতাকাঠামো গড়ে ওঠে। আর সেটি একসময় রাষ্ট্রের জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। জঙ্গল সলিমপুর পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন— দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক উপস্থিতি, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, পুনর্বাসন পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং স্থানীয়দের আস্থা অর্জন। আশা করি, ভবিষ্যতে দেশের কোথাও জঙ্গল সলিমপুরের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও কলাম লেখক

সম্পর্কিত