চারুকলায় বর্ষবরণের প্রস্তুতিতে ‘তুলির শেষ আঁচড়’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ২৭
চারুকলায় বাংলা বর্ষবরণ প্রস্তুতির সামগ্রী শিল্পীর তুলির আঁচড়ে হয়ে উঠছে মোহনীয়। স্ট্রিম ছবি

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ কড়া নাড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে বাংলা বর্ষবরণের মহাযজ্ঞ। শোভাযাত্রা ঘিরে বিশালাকার মোটিফ, মুখোশ ও সরা চিত্রে শেষ তুলির আঁচড় দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী শিমুল কুম্ভকার জানান, মোটিফের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রঙের কাজ।

চারুকলার বিশাল কর্মযজ্ঞের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্পনসর থাকে না। মূলত নিজস্ব অর্থায়নে করেন শিক্ষার্থীরা। শিমুলের ভাষ্যে, চারুকলা প্রাঙ্গণে বিক্রয়কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে। যেসব মুখোশ, সরা ও পেইন্টিং প্রদর্শিত হচ্ছে, সেগুলো বিক্রির টাকা দিয়ে শোভাযাত্রার বাঁশ, কাঠসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা হয়।

শিল্পীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি বর্ষবরণের বিশালাকার মোটিফ। স্ট্রিম ছবি
শিল্পীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি বর্ষবরণের বিশালাকার মোটিফ। স্ট্রিম ছবি

চারুকলার বৈশাখী আয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে নাজির হোসেনের নাম, যিনি ‘বাঘ পটুয়া’ হিসেবে পরিচিত। গত ২৫ বছর ধরে তিনি পারিশ্রমিক ছাড়াই পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রায় কাজ করছেন।

পহেলা বৈশাখে তাঁর আঁকা পটচিত্র নিয়ে শোভাযাত্রা হয়। নাজির হোসেন বলেন, আমি একটানা কাজ করে যাচ্ছি। পা ব্যথা হয়ে গেছে। তবে উৎসবের প্রতি ভালোবাসা আজও অটুট আছে। শারীরিক কষ্ট ছাপিয়ে সৃজনের আনন্দই আমাদের কাছে বড়।

চারুকলার বিক্রয় কেন্দ্রে শোভা পাচ্ছে নানাসামগ্রী। স্ট্রিম ছবি
চারুকলার বিক্রয় কেন্দ্রে শোভা পাচ্ছে নানাসামগ্রী। স্ট্রিম ছবি

চারুকলার কেন্দ্রে ছোট-বড় মুখোশ, হাতপাখা, মাটির সরা, নানা পেইন্টিং থাকলেও বিক্রি নিয়ে চিন্তিত শিক্ষার্থীরা। এক বিক্রয়কর্মী বলেন, বিক্রি কম হলে আয়োজনে প্রভাব পড়ে। উৎসবের আরও কয়েকদিন বাকি। আশা করছি, শেষ মুহূর্তে আরও বিক্রি বাড়বে।

সম্পর্কিত