স্ট্রিম প্রতিবেদক

বিচার বিভাগকে নিয়ে এত ভয় কেন- এই প্রশ্ন তুলেছেন আলোচিত বিচারক মাসদার হোসেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ এখন ন্যায়বিচারের বদলে নির্যাতনের জায়গায় পরিণত হয়েছে।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন এসব কথা বলেন। হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন এবং ‘আইন ও বিচার’ পত্রিকা আয়োজিত এই মুক্ত আলোচনায় বিচার বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত সাম্প্রতিক অধ্যাদেশ এবং বিচারিক স্বাধীনতার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন বক্তারা।
আলোচনায় মাসদার হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশের বিচার বিভাগ বিচারপ্রার্থীদের প্রতি ন্যায়বিচার ডিসচার্জ করছে না, নির্যাতন করছে। এই মুহূর্তে দেশে প্রায় ৪৭ লাখ মামলার ব্যাকলগ (জট) রয়েছে। অথচ প্রতিবেশী দেশ নেপালে কোনো ব্যাকলগ নেই। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে চিফ জাস্টিস পর্যন্ত একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে মাত্র ২ বছর সময় লাগে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে হত্যা মামলার বিচার শেষ হতে ২৫ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত লেগে যায়। সাগর-রুনী হত্যা মামলায় যেমন ১৪ বছর পার হয়ে গেছে। সময় নেওয়া হয়েছে ১২৫ বার। এটাই এ দেশের বাস্তবতা। অথচ আধুনিক বিশ্বে- ইংল্যান্ডে একটি সিভিল মামলা নিষ্পত্তি হতে ২৮ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাস লাগে।
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং বিচার বিভাগের সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে মাসদার হোসেন বলেন, ‘রুল অফ ল’ অনুযায়ী বিচারবিভাগ হলো সুপ্রিম পাওয়ার। পার্লামেন্ট আইন পাস করবে; এক্সিকিউটিভ তা কার্যকর করবে। কিন্তু এই দুই বিভাগের কারণে জনগণের অধিকার খর্ব হলে তা দেখভাল করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। আইন জনবান্ধব না হলে হাইকোর্ট সেটাকে আল্ট্রা ভায়ারস টু দ্য কনস্টিটিউশন (সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক) করে দেবে, এটি আদালতের আবশ্যিক দায়িত্ব।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন আমাদের বিচার বিভাগকে নিয়ে এত ভয়? কেন আমরা একে টুলস বানাতে চাই? কেয়ারটেকার সরকার প্রধানের প্রলোভন দেখিয়ে কেন এর চরিত্র হরণ করতে চান? ৫৪ বছর ধরে এই বিভাগের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। বিচারকের বসার জায়গা নেই। টয়লেটে যাওয়ার জায়গা নেই। অথচ পাশে ইউএনও অফিসের অট্টালিকা।’
আইনমন্ত্রীর সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করে মাসদার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী দুই দিন আগে এক রূপে ছিলেন। এখন পার্লামেন্টে গিয়ে রূপ বদলে ফেলেছেন। তিনি জজদের শোকজ করছেন। আন্ডার হোয়াট অথরিটি? সংবিধানের ১১৬ ও ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জজদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের, আইনমন্ত্রীর কোনো পাওয়ার নেই এখানে। এটি বিচার বিভাগের ওপর বেআইনি হস্তক্ষেপ।’
বিচার বিভাগে নিয়োগ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিচার সংস্কার কমিশন থেকে দক্ষ ও যোগ্যদের নিয়োগের আইন করার সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু এখন আইন বাতিল করা হচ্ছে। আমার আশঙ্কা, অচিরেই আবার সেই অযোগ্য ও রাজনৈতিক অনুসারীদের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।’
বর্তমান সরকার জুলাই আন্দোলনকারীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আছে জানিয়ে মাসদার হোসেন বলেন, জনগণ আন্দোলনমুখী; রক্ত দেওয়ার অভ্যাস তাদের আছে। আপনারা যদি সঠিক পথ হারিয়ে ফেলেন, তবে জনগণই আবার সঠিক পথে তুলে নিয়ে আসবে।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, জুলাই আন্দোলনের নেতা আরিফ সোহেল প্রমুখ।

বিচার বিভাগকে নিয়ে এত ভয় কেন- এই প্রশ্ন তুলেছেন আলোচিত বিচারক মাসদার হোসেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ এখন ন্যায়বিচারের বদলে নির্যাতনের জায়গায় পরিণত হয়েছে।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন এসব কথা বলেন। হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন এবং ‘আইন ও বিচার’ পত্রিকা আয়োজিত এই মুক্ত আলোচনায় বিচার বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত সাম্প্রতিক অধ্যাদেশ এবং বিচারিক স্বাধীনতার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন বক্তারা।
আলোচনায় মাসদার হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশের বিচার বিভাগ বিচারপ্রার্থীদের প্রতি ন্যায়বিচার ডিসচার্জ করছে না, নির্যাতন করছে। এই মুহূর্তে দেশে প্রায় ৪৭ লাখ মামলার ব্যাকলগ (জট) রয়েছে। অথচ প্রতিবেশী দেশ নেপালে কোনো ব্যাকলগ নেই। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে চিফ জাস্টিস পর্যন্ত একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে মাত্র ২ বছর সময় লাগে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে হত্যা মামলার বিচার শেষ হতে ২৫ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত লেগে যায়। সাগর-রুনী হত্যা মামলায় যেমন ১৪ বছর পার হয়ে গেছে। সময় নেওয়া হয়েছে ১২৫ বার। এটাই এ দেশের বাস্তবতা। অথচ আধুনিক বিশ্বে- ইংল্যান্ডে একটি সিভিল মামলা নিষ্পত্তি হতে ২৮ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাস লাগে।
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং বিচার বিভাগের সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে মাসদার হোসেন বলেন, ‘রুল অফ ল’ অনুযায়ী বিচারবিভাগ হলো সুপ্রিম পাওয়ার। পার্লামেন্ট আইন পাস করবে; এক্সিকিউটিভ তা কার্যকর করবে। কিন্তু এই দুই বিভাগের কারণে জনগণের অধিকার খর্ব হলে তা দেখভাল করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। আইন জনবান্ধব না হলে হাইকোর্ট সেটাকে আল্ট্রা ভায়ারস টু দ্য কনস্টিটিউশন (সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক) করে দেবে, এটি আদালতের আবশ্যিক দায়িত্ব।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন আমাদের বিচার বিভাগকে নিয়ে এত ভয়? কেন আমরা একে টুলস বানাতে চাই? কেয়ারটেকার সরকার প্রধানের প্রলোভন দেখিয়ে কেন এর চরিত্র হরণ করতে চান? ৫৪ বছর ধরে এই বিভাগের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। বিচারকের বসার জায়গা নেই। টয়লেটে যাওয়ার জায়গা নেই। অথচ পাশে ইউএনও অফিসের অট্টালিকা।’
আইনমন্ত্রীর সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করে মাসদার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী দুই দিন আগে এক রূপে ছিলেন। এখন পার্লামেন্টে গিয়ে রূপ বদলে ফেলেছেন। তিনি জজদের শোকজ করছেন। আন্ডার হোয়াট অথরিটি? সংবিধানের ১১৬ ও ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জজদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের, আইনমন্ত্রীর কোনো পাওয়ার নেই এখানে। এটি বিচার বিভাগের ওপর বেআইনি হস্তক্ষেপ।’
বিচার বিভাগে নিয়োগ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিচার সংস্কার কমিশন থেকে দক্ষ ও যোগ্যদের নিয়োগের আইন করার সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু এখন আইন বাতিল করা হচ্ছে। আমার আশঙ্কা, অচিরেই আবার সেই অযোগ্য ও রাজনৈতিক অনুসারীদের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।’
বর্তমান সরকার জুলাই আন্দোলনকারীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আছে জানিয়ে মাসদার হোসেন বলেন, জনগণ আন্দোলনমুখী; রক্ত দেওয়ার অভ্যাস তাদের আছে। আপনারা যদি সঠিক পথ হারিয়ে ফেলেন, তবে জনগণই আবার সঠিক পথে তুলে নিয়ে আসবে।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, জুলাই আন্দোলনের নেতা আরিফ সোহেল প্রমুখ।

ইরানে মার্কিন-ইসরাইল হামলার পর থেকে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে জ্বালানির ঘাটতি। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে সেই চাপে ধুঁকছে বাংলাদেশও। বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি আমদানির উৎসের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যহীনতায় আটকে আছে বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে বাংলাদেশকে নতুন উৎস খুঁজতে হবে।
৩৩ মিনিট আগে
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম।
২ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর মহাখালীর ১০০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে জাকিয়া হোসেনের মতো শত শত অভিভাবক হামে আক্রান্ত সন্তান নিয়ে লড়াই করছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) সরেজমিন হাসপাতালের ষষ্ঠতলার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯ শয্যার বিপরীতে অর্ধশতাধিক শিশুকে চিকিৎসাধীন পাওয়া যায়।
২ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় রাজধানীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকছে। এতে চালু থাকা পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। সেই লাইন শেষ হতে হতে আবার অনেক সময় তেল শেষ যাচ্ছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টার দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না অনেকে।
২ ঘণ্টা আগে