যেসব জিনিস ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ কেনা উচিত নয়

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ০০
যেসব জিনিস ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ কেনা উচিত নয়। স্ট্রিম গ্রাফিক

‘দামে কম, মানে ভালো’ জিনিস কিনতে কে না চায়? বিশেষ করে, কম টাকা খরচ করে নতুনের মতো ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ জিনিস কিনতে পারলে খুশি খুশি লাগে।

কিন্তু মনে রাখা জরুরি, সব 'ব্যবহৃত' জিনিস নিরাপদ নয়। এগুলো আপনার স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

জামাকাপড়

সেকেন্ড হ্যান্ড জামাকাপড় অনেকের কাছেই আকর্ষণীয়, কারণ কম দামে ভালো মানের বা ব্র্যান্ডের পোশাক পাওয়া যায়। তবে এসব পোশাক কেনার ক্ষেত্রে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি মাথায় রাখা জরুরি। অন্যের ব্যবহৃত কাপড়ে ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে যেতে পারে, যা খালি চোখে সবসময় বোঝা যায় না। বিশেষ করে কলার, ভেতরের অংশে এসব জীবাণু বেশি জমে থাকে। এর ফলে ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা চুলকানির সমস্যা হতে পারে।

অন্যের ব্যবহৃত কাপড়ে ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে যেতে পারে। সংগৃহীত ছবি
অন্যের ব্যবহৃত কাপড়ে ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে যেতে পারে। সংগৃহীত ছবি

এ ছাড়া অনেক সময় পুরোনো কাপড়ে ধোয়ার পরও ডিটারজেন্ট বা অন্যান্য রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থেকে যায়, যা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সেকেন্ড হ্যান্ড জামাকাপড় কিনলে অবশ্যই তা গরম পানি ও ভালো ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে এবং রোদে ভালোভাবে শুকাতে হবে। তবে অন্তর্বাস বা মোজা না কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ম্যাট্রেস বা তোশক

পুরোনো জিনিসের দোকানে বা অনলাইনে অনেক সময় সেকেন্ড হ্যান্ড ম্যাট্রেস বা তোশক বিক্রি হতে দেখা যায়। সমস্যা হলো পুরোনো ম্যাট্রেস পরিষ্কার করা বেশ কঠিন। এসব ম্যাট্রেসে অ্যালার্জেন, ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে ডাস্ট মাইট (ক্ষুদ্র একধরনের পোকা) বাসা বাঁধতে পারে।

এ ধরনের পোকা থেকে অ্যালার্জি, হাঁপানি বা চর্মরোগ হতে পারে। এ ছাড়া ছারপোকার ঝুঁকি তো আছেই। তাই ম্যাট্রেস বা তোশক সবসময় নতুন কেনাই ভালো।

ম্যাট্রেসে অ্যালার্জেন, ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে ডাস্ট মাইট (ক্ষুদ্র একধরনের পোকা) বাসা বাঁধতে পারে। সংগৃহীত ছবি
ম্যাট্রেসে অ্যালার্জেন, ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে ডাস্ট মাইট (ক্ষুদ্র একধরনের পোকা) বাসা বাঁধতে পারে। সংগৃহীত ছবি

বালিশ

বাইরে থেকে দেখতে যতই নতুনের মতো লাগুক না কেন, অন্যের ব্যবহৃত বালিশ কেনা কখনোই উচিত নয়। পুরোনো বালিশের ভেতরে ডাস্ট মাইট, ব্যবহারকারীর ঘাম বা অ্যালার্জেন থাকতে পারে। এ ছাড়া বালিশ ধুয়ে শুকানোও বেশ ঝামেলার কাজ। অ্যালার্জি বা হাঁপানি রোগীদের জন্য সেকেন্ড হ্যান্ড বালিশ বেশ ক্ষতিকর।

কুশনযুক্ত সোফা বা চেয়ার

সেকেন্ড হ্যান্ড সোফা বা চেয়ার না কেনাই ভালো। বিশেষ করে এগুলো যদি কুশনযুক্ত হয়। ম্যাট্রেস বা বালিশের মতোই কাপড়ে মোড়ানো আসবাবপত্রে ব্যাকটেরিয়া ও অ্যালার্জেনের মতো জীবাণু লুকিয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া পুরোনো সোফায় ছারপোকা বা ইঁদুরের উপদ্রবও থাকতে পারে।

সেকেন্ড হ্যান্ড সোফা বা চেয়ার না কেনাই ভালো। সংগৃহীত ছবি
সেকেন্ড হ্যান্ড সোফা বা চেয়ার না কেনাই ভালো। সংগৃহীত ছবি

প্লাস্টিকের পাত্র

পুরোনো প্লাস্টিকের পাত্রে যদি দাগ, আঁচড় বা রং ফ্যাকাশে হওয়ার লক্ষণ থাকে, তবে তা কেনা উচিত না। পাত্রের গায়ে থাকা ছোট ছোট আঁচড়ের ভেতর অনেক সময় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া (যেমন সালমোনেলা, ই. কোলাই) লুকিয়ে থাকে।

এসব জীবাণু থেকে পেটের অসুখও হতে পারে। এ ছাড়া পুরোনো প্লাস্টিক থেকে খাবারে মাইক্রোপ্লাস্টিক (প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা) মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর বদলে নতুন কাঁচের পাত্র ব্যবহার করা অনেক নিরাপদ।

খেলনা পুতুল

কেউ হয়ত সেকেন্ড হ্যান্ড পুতুল বিক্রি করছে। এই পুতুলগুলো দেখতেও হয়ত নতুনের মতো লাগছে। কিন্তু পুতুলের ভেতরে ব্যবহৃত পুরোনো তুলায় ডাস্ট মাইট ও ফাঙ্গাসের স্পোর জমে থাকে।

পুতুলের ভেতরে ব্যবহৃত পুরোনো তুলায় ডাস্ট মাইট ও ফাঙ্গাসের স্পোর জমে থাকে। সংগৃহীত ছবি
পুতুলের ভেতরে ব্যবহৃত পুরোনো তুলায় ডাস্ট মাইট ও ফাঙ্গাসের স্পোর জমে থাকে। সংগৃহীত ছবি

তবে আপনি চাইলে এগুলো গরম পানিতে (অন্তত ১৩০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ধুয়ে বা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ২৪ ঘণ্টা ডিপ ফ্রিজে রেখে জীবাণুমুক্ত করে নিতে পারেন।

এয়ার কন্ডিশনার

রুম হিটারের মতোই পুরোনো উইন্ডো এসিতে বৈদ্যুতিক ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এসির ভেতরের তারের আবরণ ফেটে যেতে পারে। এই তার থেকে শর্টসার্কিট বা আগুন লাগার ভয় থাকে। এছাড়া পুরোনো এসি বিদ্যুৎ টানে বেশি। এগুলোতে ফাঙ্গাস জমার সম্ভাবনাও থাকে।

রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি

অনেক সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্যের দোকানে পুরোনো টোস্টার, ব্লেন্ডার বা কফি মেকার পাওয়া যায়। কিন্তু এগুলো কেনার আগে সচেতন হোন! দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এর ভেতরের তারগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

সেখান থেকে বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ছাড়া বাইরে থেকে এগুলো চেক করাও সম্ভব নয়। তাই রান্নাবান্নার যন্ত্রপাতির বেলায় নতুন জিনিস কেনাই ভালো।

পুরোনো থালাবাসন, হাঁড়ি-পাতিল

অ্যান্টিক বা পুরোনো সিরামিকের থালাবাসন দেখতে সুন্দর হলেও এগুলো অনেক সময় বিষাক্ত হতে পারে। আগে পাত্রের রং বা গ্লেজ চকচকে করতে সিসা ব্যবহার করা হতো। পাত্র পুরোনো হলে বা তাতে ফাটল ধরলে সেই সিসা খাবারে মিশে যেতে পারে। সিসা মানবদেহের জন্য, বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই পুরোনো পাত্রের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারলে তা কেনা থেকে বিরত থাকাই ভালো।

সম্পর্কিত