সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল

হামে আক্রান্ত সন্তান নিয়ে অভিভাবকের লড়াই

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৩৬
রাজধানীর মহাখালীর ১০০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। স্ট্রিম ছবি

কাহিল ছোট্ট রাহানাত। কান্নার শক্তিও নাই। মাথার পাশে বসে অঝরো কাঁদছেন মা জাকিয়া হোসেন। স্ট্রিমকে তিনি বললেন, আড়াইহাজারের ক্লিনিকে নিই। ওষুধে অসুখ কমে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিট না পেয়ে মহাখালী আসি। হামের সঙ্গে ধরা পড়ে নিউমোনিয়া। সময় লাগবে বলেছেন চিকিৎসকরা। মেয়ের কষ্ট সইতে পারছি না।

রাজধানীর মহাখালীর ১০০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে জাকিয়া হোসেনের মতো শত শত অভিভাবক হামে আক্রান্ত সন্তান নিয়ে লড়াই করছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) সরেজমিন হাসপাতালের ষষ্ঠতলার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯ শয্যার বিপরীতে অর্ধশতাধিক শিশুকে চিকিৎসাধীন পাওয়া যায়। ওয়ার্ডে জায়গা দিতে না পেরে বারান্দায় বিছানা পেতে সন্তানদের নিয়ে বসে আছেন অভিভাবকরা।

ষষ্ঠতলার লিফটের দরজার সামনে থেকে পুরো বারান্দা, এমনকি ওয়ার্ডের প্রবেশের রাস্তার দুই পাশেও বিছানা। ছোট্ট ছোট্ট শরীরে চলছে স্যালাইন; কারও নাকে নল। অভিভাবকদের কেউ এসেছে নারায়ণগঞ্জ, কেউ পটুয়াখালী থেকে। সবাই সুস্থ অবস্থায় সন্তান নিয়ে বাড়ি ফেরার আশায় রয়েছেন।

লিফটের দরজার সামনে থেকে পুরো বারান্দা, এমনকি ওয়ার্ডে প্রবেশের রাস্তার দুই পাশেও শয্যা পেতে চলছে চিকিৎসা। স্ট্রিম ছবি
লিফটের দরজার সামনে থেকে পুরো বারান্দা, এমনকি ওয়ার্ডে প্রবেশের রাস্তার দুই পাশেও শয্যা পেতে চলছে চিকিৎসা। স্ট্রিম ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের বাসিন্দা আলাউদ্দিন আলী এসেছেন ৯ মাসের সন্তান মোহাম্মদকে নিয়ে। একাধিক হাসপাতাল ঘুরে শেষমেষ শয্যা পেয়েছে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। স্ট্রিমকে আলাউদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে জ্বর আসে। নবীনগর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। চার দিনেও জ্বর কমে না। ক্লিনিকে দেখাইছি, কোনো উন্নতি হয়নি। সবাই বলল, সদরে নাও। আমি আর ঝুঁকি না নিয়ে এখানে ভর্তি করেছি। হাম ও নিউমোনিয়া। আল্লাহকে ডাকছি।’

পটুয়াখালী থেকে ৯ মাস বয়সী শিশু রাফসানকে নিয়ে এসেছেন মোহাম্মদ মামুন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, গত সোমবার থেকে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসক আজকে দেইখা বললেন, অল্প নিউমোনিয়া আছে। আরও দুই সপ্তাহ থাকতে হতে পারে। প্রথমে জ্বর, পরে বমি। জ্বর তো ছাড়েই না, পরে হামে চোখ বন্ধ হয়ে গেছে।’

ছোট্ট হাতে ক্যানুলা করতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্সরা। স্ট্রিম ছবি
ছোট্ট হাতে ক্যানুলা করতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্সরা। স্ট্রিম ছবি

দিনে গড়ে অর্ধশত শিশু ভর্তি হচ্ছে জানিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এফ এ আসমা খান স্ট্রিমকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের রোগী ভর্তি হয়েছে ৩৪ জন। তাদের মধ্যে হাম শনাক্ত ১৮ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু নেই। এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হামে ২ জন মারা গেছে।

তিনি বলেন, হামের শুরুতে শিশুর জ্বর আসে। সঙ্গে কফ, নাক দিয়ে সর্দি ও চোখ লাল হয়ে যায়। উপসর্গের চার দিন পর র‌্যাশ দেখা দেয়। হাম উচ্চ সংক্রামক; হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। এজন্য শিশু জন্মের পর মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। বয়স ছয় মাস হলে সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। ইমিউনিটি ভালো থাকলে, এসব রোগে কাবু কম হবে।

সম্পর্কিত