স্থিতিশীলতা ফিরছে, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত: মার্কিন বিশেষ দূত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৩৪
শনিবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে এবং এখন বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। বাংলাদেশ সফররত এই দূত বলেছেন, এর প্রতিফলন হিসেবে বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ভ্রমণ নির্দেশিকা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, মার্কিন দূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ভ্রমণ নির্দেশিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে বার্তা যাবে– বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশনের (ডিএফসি) মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

বিষয়টি নিয়ে সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশে ডিএফসির বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে তার দেশ ইতিবাচকভাবে কাজ করবে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা শিগগিরই একটি ‘ইউএস ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ আয়োজনে আগ্রহী। তিনি নিজেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গম এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। এ নিয়ে মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, এ খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। গোর আশ্বাস দেন, বাংলাদেশে এফডিএ-র পরীক্ষামূলক কর্মকাণ্ড ফের শুরুর বিষয়ে তিনি সহায়তা করবেন।

এ ছাড়া আগামী মাসে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ দূত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাঁর আগের দিনের সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকের বেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে জানিয়ে দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। তিনি এ লক্ষ্যে আসিয়ান প্রতিবেশী দেশসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেন প্রমুখ।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত