leadT1ad

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বাউল সাধক সুনীল কর্মকারকে শেষ বিদায়

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩: ৪৪
সুনীল কর্মকারকে শেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত করে গৌরীপুরে সমাহিত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রখ্যাত বাউল সাধক সুনীল কর্মকারকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত করে গৌরীপুরে সমাহিত করা হয়েছে। গুণী এই শিল্পীর বিদায়ে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দুপুরে তাঁর মরদেহ টাউন হলের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হলে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে সন্ধ্যায় শিল্পীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়ায় তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীরজাদা শহীদুল হারুন বলেন, ‘সুনীল কর্মকার শুধু ময়মনসিংহের নয়, তিনি ছিলেন সারা বাংলাদেশের সম্পদ। দেহতত্ত্ব ও ভাবতত্ত্বের গানে তিনি ছিলেন পথিকৃৎ। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, তাঁর মতো গুণী মানুষ জীবিত অবস্থায় একুশে পদকের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’ তিনি শিল্পীর সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি ফুসফুস ও কিডনিসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ১৯৫৯ সালে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী মাত্র সাত বছর বয়স থেকে গানের সঙ্গে যুক্ত হন। ছোটবেলায় টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারালেও সংগীতকেই তিনি জীবনের পাথেয় করেন। তিনি বেহালা, দোতারা ও হারমোনিয়ামসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী ছিলেন।

মরমি কবি জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুর দেওয়া সুনীল কর্মকারের নিজস্ব গানের সংখ্যা প্রায় দুই শতাধিক। লোকসংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক লাভ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের বাউল ও লোকসংগীতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত