নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘আলো ক্লিনিকের’ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ১৫: ২৯
‘আলো ক্লিনিক’ মডেলবিষয়ক জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

নগর এলাকার শিশু, নারী ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও জোরদার করতে ‘আলো ক্লিনিক’ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আসা ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওই ক্লিনিকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার একটি হোটেলে ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলবিষয়ক জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা হবে সহজপ্রাপ্য, জবাবদিহিমূলক, জনগণমুখী এবং সহনশীল। দ্রুত নগরায়ণের ফলে শহরের ভাসমান ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে ‘আলো ক্লিনিক’ যেভাবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে, তা অনুকরণীয়।

বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে আগামী সপ্তাহে একটি আলো ক্লিনিক পরিদর্শন করবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে দায়িত্ব নেওয়া ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আলো ক্লিনিকের কার্যকর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান এমন পর্যায়ে উন্নীত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সেখানে আস্থা রাখতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার অভাবে আমরা এ দেশের একটি মানুষকেও মরতে দিতে চাই না। দেশের একদম শেষ প্রান্তের মানুষের কাছেও চিকিৎসা সহজলভ্য করতে চাই এবং আমরা তা করব।

স্বাস্থ্যখাতের চলমান উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, তৃণমূল পর্যায়ের উপজেলা হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধাপে ধাপে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হবে। একইসঙ্গে দুর্গম এলাকার রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে স্থাপিত ছয়টি আলো ক্লিনিক জাতীয় এসেনশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজের আওতায় বিনামূল্যে সমন্বিত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। এখান থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ল্যাব টেস্ট সেবা প্রদান করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছে, নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে আলো ক্লিনিক মডেলকে একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ মডেল সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি কনসেপ্ট নোট প্রস্তুত করতে ইউনিসেফকে অনুরোধও জানানো হয়েছে।

কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালাই আহমেদজাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত