প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে ‘থ্রি-আর’ নীতি বাস্তবায়ন করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ১৬: ০৮
বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়ে আনতে সরকার ‘রিডিউস, রি-ইউজ, রিসাইকেল’ (থ্রি-আর) নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু আইন বা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এ জন্য প্রয়োজন প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ ও সচেতনতা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি জৈব সার উৎপাদন, বর্জ্যের পুনঃব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং ‘থ্রি-আর’ নীতির বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সুশৃঙ্খল করতে শুধু নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে এটি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সবকিছু আইন প্রয়োগ করে করা যাবে না। আমাদের সচেতনতার মাধ্যমেই এটি করতে হবে। এ জন্য ছোট-বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।’

নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনুগ্রহ করে যেখানে-সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না। আপনার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদেরও এ বিষয়ে সচেতন করুন।’

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সড়কের একটি সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকার সময় এক তরুণকে রাস্তায় খাবারের প্যাকেট ফেলতে দেখেছি। তাকে প্যাকেটটি তুলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ পরিবর্তনে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে মানুষকে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন স্বেচ্ছায় খাল, নদী, নালা ও জলাশয় পরিষ্কার করছেন। আমি তাদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সহযোগিতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। নদী, খাল, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে না পারলে কৃষি, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই পরিবেশ সংরক্ষণকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। ছাদ বাগান, নগর বনায়ন, নদীতীর সবুজায়ন এবং ইকো-ট্যুরিজম সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

Ad 300x250

সম্পর্কিত