চট্টগ্রামে পঞ্চম দিনেও ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে টানা পঞ্চম দিনের মতো ভারী বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত। স্ট্রিম ছবি

চট্টগ্রামে টানা পঞ্চম দিনের মতো ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগরীর পাশাপাশি পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। একই সঙ্গে বেড়েছে পাহাড়ধসের ঝুঁকি।

এদিকে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত রেললাইন ডুবে থাকায় ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি নেমে গেলে লাইন পরীক্ষা করে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৪৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতকে অতি ভারী বর্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এ হিসেবে চট্টগ্রামে টানা চারদিন অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সকালে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকলেও সকাল ১০টার দিকে তা কিছুটা কমে আসে। তবে আকাশে ঘন কালো মেঘ থাকায় দিনের যেকোনো সময় আবারও ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাপাসগোলা, শুলকবহর, রহমাননগর, হামজারবাগ, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চাক্তাই, আসকার দীঘির পাড়, অক্সিজেন মোড় ও জিইসি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে হাঁটুপানি থাকায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানি জমে থাকায় নগরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় কাজেও ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। গণপরিবহনের সংখ্যাও কমে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

চট্টগ্রামে টানা পঞ্চম দিনের মতো ভারী বৃষ্টিপাতে জনদুর্ভোগ। স্ট্রিম ছবি
চট্টগ্রামে টানা পঞ্চম দিনের মতো ভারী বৃষ্টিপাতে জনদুর্ভোগ। স্ট্রিম ছবি

মুরাদপুর এলাকার গৃহিণী রোকসানা আক্তার বলেন, বাসার নিচতলায় পানি জমে আছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। বাজার করা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কাজই ব্যাহত হচ্ছে।

চকবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বলেন, পাঁচ দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে আছে। যানবাহনও কম চলছে। প্রতিদিন অফিসে যেতে অনেক সময় লাগছে, ভোগান্তিরও শেষ নেই।

বহদ্দারহাট এলাকার রিকশাচালক আবদুল কাদের বলেন, সারাদিন বৃষ্টি থাকায় যাত্রী কম। আবার অনেক সড়কে পানি জমে থাকায় রিকশা চালানোও কষ্টকর। আয়-রোজগার অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে।

এদিকে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বেড়েছে। গত তিন দিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু রয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ভোরে বান্দরবানের লামা উপজেলার মিশনপাড়ায় পাহাড়ধসে দুই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। এর আগে বুধবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে পাহাড়ধসে এক কিশোরী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা বিগত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সকালে কাতালগঞ্জ খাল এলাকা পরিদর্শনের গিয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে এই পাঁচ দিনে ৯৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড। এরপরও যে শহরে বন্যা হয় নাই, এর জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। এক ও দুই নম্বর রোডে সামান্য পানি আছেন, তাও আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা খাল, খালের জায়গা যদি আমরা ফিরিয়ে দিতে পারি, তবে বৃষ্টির পানি অনেকাংশে কমে যাবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত