শাপলা চত্বর মামলা: দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত

এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু। এই তিনজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শাপলা চত্বর মামলায় আসামি হচ্ছেন সাবেক এই মন্ত্রী ও দুই সাংবাদিক।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আগামী ১৪ মে তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে বলা হয়েছে। এদিন ট্রাইব্যুনালে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ বা হাজিরা পরোয়ানা জারির আবেদন করে প্রসিকিউশন।

শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের সময় দীপু মনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ওই দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছে বলে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করেন।’ তিনি ট্রাইব্যুনালে আরও বলেন, ‘এ ছাড়া সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করেন।’

শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের হাজির করার নির্দেশ দিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ মে দিন ধার্য করেন। এ ছাড়া বর্তমানে তদন্তাধীন এই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। শাপলা চত্বরের ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন ছয় আসামি। তাঁরা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম ও আবদুল জলিল মণ্ডল এবং একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর একটি অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে দায়ের করা ওই অভিযোগে ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর আগে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ২০ আগস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও একটি অভিযোগ জমা পড়ে। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও লেখক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ইমরান এইচ সরকারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

নারী ও শিক্ষানীতির বিরোধিতার মধ্য দিয়ে ২০১০ সালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে তারা। সেদিন সমাবেশ ঘিরে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা চলে। রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালিয়ে হেফাজতকর্মীদের শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই রাতের অভিযানে ৬১ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে তৎকালীন পুলিশের দাবি ছিল, রাতের অভিযানে কেউ মারা যাননি; দিনভর সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ছিল ১১ জন।

সম্পর্কিত