যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি: রাশেদ তিতুমীর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২০: ০৪
বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। স্ট্রিম ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় নিতেই মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

আজ বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

উপদেষ্টা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য একটাই—বাংলাদেশকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়। বিশেষ করে নতুন বাজার সৃষ্টি, সেখানে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেই বাজারে আমাদের উপস্থিতি আরও বাড়ানো।’

ওষুধ বা সুনির্দিষ্ট কোনো পণ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা অনেকগুলো পণ্য নিয়ে কথা বলেছি। বিশেষভাবে ওষুধের কথা আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আমরা চাই কৌশলগত ও বৈজ্ঞানিক বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ুক। অতীতে শিক্ষা ও কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সহায়তা করেছে, আমরা এই ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করতে চাই।’

যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি করা যাবে না—এমন আলোচনার সত্যতা জানতে চাইলে রাশেদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা একটি বিষয়ে বারবার জোর দিচ্ছি, সেটি হলো আমরা আরও আলোচনা করব এবং এমন কিছু কৌশল বের করতে চাই যার ফলে বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ হয়।’

শ্রম আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা কতগুলো কাজ করেছি যেগুলো উল্লেখযোগ্য। শ্রম আইনের সংস্কার বা আমাদের কারখানার মান উন্নয়ন একটি দৃশ্যমান অগ্রগতি। আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আমরা দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মিলেই শ্রম আইনের উন্নতি করেছি। একইভাবে আমরা মনে করি, যেহেতু আমরা একধাপ এগিয়েছি, আমাদের উদ্যোক্তারাও তাঁদের প্রাপ্য অংশ পাবেন।’

তাড়াহুড়ো করে বোয়িং বিমান কেনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চুক্তিতে অনেকগুলো বিষয় থাকে যেগুলোকে আমরা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখছি। আমরা চাই এই সম্পর্ক আরও উচ্চতায় যাক। যেকোনো রাষ্ট্র যখন আন্তর্জাতিক বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে, সেগুলোকে আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী আমাদের সম্মান করতে হবে।’

রাশেদ তিতুমীর আরও বলেন, ‘চুক্তির মধ্যে আলোচনার যে সুযোগগুলো আছে, সেগুলোর পদ্ধতি বাড়িয়ে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর আমরা জোর দিচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার; আমরা চাই সেখানে আরও পণ্যের বাজার তৈরি হোক।’

গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যে ৩০১ ধারার অধীনে বাণিজ্য তদন্ত না হওয়া ভালো, যেহেতু বাংলাদেশ ইতিমধ্যে একটি চুক্তির মধ্যে আছে। এ বিষয়ে আজ কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, এই প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা উল্লেখ করেছি যে অনেকগুলো বিষয়ে আমাদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নিজস্ব উদ্যোগে আমরা শ্রম আইনের উন্নতি ঘটিয়েছি এবং সেখানে দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে। সেই সঙ্গে আমরা বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মানবিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও অগ্রগতি চাই।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত