জমি নিয়ে বিরোধে শরণখোলায় সংঘর্ষ ও লুটপাটের অভিযোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বাগেরহাট

আটকের প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের শরণখোলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পরিবারের বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার (৫ মে) দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন—রাজাপুর গ্রামের রাজু শিকদার (২৮) ও পশ্চিম রাজৈর গ্রামের নাঈম হাওলাদার (২৫)।

এর আগে গত সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামের রবীন্দ্রনাথ ঢালীর বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার অভিযোগ পেয়ে দুজনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী আব্দুল সোবহান হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার জমির মালিকানা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঢালীর বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সকালে আব্দুল সোবহান হাওলাদার, তাঁর ছেলে এবং ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল রবীন্দ্রনাথ ঢালীর বাড়িতে হামলা চালায়।

রবীন্দ্রনাথ ঢালী অভিযোগ করেন, হামলায় তাঁর ঘরের বেড়া ও চালের টিন ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় তাঁর স্ত্রী সীমা ঢালী, মা দুলালী রানীসহ কয়েকজন প্রতিবেশী আহত হন। এ ছাড়া নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

খবর পেয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হকের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

শরণখোলা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মামুন গাজী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন বাদল বলেন, হিন্দু পরিবারটির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি যে দলেরই হোক, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল সোবহান হাওলাদার ও তাঁর ছেলে মিরাজ হাওলাদার জানান, তাঁদের কেনা জমি দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখলে রাখা হয়েছে। বর্তমান অভিযোগটি মিথ্যা এবং তাঁদের এলাকা ছাড়া করার জন্য এই পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁরা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সামিনুল হক বলেন, হামলার ঘটনায় রবিন ঢালী বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া পরিবারটির নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সাদা পোশাকে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। এছাড়া অন্য আসামি ধরতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত