বাগেরহাটে ৩ মসজিদের নামে ভুয়া বরাদ্দ, অভিযুক্ত বললেন ‘টাকা ফেরত দেব’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বাগেরহাট

মাতুব্বরবাড়ি জামে মসজিদটির নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। স্ট্রিম ছবি

বাগেরহাটে অস্তিত্বহীন তিনটি মসজিদের উন্নয়নের নামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। জেলা পরিষদের নথিতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বরাদ্দ ও টাকা উত্তোলনের প্রমাণ থাকলেও বাস্তবে মসজিদগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মাকসুদুর রহমান ওরফে মামুন বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এখন সেই অর্থ জেলা পরিষদে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে এমন জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীরঘাট এলাকায় দেখা যায়, মাতুব্বরবাড়ি জামে মসজিদটি (মাদারবুনিয়া জামে মসজিদ) দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন। এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তায় কাজ শুরু হলেও বর্তমানে তা বন্ধ। মুসল্লিরা অস্থায়ী ছাপরায় নামাজ পড়ছেন। অথচ জেলা পরিষদের নথিতে দেখা যায়, এই মসজিদের উন্নয়নের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং গত ২০ জুলাই ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। নথিতে ঢালাইয়ের ভাউচার ও কাজ সম্পন্নের ছবিও জমা দেওয়া হয়েছে।

এই মসজিদটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরিফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান ফকির জানান, তাঁরা এমন কোনো বরাদ্দের তথ্য জানেন না।

একই ইউনিয়নের দক্ষিণ মাঝিরঘাট মুন্সিবাড়ি জামে মসজিদ এবং মাধববুনিয়া জামে মসজিদের নামেও পৃথক প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এলাকায় গিয়ে ওই নামে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন মাতব্বর বলেন, এই নামে কোনো মসজিদ এখানে নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া প্রকল্প বলে মনে হচ্ছে। সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে মোরেলগঞ্জের মাকসুদুর রহমান ওরফে মামুন জড়িত। অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে মাকসুদুর রহমান মামুন বলেন, সাবেক এক সচিবের মাধ্যমে তিনি এই বরাদ্দ করিয়েছিলেন। এটি নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে দাবি করে তিনি জেলা পরিষদ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা জানান।

জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে এমন অনিয়মে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত