বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আজ

বছরে লাখো প্রাণহানির পরও অভাব কার্যকর পদক্ষেপের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

স্ট্রিম গ্রাফিক

বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ নিয়মিত তামাক ব্যবহার করে। তাদের মধ্যে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। স্টপ টোব্যাকো বাংলাদেশের এক গবেষণায় এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দেশে তামাক উৎপাদন ও ব্যবহারজনিত কারণে ২০২৪ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি হয় ৮৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এটি তামাকখাত থেকে পাওয়া রাজস্বের (৪১ হাজার কোটি) দ্বিগুণের বেশি। দেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান চারটি কারণেরও একটি তামাক।

তামাকের এসব ক্ষতিকর বিষয় তুলে ধরে দীর্ঘদিন ধরে নানা দাবি জানিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অন্যতম দাবি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর বিপুল হারে বাড়ানো। তবে বছরে বছরে সরকার সামান্য কর বাড়িয়েই সেই দায় সেরে আসছে।

এমন পরিস্থিতিতে আজ রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। তামাক ব্যবহারের নানাবিধ ক্ষতি, তামাক কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কূটকৌশল, তামাকের মহামারি রোধে সচেতনতা বাড়াতে ১৯৮৮ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য– আনমাস্কিং দ্য অ্যাপিল, কাউন্টারিং নিকোটিন অ্যান্ড টোব্যাকো অ্যাডিকশন।

শুধু মানব স্বাস্থ্য নয়, তামাক পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি করে। টোব্যাকো অ্যাটলাসের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৩১ শতাংশ বন নিধনের পেছনে সরাসরি তামাক চাষ দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল কক্সবাজার ও বান্দরবানের তিনটি উপজেলায় তামাকপাতা শুকানোর (কিউরিং) কাজে বছরে প্রায় ৮৫ হাজার টন জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১২৫টির বেশি দেশে প্রায় চার মিলিয়ন হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়, যার অধিকাংশ দেশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের। তামাক চাষে ব্যবহৃত জমির পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। বিশ্বের মোট তামাকের ১ দশমিক ৩ শতাংশ এখানেই উৎপাদিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বজুড়ে ১৩ থেকে ১৫ বছরের অন্তত ৩ কোটি ৭০ লাখ কিশোর-কিশোরী নিয়মিত তামাক ব্যবহার করে। এই তরুণদের নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডে আসক্ত করতে তামাক কোম্পানিগুলো সূক্ষ্ম কৌশল অবলম্বন করে। এর মধ্যে সুগন্ধিযুক্ত তামাকপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাকপণ্য সহজলভ্য করা, সামাজিক মাধ্যমে সেলিব্রিটিদের ব্যবহার করা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া অন্যতম। তামাকের ব্যবহার রোধে শক্তিশালী আইন ও কর পদক্ষেপের বিরোধিতাও করে থাকে কোম্পানিগুলো।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসির) গবেষণায় দেখা গেছে, ২১ বছরের আগেই যারা তামাকে আসক্ত হয়ে পড়েন, তাদের মধ্যে নিকোটিন নির্ভরতা ও আমৃত্যু তামাক ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত