শতবর্ষী ভাসমান হাটে চার ঘণ্টায় ২৫ লাখ টাকার সবজি বিকিকিনি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বাগেরহাট

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ৪১
নৌকা ও ট্রলারে সবজি বেচাকেনা। স্ট্রিম ছবি
নৌকা ও ট্রলারে সবজি বেচাকেনা। স্ট্রিম ছবি

খালের বুকে নোঙর নৌকা। তাতে সাজানো হরেক সবজি। সেখানেই চলে দরদাম ও বিক্রি।বাগেরহাটের কচুয়ার গজালিয়া ইউনিয়নে শতবর্ষী এই ভাসমান হাটে ভোর থেকে চার ঘণ্টায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সবজি বেচাকেনা হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সবমিলে মৌসুমে লেনদেন হয় ৪ কোটি টাকার বেশি।

সপ্তাহের রোব ও বুধবার গজালিয়া খালের ওপর বসে এই হাট। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত সবজি বিক্রির অন্যতম বড় কেন্দ্র এটি। বাগেরহাটের পাশাপাশি বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন সবজি কিনতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরে গজালিয়া খালে জমে ওঠে ব্যস্ততা। আশপাশের গ্রামের কৃষকেরা নিজেদের জমিতে উৎপাদিত সবজি নৌকায় করে নিয়ে আসেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খালে নৌকাও বাড়তে থাকে। খালের দুই পাড়ে নৌকা ভিড়িয়ে শুরু হয় সবজি কেনাবেচা।

কৃষকেরা জানান, এই হাটে সরাসরি পাইকারদের কাছে সবজি বিক্রি করতে পারায় তাঁরা উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম পান। একইসঙ্গে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাওয়ায় সবজি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

পিরোজপুরের ব্যবসায়ী সালাম হালাদার জানান, গজালিয়ার হাটে একসঙ্গে নানা ধরনের টাটকা সবজি পাওয়া যায়। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি সবজি কেনা যায় বলে এখানে তুলনামূলক কম দামে সবজি সংগ্রহ করা সম্ভব। পরে এসব সবজি পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে বিক্রি করেন তাঁরা।

ভাসমান হাটে সপ্তাহে দুদিন ক্ষেতের টাটকা সবজি বিক্রির সুযোগ পান চাষিরা। স্ট্রিম ছবি
ভাসমান হাটে সপ্তাহে দুদিন ক্ষেতের টাটকা সবজি বিক্রির সুযোগ পান চাষিরা। স্ট্রিম ছবি

বরিশালের ব্যবসায়ী সুলতান শেখ জানান, এই হাটে নিয়মিত কৃষকেরা সবজি নিয়ে আসেন। ফলে অন্য হাটের তুলনায় এখান থেকে একসঙ্গে অনেক সবজি কেনা যায়। ভোরে শুরু হওয়া বেচাকেনা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জমে ওঠে। যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হলে এই হাটে ব্যবসার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, শত বছরের বেশি সময় ধরে গজালিয়া খালে এই ভাসমান হাট বসছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় কৃষকেরা এখানে নিজেদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে আসছেন। কৃষকদের কাছ থেকে কেনা এসব সবজি নৌকা ও ট্রলারে করে দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে নিয়ে যান পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় কৃষক রাজ্জাক মোল্লা বলেন, ‘আমরা নিজেদের জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করি। হাটের দিন নৌকায় করে এসব সবজি নিয়ে আসি। এখানে পাইকারেরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কিনে নেন। এতে আমাদের উৎপাদিত সবজি দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় এবং পরিবহন খরচও কম লাগে। এই হাট না থাকলে দূরের বাজারে গিয়ে সবজি বিক্রি করতে আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাটটি অনেক পুরোনো। এখানে নিয়মিত অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী আসেন। কিন্তু হাটে আসার রাস্তা ভালো নয়। নৌকা ও ট্রলার বাঁধার জন্যও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, নৌকা ও ট্রলার নোঙরের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি, সড়ক সংস্কার, পণ্য ওঠানামার সুবিধা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হলে এই হাটের বেচাকেনা আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে।

কৃষকদের কাছ থেকে এসব সবজি নৌকা ও ট্রলারে বিভিন্ন এলাকার বাজারে নিয়ে যান পাইকাররা। স্ট্রিম ছবি
কৃষকদের কাছ থেকে এসব সবজি নৌকা ও ট্রলারে বিভিন্ন এলাকার বাজারে নিয়ে যান পাইকাররা। স্ট্রিম ছবি

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোতাহার হোসেন জানান, স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে হাটটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত সবজি দ্রুত পাইকারদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে। এতে কৃষকেরা সহজে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। একইসঙ্গে ভোক্তারাও দ্রুত তাজা সবজি পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, হাটটির অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং সবজি বাজারজাতকরণব্যবস্থা আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত