leadT1ad

পদোন্নতি ইস্যুতে রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের একাংশের মানববন্ধন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ২২
মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। স্ট্রিম ছবি

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকে নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ রাখার অভিযোগ তুলেছে ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ‘। সুপারনিউমারারি (অতিরিক্ত সংখ্যা) পদোন্নতি সমন্বয়ের অজুহাতে নিয়মিত পদোন্নতি আটকে রাখা ‘অযৌক্তিক’ দাবি করে অবিলম্বে ২০২৪ সালের নিয়মিত পদোন্নতি চালু ও ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন অরগানোগ্রাম অনুমোদনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তা নাহলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে কর্মকর্তারা এসব দাবি জানান। সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছয় দফা দাবি পেশ করেন।

কর্মকর্তারা জানান, গত ১৪ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এক স্মারকে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি সমন্বয় বা নিয়মিতকরণ ছাড়া কোনো নিয়মিত পদোন্নতি না দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোতে নিয়মিত পদোন্নতি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

মানববন্ধনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রথম দাবি হলো, ২০২৪ ভিত্তিক পদোন্নতি ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে কার্যকর করতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ১৪ অক্টোবরের স্মারকের কারণে নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। আমরা চাই, সুপারনিউমারারি পদ একদফায় সমন্বয় না করে অরগানোগ্রাম পাসের পর তিন ধাপে সমন্বয় করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জারি করা পদোন্নতি নীতিমালা বৈষম্যমূলক। ২০২৪ সালের পদোন্নতি ২০২৫ সালের নীতিমালা দিয়ে কার্যকর করা যাবে না এটি নিজ নিজ ব্যাংকের আগের নীতিমালা অনুযায়ী হতে হবে। পেছনের তারিখ (ব্যাকডেট) থেকে নীতিমালা কার্যকর করা অন্যায়। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদন ও দাবি মানা না হলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক আহ্বায়ক কমিটির পক্ষে ব্যাংক কর্মকর্তা এ কে মাকসুদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আজকের কর্মসূচির মূল বক্তব্য হলো—২০২৪ সালের পদোন্নতি কেন বন্ধ রাখা হয়েছে? গত বছর যে সুপারনিউমারারি পদ দেওয়া হয়েছিল, তা যেন আত্তীকরণ করা না হয়। মন্ত্রণালয়ে এক বছর ধরে পড়ে থাকা অর্গানোগ্রাম দ্রুত পাস করতে হবে এবং ব্যাংকগুলোর পর্ষদকে চূড়ান্ত ক্ষমতা দিতে হবে।’

পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা ও বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা নূরে আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে কোনো পদোন্নতির বিরুদ্ধে নই। আমরা চাচ্ছি, নতুন অর্গানোগ্রাম যেন ধাপে ধাপে তিন বছরে বাস্তবায়ন করা হয়। আমাদের সোনালী ব্যাংকসহ অন্য তিনটি ব্যাংকে দেখা যায়, অনেকে ১৩-১৪ বছরেও পদোন্নতি পাননি। অথচ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯ বছরে তিনটি পদোন্নতিও হয়েছে। ৫ আগস্টের পর সত্যিকার অর্থে যে বৈষম্য নিরসন হওয়ার কথা, তার প্রতিফলন আসলে হয়নি।’

রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা মেজবাহ বলেন, ‘এখন ২০২৬ সাল চলছে। আমাদের দাবি, ২০২৪ ভিত্তিক পদোন্নতি চালু করতে হবে। বিদ্যমান নীতিমালার আলোকেই আমরা এই পদোন্নতি চাচ্ছি। সুপারনিউমারারি আত্তীকরণের বিষয়টি যেন সমন্বয় করা না হয়। আমরা নিয়মিত পদোন্নতি চাই।’

সোনালী ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল মামুন বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি হলো, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ ভিত্তিক যে পদোন্নতি দেওয়ার কথা ছিল তা ২০২৫ সালে দেওয়া হয়নি। সুপারনিউমারারি আত্তীকরণসহ নানা অজুহাতে আমাদের সেই পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। আমরা চাই, নতুন অরগানোগ্রামের মাধ্যমে পদসংখ্যা বাড়িয়ে দ্রুত এই পদোন্নতি দেওয়া হোক এবং তা ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে কার্যকর করা হোক।’

আর্থিক খাতে অস্থিরতার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য নিরসন হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি অরগানোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করায় নিয়মিত পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা নিই না, বরং আয়ের ৫১ শতাংশ কোষাগারে জমা দিই। অথচ ব্যাংকের পর্ষদ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। মনে রাখতে হবে, পদোন্নতি হলো একধরনের প্রণোদনা। আর্থিক খাতে অস্থিরতা থাকলে সারা দেশেই অস্থিরতা তৈরি হবে।’

মানববন্ধনে উত্থাপিত কর্মকর্তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—সুপারনিউমারারি সমন্বয়ের অজুহাতে নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ না রাখা; ২০২৪ সালের পদোন্নতি ২০২৪ সালের প্রত্যেক ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালায় প্রদান; নতুন অরগানোগ্রাম অনুমোদনের পর তিন ধাপে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি আত্তীকরণ; রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা-২০২৫ সংশোধন অথবা বাংলাদেশে ব্যাংকের আদলে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা এবং পদোন্নতিবঞ্চিতদের বিশেষ ব্যবস্থায় পদোন্নতি প্রদান।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত