রাঙ্গাবালীতে চুরির অপবাদে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে মারধর, থানায় অভিযোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ১৯: ৫৩
রাঙ্গাবালীতে চুরির অপবাদে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে মারধর। সংগৃহীত ছবি

গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা দুই শিশু। ছোট ছেলেটি অঝোরে কাঁদছে। বড় শিশুর মাথার একাংশের চুল কাটা। মঙ্গলবার (৫ মে) এমন একাধিক ছবি হাতে সাংবাদিকদের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর কলাগাছিয়া চরে এই ঘটনা ঘটেছে। দোকান চুরির অপবাদে দুই শিশুকে মারধরের পর বনের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। পরে পরিবারের হস্তক্ষেপে ছাড়া পায় শিশু দুটি।

গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা শিশুরা আপন ভাই। ছবিতে দেখা যায়, ছোট ভাই জিহাদ (৫) কান্নায় ভেঙে পড়েছে। বড় ভাই শামিমের (৭) মাথার চুল এবড়োখেবড়োভাবে কাটা হয়েছে।

এর আগে গত রোববার (৩ মে) দুপুরে উপজেলার কলাগাছিয়া চরে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার (৪ মে) রাতে রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নির্যাতিত দুই শিশুর মা লাইলি বেগম। এতে অভিযুক্ত আল আমিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেনের হাওয়া গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় তোফায়েল দালালের দোকানের কর্মচারী।

শিশুদের মা লাইলি বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেরা লাকড়ি আনতে গিয়ে দোকানের পাশে একটা দড়ি পাইছে। সেই দড়ি আনতে গিয়েই ওদের চোর বানিয়ে মারধর করে, বেঁধে রাখে আর মাথা কামানো হয়েছে। আমি গিয়ে দেখি ওরা গাছে বাঁধা। আমাকে দেখে ওরা কান্নাকাটি করে। আমি বিষয়টি জানতে চাইলে আল আমিন বলে— চুরি করছে, তাই শাস্তি দিছি।’

শিশুদের বাবা স্বপন দালাল বলেন, ‘চুরির অপবাদ দিয়ে দুই শিশুকে মারধর করা হয়েছে। গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। একজনের মাথার চুলও কাটা হয়েছে। এসব জিজ্ঞেস করতে গেলে উল্টো হুমকি-ধমকিও দেয় আল আমিন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আল আমিনের মোবাইল ফোনে মঙ্গলবার দুপুরে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি এলাকায় নেই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে দোকান মালিক তোফায়েল দালাল দাবি করেন, এই দুই শিশু আগের দিনও তাঁর দোকানে তালা ভেঙে চুরি করেছে। বিষয়টি তখন স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়।

তোফায়েল দালাল বলেন, ‘রোববার তারা রড দিয়ে তালা ভেঙে দোকানে ঢুকেছে, সেটা স্থানীয় জেলেরা আমাকে জানায়। আমি ফোন করে আল আমিনকে সেখানে পাঠাই। আল আমিন ওদের গাছে বেঁধে রাখছে। কিন্তু কোনো মারধর করেনি, মাথায় কামানোর বিষয়টিও সঠিক না।’

রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সি বলেন, দুই শিশুকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত