ফারুক হোসাইন

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের উৎপাদন এখনো শুরু হয়নি। এরই মধ্যে আরও দুই ইউনিট স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বাপশক)।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাপশকের আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা– সংক্রান্ত নথিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সবুজ শক্তির (গ্রিন এনার্জি) প্রসারে রূপপুরের সক্ষমতা দ্বিগুণ করা দরকার।
২০১৩ সালের ২ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজ উদ্বোধন হয়। মূল কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কথা ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। ১ হাজার ২০০ করে এই দুটি ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া কথা। কিন্তু পারমাণবিক জ্বালানি স্থানান্তরের (ফুয়েল লোডিং) অভাবে উৎপাদন সম্ভব হয়নি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরও দুটি নতুন ইউনিট (ইউনিট-৩ ও ৪) নির্মাণের বিষয়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলে একবার আলোচনা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভকে চলমান প্রকল্পের কাজ শেষে একই স্থানে নতুন আরেকটি প্ল্যান্ট নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। রোসাটমের পক্ষ থেকেও তখন এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে বলা হয়েছিল, বিদ্যমান অবকাঠামো, কারিগরি নিরাপত্তা এবং দক্ষ জনবল কাজে লাগিয়ে নতুন ইউনিট নির্মাণ করা আর্থিক ও কৌশলগত দিক থেকে অধিক লাভজনক হবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে জানায় ‘পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করে জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’ এ বিষয়টির বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনায় বাপশক বলেছে, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সাইটে ইউনিট-৩, ইউনিট-৪ স্থাপনের নিমিত্তে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হবে।’
এই দুই ইউনিট বাড়ানো গেলে ইশতেহারের গ্রিন এনার্জি উৎস বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সরকারি ও বেসরকারি উৎপাদনের ভারসাম্য নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করে মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন ও স্মার্ট গ্রিড উন্নয়নের মাধ্যমে সিস্টেম লস কমিয়ে সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে বলেও ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘বিদ্যুতের জোগান নিয়ে বড় রোডম্যাপ আছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে আমরা কাঙ্ক্ষিত বা কতটুকু বিদ্যুৎ পেতে পারি, সে বিষয়টিও সেখানে উল্লেখ আছে। অর্থাৎ, সামনে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রগেসের সুযোগ আছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থানে আরও দুটি ইউনিট বসানোর জায়গা রেখে দেওয়া আছে। সেটি নিয়ে এগোনোর সুযোগ আছে।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, বর্তমানে যে দুটি ইউনিটের কাজ চলছে, সেটি আগে সম্পন্ন হয়ে ভালোভাবে চলুক। আমাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি হোক, অভিজ্ঞতা হোক। এরপর নতুন দুটি ইউনিট করা যেতে পারে। যেহেতু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জায়গা বারবার পাওয়া যায় না; ওইখানে সেটি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুটি রিয়্যাক্টর দিয়ে লং টার্মে সুবিধা পাওয়া যাবে না। তাই আরও দুটি লাগবে। তবে এখনই নয়, আরও সময় নিতে হবে; যেন নিজেদের সক্ষমতায় চালানো যায়। অর্থাৎ, এই দুটির অভিজ্ঞতা অর্জনের পর নতুন দুই ইউনিট নিয়ে চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে।
এদিকে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসে ইউনিট-১-এর ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ বা ফুয়েল লোডিং শুরু হওয়ার কথা। আগামী বছরের এপ্রিলে ইউনিট-২-এর ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন করা হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের জন্য প্রস্তুত। সরকার থেকে দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলেই ফুয়েল লোডিং করা হবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছর জুলাই মাসে ইউনিট-১ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এর ধারাবাহিকতায় একই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করার আশা করছে সরকার। দুটি ইউনিটের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের উৎপাদন এখনো শুরু হয়নি। এরই মধ্যে আরও দুই ইউনিট স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বাপশক)।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাপশকের আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা– সংক্রান্ত নথিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সবুজ শক্তির (গ্রিন এনার্জি) প্রসারে রূপপুরের সক্ষমতা দ্বিগুণ করা দরকার।
২০১৩ সালের ২ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজ উদ্বোধন হয়। মূল কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কথা ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। ১ হাজার ২০০ করে এই দুটি ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া কথা। কিন্তু পারমাণবিক জ্বালানি স্থানান্তরের (ফুয়েল লোডিং) অভাবে উৎপাদন সম্ভব হয়নি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরও দুটি নতুন ইউনিট (ইউনিট-৩ ও ৪) নির্মাণের বিষয়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলে একবার আলোচনা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভকে চলমান প্রকল্পের কাজ শেষে একই স্থানে নতুন আরেকটি প্ল্যান্ট নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। রোসাটমের পক্ষ থেকেও তখন এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে বলা হয়েছিল, বিদ্যমান অবকাঠামো, কারিগরি নিরাপত্তা এবং দক্ষ জনবল কাজে লাগিয়ে নতুন ইউনিট নির্মাণ করা আর্থিক ও কৌশলগত দিক থেকে অধিক লাভজনক হবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে জানায় ‘পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করে জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’ এ বিষয়টির বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনায় বাপশক বলেছে, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সাইটে ইউনিট-৩, ইউনিট-৪ স্থাপনের নিমিত্তে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হবে।’
এই দুই ইউনিট বাড়ানো গেলে ইশতেহারের গ্রিন এনার্জি উৎস বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সরকারি ও বেসরকারি উৎপাদনের ভারসাম্য নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করে মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন ও স্মার্ট গ্রিড উন্নয়নের মাধ্যমে সিস্টেম লস কমিয়ে সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে বলেও ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘বিদ্যুতের জোগান নিয়ে বড় রোডম্যাপ আছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে আমরা কাঙ্ক্ষিত বা কতটুকু বিদ্যুৎ পেতে পারি, সে বিষয়টিও সেখানে উল্লেখ আছে। অর্থাৎ, সামনে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রগেসের সুযোগ আছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থানে আরও দুটি ইউনিট বসানোর জায়গা রেখে দেওয়া আছে। সেটি নিয়ে এগোনোর সুযোগ আছে।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, বর্তমানে যে দুটি ইউনিটের কাজ চলছে, সেটি আগে সম্পন্ন হয়ে ভালোভাবে চলুক। আমাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি হোক, অভিজ্ঞতা হোক। এরপর নতুন দুটি ইউনিট করা যেতে পারে। যেহেতু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জায়গা বারবার পাওয়া যায় না; ওইখানে সেটি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুটি রিয়্যাক্টর দিয়ে লং টার্মে সুবিধা পাওয়া যাবে না। তাই আরও দুটি লাগবে। তবে এখনই নয়, আরও সময় নিতে হবে; যেন নিজেদের সক্ষমতায় চালানো যায়। অর্থাৎ, এই দুটির অভিজ্ঞতা অর্জনের পর নতুন দুই ইউনিট নিয়ে চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে।
এদিকে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসে ইউনিট-১-এর ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ বা ফুয়েল লোডিং শুরু হওয়ার কথা। আগামী বছরের এপ্রিলে ইউনিট-২-এর ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন করা হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের জন্য প্রস্তুত। সরকার থেকে দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলেই ফুয়েল লোডিং করা হবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছর জুলাই মাসে ইউনিট-১ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এর ধারাবাহিকতায় একই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করার আশা করছে সরকার। দুটি ইউনিটের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

সরকারের ফরমায়েশি রায় দিয়ে যারা বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করেছেন তাদের বিচার হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম।
১ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে গণমাধ্যম খাতের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং বেশ কয়েকটি বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানান।
২ ঘণ্টা আগে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামের পাশে পুরাতন টেনিস কোর্ট সংস্কারের সময় একটি মর্টালশেল উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে মাটি খননের সময় মর্টালশেলটি দেখতে পান শ্রমিকরা।
২ ঘণ্টা আগে
সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কারও সঙ্গে কোনো সমঝোতা করার কোনো সুযোগ নেই।
২ ঘণ্টা আগে