leadT1ad

পিজিসিবি প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ৩৩৫ কোটি টাকা

সংশোধিত প্রস্তাবে ১৯ জেলায় পিজিসিবির আওতাধীন গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনে প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। ছবি: সংগৃহীত

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন’ প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় ৩ বছর বাড়ানোর তোড়জোড় চলছে। একইসঙ্গে ৩৩৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছে।

শিগগির এই প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় উঠবে। তবে মেয়াদ বৃদ্ধির পরও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট ৭৭৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। কাজ শুরু হয় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও শেষ হয়নি কাজ। পরে এক বছর বাড়ানো হয়। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪৩ দশমিক ২২ শতাংশ; ব্যয় ৩৩১ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের মেয়াদ আরও ২ বছর ৭ মাস বৃদ্ধির সঙ্গে ৩৩৫ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত ডিপিপি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়বে এবং প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজার ১০৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়, ডলারের বিনিময় হার বাড়ার পাশাপাশি প্রকল্পের বিভিন্ন সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উপকেন্দ্রে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফর্মার প্রতিস্থাপন, নতুন ট্রান্সফর্মার স্থাপন, ক্যাপাসিটর ব্যাংক স্থাপন, ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন রিকন্ডাক্টরিং, সিঙ্গেল সার্কিট সঞ্চালন লাইন রিকন্ডাক্টরিং ও নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে।

মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সূত্র জানায়, ২৫ জেলায় পিজিসিবির আওতাধীন গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনে প্রকল্পটি পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ডিপিপির সংশোধিত প্রস্তাবে আওতা ১৯ জেলায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

প্রকল্পের কার্যপরিধি থেকে দিনাজপুরের বড়পুকুড়িয়ার দুটি ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন ও পূর্বসাদীপুর উপকেন্দ্রের ক্যাপাসিটর ব্যাংক স্থাপন বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নওগাঁয় ক্যাপাসিটর ব্যাংক স্থাপন, কুমিল্লা উপকেন্দ্রের ক্ষমতাবর্ধন কাজ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহের ভালুকা, নেত্রকোনা, নওগাঁর নিয়ামতপুর, নীলফামারীর সৈয়দপুর, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপকেন্দ্রের ক্যাপাসিটর ব্যাংক স্থাপনসহ আগারগাঁও উপকেন্দ্রের ভোল্টেজ উন্নতীকরণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সংশোধিত ডিপিপিতে ব্যয় বৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে ৩৩৫ কোটি ২ লাখ টাকা; যা মূল ডিপিপির চেয়ে ৪৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। পিইসি সভায় ব্যয় বৃদ্ধির বিস্তারিত কারণ নিয়ে আলোচনা হবে। প্রকল্পে প্রায় ৫ বছরে ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৪৩ দশমিক ২২ ও আর্থিক অগ্রগতি ৪২ দশমিক ৮১ শতাংশ– এসব বিষয়ও উঠে আসবে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ২ বছর ৭ মাসে বাকি কাজ কীভাবে হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হবে সভায়।

এর বাইরে প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যয় হ্রাস-বৃদ্ধির যৌক্তিকতা, প্রকল্প এলাকা থেকে ছয় জেলা, আট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা এলাকা বাদ দেওয়ার কারণ নিয়েও পিইসি সভায় আলোচনা হবে।

জানতে চাইলে পিজিসিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক প্রবীর চন্দ্র দত্ত স্ট্রিমকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় দুটি প্যাকেজ রয়েছে। একটি প্যাকেজের কাজ প্রায় শেষ, ৯৬ শতাংশের মতো। দরপত্র জটিলতায় আরেকটি প্যাকেজের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এই প্যাকেজে দুই ধাপে দরপত্র দিতে হবে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রস্তাবিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। শুধু মেয়াদ কিংবা ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ব্যয় বাড়ছে, এমন নয়। বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যয় বেড়েছে এবং ঠিকাদাররাও বেশি অর্থ দাবি করছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত