জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: প্রবাসী আয়ে এখনো প্রভাব নেই, তবে ঝুঁকির শঙ্কা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭: ২৩
প্রবাসী আয়ের বড় অংশই আসে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলো থেকে। প্রতীকী ছবি।

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশ জোগান দেয় এবং রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে ভূমিকা রাখে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় এই আয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশই আসে উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ থেকে।

তবে ইরান-ইসরায়েলি সংঘাত তীব্র হলেও এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বলছে, রেমিট্যান্স প্রবাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় নতুন রেকর্ড গড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার, যা এই মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে জানুয়ারিতে এসেছিল ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মার্চ ২১৫ মিলিয়ন ডলার এসেছে। এর আগে ২৬ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসেছিল ২২৯ মিলিয়ন ডলার।

প্রবাসী আয়ের বড় অংশই আসে জিসিসি বা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলো থেকে। মোট রেমিট্যান্সের ৪৬ থেকে ৫১ শতাংশ জোগান দিচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন। এর মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ১০ মাসে সৌদি আরব থেকে ৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন এবং আমিরাত থেকে ৩ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার এসেছে। বর্তমানে সৌদি আরবে ২০ থেকে ৩৫ লাখ এবং আমিরাতে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন।

গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার পর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যাতায়াত বিঘ্নিত হচ্ছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানি হামলায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইরান, লেবানন ও কাতারসহ কয়েকটি দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আটকে পড়া কর্মীদের সহায়তায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় হটলাইন (১৬১৩৫) চালু করেছে।

রেমিট্যান্স মূলত ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাঠানো হয় বলে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধের প্রভাব এতে এখনো পড়েনি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নির্মাণ ও তেল খাতে নিয়োগ কমলে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের একাংশ কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “যুদ্ধের মাত্র দুদিন হলো, তাই এখনই প্রভাব বোঝা যাচ্ছে না। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং প্রবাসীরা চাকরি হারালে রেমিট্যান্সে বড় প্রভাব পড়বে।”

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এএনএম মুনিরুজ্জামান জানান, মধ্যপ্রাচ্য প্রধান শ্রমবাজার হওয়ায় অস্থিরতা বাড়লে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ওকাপ-এর চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম বলেন, “সরকারকে এখন থেকেই শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে।”

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সংঘাতের স্থায়িত্বই নির্ধারণ করবে অর্থনীতিতে কতটা আঘাত আসবে। মাসাধিককাল যুদ্ধ চললে শ্রমবাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।”

সম্পর্কিত