রাবিতে ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগের পোস্টারিং

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাবির বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের পোস্টার। সংগৃহীত ছবি

গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পোস্টার সাঁটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

একই সঙ্গে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল রবিবার (৭ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস, বিজ্ঞান চত্বর ও ফার্স্ট সায়েন্স বিল্ডিংয়ের দেওয়ালে এসব পোস্টার দেখা যায়।

ঘটনার পর শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব পোস্টারিংয়ের ছবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, 'ধন্যবাদ জিয়া হল ছাত্রলীগ! জিয়া হল দিয়ে শেষ, আবার জিয়া হল দিয়েই শুরু হলো। মতিহার সবুজ চত্বরে আবারও ছাত্রলীগ স্বমহিমায় ফিরবে।' পরে পোস্টারিংয়ের ছবি এবং গালিবের ফেসবুক পোস্ট 'রাবি সংসদ' ও 'পরিবার' নামের দুটি ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, 'নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ রাবির বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করেছে। একই দিনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনেও কয়েকজন লীগ কর্মী স্লোগান দিয়েছে। কয়েক দিন আগে ডাকসুর সামনেও মুখ ঢেকে পোস্টারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। আমরা এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।'

রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, 'নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নামে ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানো শুধু প্রশাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ নয়, বরং শিক্ষাঙ্গনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা। শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই। আমরা এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।'

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, 'ক্যাম্পাস বর্তমানে বন্ধ। গভীর রাতে দু-একজন চোরের মতো এসে এসব কর্মকাণ্ড চালালে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না। তবে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সবসময় ক্যাম্পাসে কীভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, সেই পরিকল্পনাই করে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা রাজনৈতিকভাবেই এসবের মোকাবিলা করব। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায়।'

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, 'রাতের অন্ধকারে কে কোথায় এসে কী করে গেল, তা নিয়ে আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নই। এ ধরনের চোরাগোপ্তা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে আমরা মনে করি না। তবে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখছে। ক্যাম্পাসে যাতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।'

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত